ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে অর্থাভাবে থমকে গেছে মেধাবী শামীমের চিকিৎসা, বাবার আকুতি শ্যামনগরের চিংড়ি হ্যাচারিতে দেশের প্রথম ফোল্ডিং সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু পুঠিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান নেই, সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে মানুষ মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে জাল না ফেলার আহ্বান মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ‘হোন্ডাবাহিনীর’ রাজত্ব, আতঙ্কে যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা দুর্গাপুরে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া ও রাবিশ ব্যবহারের অভিযোগ মৃত সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ বাণিজ্য: ঝিনাইদহে তোলপাড় পানির হিস্যায় একচুলও ছাড় দেবে না বাংলাদেশ: নাহিদ ইসলাম নীলফামারীতে আশ্বিনের বৃষ্টি: আমন চাষিদের স্বস্তি, দুশ্চিন্তায় আলু ও সবজি চাষিরা মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সংকট, ঝুঁকিতে হাজারো শ্রমিক

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ‘হোন্ডাবাহিনীর’ রাজত্ব, আতঙ্কে যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:১৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যকার যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড’ এখন রাতের বেলা এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কটিতে বসানো কোটি কোটি টাকার সড়কবাতি চুরি হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর থেকেই প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের বড় একটি অংশ পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে থাকে। এই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ছিনতাইকারী ও ডাকাতদের দল, যা স্থানীয়ভাবে ‘হোন্ডাবাহিনী’ নামে পরিচিত।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাইনবোর্ড থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত এই সড়কে সড়কবাতি ও সাইন সিগন্যাল স্থাপনের পেছনে ব্যয় করা হয়েছিল প্রায় ১৬ কোটি টাকা। পুরো সড়ক জুড়ে ৭৪টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বাতি বসানো হলেও বর্তমানে ল্যাম্পপোস্টগুলো কেবল বাতিহীন কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফলে আলোহীন এই সড়কে অন্ধকার নামলেই পথচারী, পোশাক শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও দূরপাল্লার চালকদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, রাত বাড়ার সাথে সাথে এই লিংক রোডে মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীদের আনাগোনা ও তাণ্ডব বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় তারা উল্টো পথে এসে চলন্ত যানবাহন কিংবা পথচারীদের পথ রোধ করে দাঁড়ায় এবং ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। এরপর মুহূর্তের মধ্যে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। বিশেষ করে ভোরবেলা যখন স্থানীয় মাছ ও সবজি ব্যবসায়ীরা যাত্রাবাড়ী আড়তের উদ্দেশ্যে রওনা হন, তখন এই ঝুঁকি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এছাড়া দূরপাল্লার বাস থেকে নামা যাত্রীরাও নিয়মিত এই চক্রের কবলে পড়ছেন।

সম্প্রতি গত ৩ অক্টোবর ভোরে একটি চলন্ত বাসে অস্ত্রের মুখে প্রায় ২৫ জন যাত্রীর সবকিছু লুটে নেওয়ার ঘটনা এই সড়কের অপরাধের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। মহাসড়কে পুলিশের টহল ব্যবস্থা থাকলেও তা অপরাধীদের গতির সাথে টেক্কা দিতে পারছে না। ফতুল্লা মডেল থানার আওতাধীন দুটি টহল দল এই সড়কে দায়িত্ব পালন করলেও তাদের জীর্ণ ও পুরোনো যানবাহন দিয়ে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলধারী ছিনতাইকারীদের পিছু ধাওয়া করা বা ধরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাছাড়া আইনি জটিলতা ও হয়রানির ভয়ে ভুক্তভোগী যাত্রীরা থানায় অভিযোগ করতে চান না, যার কারণে অপরাধের প্রকৃত চিত্র অনেক সময়ই আড়ালে থেকে যাচ্ছে। ১৬ কোটি টাকার বাতি কেন এভাবে উধাও হলো এবং চুরির পর কেন দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি, তা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহীম জানান, সড়কটি ইতোমধ্যে সার্ভে বা জরিপ করা হয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে বাতি পুনঃস্থাপন করা হবে। তবে চুরি ঠেকাতে তিনি পুলিশের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরা সচল ও স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র নতুন বাতি লাগালেই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করতে এবং লাখো মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসানো, পর্যাপ্ত পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি করা এবং পুলিশকে দ্রুতগতির আধুনিক টহল যান সরবরাহ করা এখন সময়ের দাবি।

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫: ০৬আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫: ০৭

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ‘হোন্ডাবাহিনীর’ রাজত্ব, আতঙ্কে যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ০৫:১৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যকার যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড’ এখন রাতের বেলা এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কটিতে বসানো কোটি কোটি টাকার সড়কবাতি চুরি হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর থেকেই প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের বড় একটি অংশ পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে থাকে। এই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ছিনতাইকারী ও ডাকাতদের দল, যা স্থানীয়ভাবে ‘হোন্ডাবাহিনী’ নামে পরিচিত।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাইনবোর্ড থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত এই সড়কে সড়কবাতি ও সাইন সিগন্যাল স্থাপনের পেছনে ব্যয় করা হয়েছিল প্রায় ১৬ কোটি টাকা। পুরো সড়ক জুড়ে ৭৪টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বাতি বসানো হলেও বর্তমানে ল্যাম্পপোস্টগুলো কেবল বাতিহীন কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফলে আলোহীন এই সড়কে অন্ধকার নামলেই পথচারী, পোশাক শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও দূরপাল্লার চালকদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, রাত বাড়ার সাথে সাথে এই লিংক রোডে মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীদের আনাগোনা ও তাণ্ডব বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় তারা উল্টো পথে এসে চলন্ত যানবাহন কিংবা পথচারীদের পথ রোধ করে দাঁড়ায় এবং ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। এরপর মুহূর্তের মধ্যে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। বিশেষ করে ভোরবেলা যখন স্থানীয় মাছ ও সবজি ব্যবসায়ীরা যাত্রাবাড়ী আড়তের উদ্দেশ্যে রওনা হন, তখন এই ঝুঁকি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এছাড়া দূরপাল্লার বাস থেকে নামা যাত্রীরাও নিয়মিত এই চক্রের কবলে পড়ছেন।

সম্প্রতি গত ৩ অক্টোবর ভোরে একটি চলন্ত বাসে অস্ত্রের মুখে প্রায় ২৫ জন যাত্রীর সবকিছু লুটে নেওয়ার ঘটনা এই সড়কের অপরাধের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। মহাসড়কে পুলিশের টহল ব্যবস্থা থাকলেও তা অপরাধীদের গতির সাথে টেক্কা দিতে পারছে না। ফতুল্লা মডেল থানার আওতাধীন দুটি টহল দল এই সড়কে দায়িত্ব পালন করলেও তাদের জীর্ণ ও পুরোনো যানবাহন দিয়ে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলধারী ছিনতাইকারীদের পিছু ধাওয়া করা বা ধরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাছাড়া আইনি জটিলতা ও হয়রানির ভয়ে ভুক্তভোগী যাত্রীরা থানায় অভিযোগ করতে চান না, যার কারণে অপরাধের প্রকৃত চিত্র অনেক সময়ই আড়ালে থেকে যাচ্ছে। ১৬ কোটি টাকার বাতি কেন এভাবে উধাও হলো এবং চুরির পর কেন দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি, তা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহীম জানান, সড়কটি ইতোমধ্যে সার্ভে বা জরিপ করা হয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে বাতি পুনঃস্থাপন করা হবে। তবে চুরি ঠেকাতে তিনি পুলিশের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরা সচল ও স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র নতুন বাতি লাগালেই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করতে এবং লাখো মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসানো, পর্যাপ্ত পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি করা এবং পুলিশকে দ্রুতগতির আধুনিক টহল যান সরবরাহ করা এখন সময়ের দাবি।

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫: ০৬আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫: ০৭

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh