ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণের ভারে জর্জরিত খুলনার সুপার জুট মিল ও সুপারেক্স লেদার নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাং দমনে ৫ দিনের অভিযানে আটক প্রায় ৫০০ ১৫ বছরের চুক্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল পেল ডিপি ওয়ার্ল্ড বরিশালে মাদকবিরোধী অভিযানে এএসআইসহ চারজন আটক ফোনে ‘নামতেছি’ বলে নিখোঁজ কাজল, স্বামীও আত্মগোপনে জন্মদিনে শুটিংয়ে ব্যস্ত অভিনেত্রী হিমি সব নাগরিককে সমান সুযোগ দিতে কাজ করছে সরকার: অর্থমন্ত্রী সিইসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত, রাষ্ট্রপতির মুখোমুখি বিরোধীরা বিদেশ যাওয়ার সময় শাহজালাল বিমানবন্দরে আটকে গেলেন মাহদী হাসান ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডাকঘরে সৌদি আরবের পার্সেল থেকে ১০ কেজি মালামাল উধাও

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাং দমনে ৫ দিনের অভিযানে আটক প্রায় ৫০০

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলাজুড়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে গত পাঁচ দিনে অন্তত ৪৬৯ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছে। জেলা শহর মাইজদী ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনীসহ ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এই অভিযান চালানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, নোয়াখালীতে এনটিএস, বিটিআর, কেটিজিসহ বিভিন্ন ছদ্মনামে অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। শুধু নোয়াখালী পৌর এলাকাতেই প্রায় ২৫টি গ্রুপ ও তাদের একাধিক উপদল সক্রিয়। এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা পার্ক, বিনোদনকেন্দ্র, স্কুল-কলেজ, সড়কের মোড়, চায়ের দোকান, পরিত্যক্ত বাড়ি এবং বিভিন্ন সেতু ও কালভার্টের ওপর নিয়মিত আড্ডা দেয়। স্কুল ছুটির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠগুলোও তাদের দখলে চলে যায়। মাইজদী হাউসিং, পৌর পার্ক, হাসপাতাল রোড, মুরগির ফার্ম, জহিরুল হক মিয়ার গ্যারেজ, কোর্ট স্টেশন, নাপিতের পোল, খন্দকারপাড়া, বচিরার দোকান, মাস্টারপাড়া, মাইজদী বাজার, স্টেশন রোড ও স্টেশন এলাকা, দত্তবাড়ির মোড়, দত্তেরহাট মোরগহাটা, সোনাপুর কাঠপট্টি, বিসিক শিল্পাঞ্চল ব্রিজ, কৃষ্ণরামপুর বোর্ড অফিস, হরিনারায়ণপুর ও কালিতারা বাজার এলাকাও এদের প্রধান আড্ডাস্থল হিসেবে পরিচিত।

এই কিশোর অপরাধীরা চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং, মাদক কারবার এবং এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের হাতে দামি মোবাইল ও চলাচলের জন্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল দেখা যায়। অনেক গ্রুপ প্রকাশ্যে তাদের কর্মকাণ্ড চালালেও কিছু গ্রুপ আবার ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে। স্থানীয়দের দাবি, কিশোর গ্যাংয়ের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে গত এক বছরে নোয়াখালীতে প্রায় অর্ধডজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া চৌমুহনী পৌর এলাকায় মাদকের বিস্তারের সঙ্গে এদের তৎপরতা বাড়ায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নোয়াখালীতে এই কিশোর গ্যাং সংস্কৃতির সূচনা হলেও বর্তমানে তারা বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ছত্রছায়ায় নিজেদের কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া ৪৬৯ জনের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা আগের মামলা রয়েছে, তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে অধিকাংশের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। নোয়াখালী কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর শাহাদাত হোসেন জানান, অপরাধে জড়িতদের আটক করার পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই, তাদের কাউন্সেলিং ও আইনি পরামর্শ দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। তিনি কেবল আইন প্রয়োগের ওপর নির্ভর না করে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতার ওপর জোর দেন।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা, খারাপ সঙ্গ, মাদকের সহজলভ্যতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব কিশোরদের বিপথগামী করে তোলে। যারা এদের মাদক ও অপরাধে ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এনএম নাসিরুদ্দিন জানান, কিশোর গ্যাং এখন একটি বড় সামাজিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার বিভিন্ন থানায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ শতাধিক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বাকিদের অভিভাবকদের কঠোর নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দিয়ে তাদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। কিশোর গ্যাং, মাদক, চাঁদাবাজি ও সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাং দমনে ৫ দিনের অভিযানে আটক প্রায় ৫০০

আপডেট সময় : ০৩:০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলাজুড়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে গত পাঁচ দিনে অন্তত ৪৬৯ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছে। জেলা শহর মাইজদী ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনীসহ ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এই অভিযান চালানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, নোয়াখালীতে এনটিএস, বিটিআর, কেটিজিসহ বিভিন্ন ছদ্মনামে অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। শুধু নোয়াখালী পৌর এলাকাতেই প্রায় ২৫টি গ্রুপ ও তাদের একাধিক উপদল সক্রিয়। এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা পার্ক, বিনোদনকেন্দ্র, স্কুল-কলেজ, সড়কের মোড়, চায়ের দোকান, পরিত্যক্ত বাড়ি এবং বিভিন্ন সেতু ও কালভার্টের ওপর নিয়মিত আড্ডা দেয়। স্কুল ছুটির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠগুলোও তাদের দখলে চলে যায়। মাইজদী হাউসিং, পৌর পার্ক, হাসপাতাল রোড, মুরগির ফার্ম, জহিরুল হক মিয়ার গ্যারেজ, কোর্ট স্টেশন, নাপিতের পোল, খন্দকারপাড়া, বচিরার দোকান, মাস্টারপাড়া, মাইজদী বাজার, স্টেশন রোড ও স্টেশন এলাকা, দত্তবাড়ির মোড়, দত্তেরহাট মোরগহাটা, সোনাপুর কাঠপট্টি, বিসিক শিল্পাঞ্চল ব্রিজ, কৃষ্ণরামপুর বোর্ড অফিস, হরিনারায়ণপুর ও কালিতারা বাজার এলাকাও এদের প্রধান আড্ডাস্থল হিসেবে পরিচিত।

এই কিশোর অপরাধীরা চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং, মাদক কারবার এবং এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের হাতে দামি মোবাইল ও চলাচলের জন্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল দেখা যায়। অনেক গ্রুপ প্রকাশ্যে তাদের কর্মকাণ্ড চালালেও কিছু গ্রুপ আবার ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে। স্থানীয়দের দাবি, কিশোর গ্যাংয়ের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে গত এক বছরে নোয়াখালীতে প্রায় অর্ধডজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া চৌমুহনী পৌর এলাকায় মাদকের বিস্তারের সঙ্গে এদের তৎপরতা বাড়ায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নোয়াখালীতে এই কিশোর গ্যাং সংস্কৃতির সূচনা হলেও বর্তমানে তারা বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ছত্রছায়ায় নিজেদের কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া ৪৬৯ জনের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা আগের মামলা রয়েছে, তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে অধিকাংশের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। নোয়াখালী কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর শাহাদাত হোসেন জানান, অপরাধে জড়িতদের আটক করার পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই, তাদের কাউন্সেলিং ও আইনি পরামর্শ দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। তিনি কেবল আইন প্রয়োগের ওপর নির্ভর না করে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতার ওপর জোর দেন।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা, খারাপ সঙ্গ, মাদকের সহজলভ্যতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব কিশোরদের বিপথগামী করে তোলে। যারা এদের মাদক ও অপরাধে ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এনএম নাসিরুদ্দিন জানান, কিশোর গ্যাং এখন একটি বড় সামাজিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার বিভিন্ন থানায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ শতাধিক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বাকিদের অভিভাবকদের কঠোর নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দিয়ে তাদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। কিশোর গ্যাং, মাদক, চাঁদাবাজি ও সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh