ঢাকা ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ‘হোন্ডাবাহিনীর’ রাজত্ব, আতঙ্কে যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা দুর্গাপুরে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া ও রাবিশ ব্যবহারের অভিযোগ মৃত সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ বাণিজ্য: ঝিনাইদহে তোলপাড় পানির হিস্যায় একচুলও ছাড় দেবে না বাংলাদেশ: নাহিদ ইসলাম নীলফামারীতে আশ্বিনের বৃষ্টি: আমন চাষিদের স্বস্তি, দুশ্চিন্তায় আলু ও সবজি চাষিরা মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সংকট, ঝুঁকিতে হাজারো শ্রমিক ঋণের ভারে জর্জরিত খুলনার সুপার জুট মিল ও সুপারেক্স লেদার নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাং দমনে ৫ দিনের অভিযানে আটক প্রায় ৫০০ ১৫ বছরের চুক্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল পেল ডিপি ওয়ার্ল্ড বরিশালে মাদকবিরোধী অভিযানে এএসআইসহ চারজন আটক

নীলফামারীতে আশ্বিনের বৃষ্টি: আমন চাষিদের স্বস্তি, দুশ্চিন্তায় আলু ও সবজি চাষিরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:২৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



টানা খরার অবসান ঘটিয়ে আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি সময়ে নীলফামারী জেলায় দেখা মিলেছে কাঙ্ক্ষিত ভারী বৃষ্টির। এই বৃষ্টিতে আমন চাষিদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটলেও চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আগাম আলু ও শীতকালীন সবজি চাষিরা। সদ্য রোপণ করা আলু ও সবজি ক্ষেতে পানি জমে ফসল পচে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের তীব্র দাবদাহ ও খরার কারণে নীলফামারীর আমন ক্ষেতগুলো পানির সংকটে পড়েছিল। এতে ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হলেও বৃহস্পতিবারের বৃষ্টি আমন চাষিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে। তবে আমন চাষিরা খুশি হলেও আলু ও সবজি চাষিদের মাঝে বিরাজ করছে উল্টো পরিস্থিতি। অসময়ের এই বৃষ্টি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আবহাওয়া দপ্তরের আবহাওয়াবিদ লোকমান হাকিম জানিয়েছেন, সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এটি দ্রুত কেটে যেতে পারে, আবার একটানা তিন থেকে চার দিন স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে নীলফামারীতে বৃষ্টি শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চার মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়রা মণ্ডল জানান, আশ্বিনের এই বৃষ্টি আমন চাষের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে এটি আগাম আলু এবং শাকসবজির জন্য কিছুটা ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ১৩ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও অতিরিক্ত ১২৫ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে।

বৃষ্টির স্থায়িত্ব নিয়ে নিজের আশঙ্কার কথা প্রকাশ করে জেলার প্রবীণ আলুচাষি এইচএম আনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘আমি এবার ১৬ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপণ করেছি। বৃষ্টি যদি অল্প সময়ের মধ্যে থেমে যায় তবে বড় কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু বৃষ্টি দীর্ঘমেয়াদি হলে বীজ আলু পচে যাবে, যার ফলে আমাকে বড় ধরনের আর্থিক লোকসান গুনতে হবে।’

প্রাকৃতিক এই বৃষ্টিতে আমন ক্ষেতে পানির সংকট দূর হলেও, এখন দ্রুত মেঘ কেটে রোদের আশায় আকাশের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন জেলার আলু ও সবজি চাষিরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

নীলফামারীতে আশ্বিনের বৃষ্টি: আমন চাষিদের স্বস্তি, দুশ্চিন্তায় আলু ও সবজি চাষিরা

আপডেট সময় : ০৪:২৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

টানা খরার অবসান ঘটিয়ে আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি সময়ে নীলফামারী জেলায় দেখা মিলেছে কাঙ্ক্ষিত ভারী বৃষ্টির। এই বৃষ্টিতে আমন চাষিদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটলেও চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আগাম আলু ও শীতকালীন সবজি চাষিরা। সদ্য রোপণ করা আলু ও সবজি ক্ষেতে পানি জমে ফসল পচে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের তীব্র দাবদাহ ও খরার কারণে নীলফামারীর আমন ক্ষেতগুলো পানির সংকটে পড়েছিল। এতে ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হলেও বৃহস্পতিবারের বৃষ্টি আমন চাষিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে। তবে আমন চাষিরা খুশি হলেও আলু ও সবজি চাষিদের মাঝে বিরাজ করছে উল্টো পরিস্থিতি। অসময়ের এই বৃষ্টি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আবহাওয়া দপ্তরের আবহাওয়াবিদ লোকমান হাকিম জানিয়েছেন, সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এটি দ্রুত কেটে যেতে পারে, আবার একটানা তিন থেকে চার দিন স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে নীলফামারীতে বৃষ্টি শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চার মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়রা মণ্ডল জানান, আশ্বিনের এই বৃষ্টি আমন চাষের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে এটি আগাম আলু এবং শাকসবজির জন্য কিছুটা ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ১৩ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও অতিরিক্ত ১২৫ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে।

বৃষ্টির স্থায়িত্ব নিয়ে নিজের আশঙ্কার কথা প্রকাশ করে জেলার প্রবীণ আলুচাষি এইচএম আনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘আমি এবার ১৬ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপণ করেছি। বৃষ্টি যদি অল্প সময়ের মধ্যে থেমে যায় তবে বড় কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু বৃষ্টি দীর্ঘমেয়াদি হলে বীজ আলু পচে যাবে, যার ফলে আমাকে বড় ধরনের আর্থিক লোকসান গুনতে হবে।’

প্রাকৃতিক এই বৃষ্টিতে আমন ক্ষেতে পানির সংকট দূর হলেও, এখন দ্রুত মেঘ কেটে রোদের আশায় আকাশের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন জেলার আলু ও সবজি চাষিরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh