ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিটিএমএ নেতাদের সঙ্গে জামায়াত আমিরের মতবিনিময়, সমাধানের আশ্বাস রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসিকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ আট মাস পর ইউরিয়া উৎপাদনে ফিরলো যমুনা সার কারখানা নির্ধারিত দামে এলপিজি না মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার নেছারাবাদে ১ কেজি গাঁজাসহ ডিবি পুলিশের হাতে যুবক গ্রেপ্তার পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন বেলজিয়ান বংশোদ্ভূত মার্কিন বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেন নাটোরে কালো জাদুর অপবাদ দিয়ে তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তা হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৯৩ জন ব্যাটারিতে আসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন, কয়েক মিনিটে হবে ফুল চার্জ ঢাকায় গ্রেপ্তার ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা আ.লীগ নেতা ফরিদ উদ্দিন

নাটোরে কালো জাদুর অপবাদ দিয়ে তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:১৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় কালো জাদু করার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তিন নারীকে প্রকাশ্যে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যায় পৌরসভা এলাকায় স্থানীয় ইয়ারুল সরদার ও তাঁর ভাই যুবদলকর্মী জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই নারীদের বাড়ি থেকে তুলে আনার পর মারধর করা হয়েছে এবং একটি কক্ষে আটকে রেখে জোরপূর্বক ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এই হেনস্তার দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় ভুক্তভোগী তিন নারীকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় হাঁটানো হচ্ছে এবং পেছনে উৎসুক মানুষের ভিড় জমেছে। অন্য একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত জিয়াউর রহমানের বাড়ির কক্ষে তাঁদের আটকাবস্থায় দেখা যায়, সেখানে ছাবলু নামের এক ব্যক্তি ক্যামেরার সামনে স্ট্যাম্পে সই নিচ্ছেন এবং জিয়াউর রহমান নিজে ভিডিও করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইয়ারুল সরদারের জামাতা রাতুলের সঙ্গে ভুক্তভোগী এক নারীর মেয়ের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে রাতুলের বিয়ে হয় ইয়ারুলের মেয়ে ঐশীর সঙ্গে। বিয়ের পর ঐশী অসুস্থ হয়ে পড়লে ইয়ারুলের পরিবার অভিযোগ তোলে যে, পূর্বের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে না হওয়ায় ‘কালো জাদু’ বা ‘কুফরি কালাম’ করে ঐশীকে অসুস্থ করা হয়েছে। ইয়ারুল সরদার দাবি করেন, তিনি প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে কবিরাজের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন এবং এ নিয়ে মাসখানেক আগে থানায় অভিযোগও করেছিলেন।

অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান দাবি করেন, এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নারীদের ধরে নিয়ে এসেছিল এবং তিনি এর সঙ্গে জড়িত নন। তিনি আরও বলেন, এলাকার মুরব্বিরা ভবিষ্যতে এমন কাজ করবে না মর্মে স্ট্যাম্পে মুচলেকা নিয়েছেন এবং তিনি না থাকলে নারীদের পিটুনি দেওয়া হতো। ভুক্তভোগী নারীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কোনো অভিযোগ পাননি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

নাটোরে কালো জাদুর অপবাদ দিয়ে তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তা

আপডেট সময় : ০৪:১৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় কালো জাদু করার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তিন নারীকে প্রকাশ্যে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যায় পৌরসভা এলাকায় স্থানীয় ইয়ারুল সরদার ও তাঁর ভাই যুবদলকর্মী জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই নারীদের বাড়ি থেকে তুলে আনার পর মারধর করা হয়েছে এবং একটি কক্ষে আটকে রেখে জোরপূর্বক ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এই হেনস্তার দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় ভুক্তভোগী তিন নারীকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় হাঁটানো হচ্ছে এবং পেছনে উৎসুক মানুষের ভিড় জমেছে। অন্য একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত জিয়াউর রহমানের বাড়ির কক্ষে তাঁদের আটকাবস্থায় দেখা যায়, সেখানে ছাবলু নামের এক ব্যক্তি ক্যামেরার সামনে স্ট্যাম্পে সই নিচ্ছেন এবং জিয়াউর রহমান নিজে ভিডিও করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইয়ারুল সরদারের জামাতা রাতুলের সঙ্গে ভুক্তভোগী এক নারীর মেয়ের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে রাতুলের বিয়ে হয় ইয়ারুলের মেয়ে ঐশীর সঙ্গে। বিয়ের পর ঐশী অসুস্থ হয়ে পড়লে ইয়ারুলের পরিবার অভিযোগ তোলে যে, পূর্বের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে না হওয়ায় ‘কালো জাদু’ বা ‘কুফরি কালাম’ করে ঐশীকে অসুস্থ করা হয়েছে। ইয়ারুল সরদার দাবি করেন, তিনি প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে কবিরাজের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন এবং এ নিয়ে মাসখানেক আগে থানায় অভিযোগও করেছিলেন।

অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান দাবি করেন, এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নারীদের ধরে নিয়ে এসেছিল এবং তিনি এর সঙ্গে জড়িত নন। তিনি আরও বলেন, এলাকার মুরব্বিরা ভবিষ্যতে এমন কাজ করবে না মর্মে স্ট্যাম্পে মুচলেকা নিয়েছেন এবং তিনি না থাকলে নারীদের পিটুনি দেওয়া হতো। ভুক্তভোগী নারীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কোনো অভিযোগ পাননি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo