গাজীপুরে অর্থাভাবে থমকে গেছে মেধাবী শামীমের চিকিৎসা, বাবার আকুতি
- আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের শ্রীপুরের মেধাবী তরুণ শামীম রানার (২৬) স্বাভাবিক জীবন থমকে গেছে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে। পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার স্বপ্ন দেখা এই তরুণ হঠাৎ এক মানসিক অসুস্থতার শিকার হন। অর্থাভাবের কারণে এখন তার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার চিকিৎসা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন তার দরিদ্র পিতা।
শামীম শ্রীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার বাবা নজরুল ইসলাম পেশায় একজন রিকশাচালক এবং মা শাহানাজ বেগম একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। ২০১৩ সালে মাদরাসায় পড়ার সময় হঠাৎ করেই শামীমের মানসিক সমস্যা তীব্র রূপ নেয়। তার মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মাকছুদুর রহমান জানান, শামীম যখন নাজেরা বিভাগে পড়তেন, তখন তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে তার সব স্বপ্ন থমকে যায়। একপর্যায়ে উগ্র আচরণের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে প্রায় এক বছর শিকল দিয়ে বেঁধেও রাখতে হয়েছিল।
বর্তমানে শিকল থেকে মুক্তি পেলেও টাকার অভাবে শামীমের চিকিৎসা থমকে গেছে। এর আগে তাকে ঢাকার মানসিক হাসপাতাল ও পাবনাসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা করানো হয়। বর্তমানে নিয়মিত চিকিৎসা চললেও দীর্ঘমেয়াদি এই ব্যয়ের ভার বইতে গিয়ে সম্পূর্ণ দিশাহারা হয়ে পড়েছে তার দরিদ্র পরিবারটি।
শামীমের বাবা নজরুল ইসলাম প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করেন। এই সামান্য আয়ে যেখানে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সংসার চালানোই কঠিন, সেখানে ছেলের চিকিৎসার খরচ টানা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শামীমকে সুস্থ করতে প্রতি মাসে অন্তত ৫ হাজার টাকার ওষুধ প্রয়োজন। কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় নিরুপায় বাবা ওষুধের পরিমাণ কমিয়ে মাত্র ২ হাজার টাকার ওষুধ কিনছেন। সরকারিভাবে শামীম প্রতি তিন মাস পর পর ২ হাজার ৭০০ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই সামান্য।
অশ্রুসজল চোখে নজরুল ইসলাম বলেন, "সংসার চালাব, না ছেলের চিকিৎসা করাব—এই চিন্তায় দিন কাটে। ডাক্তার বলেছেন নিয়মিত ওষুধ খাওয়ালে ছেলে ভালো হবে। কিন্তু আমার তো সেই সামর্থ্য নেই।" মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর ঋণের বোঝা এবং অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার ব্যয় একাই টেনে যাচ্ছেন এই রিকশাচালক বাবা।
শামীমকে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সমাজের বিত্তবান, মানবিক সংগঠন ও সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আকুল আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার। শামীমের চিকিৎসায় সাহায্য পাঠাতে চাইলে তার বাবা নজরুল ইসলামের বিকাশ নম্বর ০১৯৩৩৯৯০৬৫২-এ যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমেও সাহায্য পাঠানো যাবে।
























