ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উত্তরায় মুগ্ধসহ ১১ হত্যা: ২৬ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশ নিউগিনি প্রকল্পে হামলায় ১ কোটি টাকায় সন্ত্রাসী ভাড়া, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মোদি ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ: মুক্তির পর সিজেপি নেতা জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সরকারের ত্রিশালে নতুন সামাজিক সংগঠন ‘নাগরিক অধিকার আন্দোলন’র যাত্রা শুরু সাটুরিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে ছোট ভাইয়ের পিটুনিতে বড় ভাই নিহত আন্দোলন থামবে না, সাফ জানালেন ককরোচ প্রধান অভিজিৎ দীপকে আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল, অভিযোগ ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী জাপানি প্রতিষ্ঠান মারুবেনি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলা, বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

অসুস্থ মায়ের আকুতি, ছেলের কাছে স্থান মেলেনি মুন্নি খাতুনের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৪৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১১৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার মা-ছেলের বিরোধ নিয়ে একটি শুনানির আয়োজন করা হয়। সেখানে অসুস্থ মুন্নি খাতুন (৫৫) তাঁর ছেলে সাগর হোসেনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে আকুতি জানান, ‘আমি তোর সাথে যাবোরে, ও সোনার বাজানরে। আমি আর কিছু চাই না।’ কিন্তু মায়ের এই আকুতিতে মন গলেনি ছেলের। সাগর হোসেনের সাফ কথা, তিনি মায়ের ভরণপোষণের খরচ দেবেন, তবে মাকে নিজের সঙ্গে রাখা সম্ভব নয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

শুনানিতে ইউএনও সেলিম আহমেদ ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও সাগর নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে সাগর জানান, মাকে তাঁর সঙ্গে থাকতে দিলে আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় থাকবে না। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাগরের বিয়ের পর থেকে তাঁর স্ত্রী ও মায়ের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। পরে সাগরের বোনও মায়ের পক্ষ নিয়ে বিবাদে জড়ালে পারিবারিক অশান্তি চরমে পৌঁছায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে কয়েক দফা সমাধানের চেষ্টা করেও এই বিরোধ মেটানো সম্ভব হয়নি।

সাগর হোসেন সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত। তাঁর বাবা সিরাজুল ইসলাম অনেক আগেই মারা গেছেন। মুন্নি খাতুন এখন আর স্বামীর রেখে যাওয়া বাড়িতে ছেলের সঙ্গে থাকেন না, থাকেন মেয়ের বাড়িতে। এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে, মুন্নি খাতুনের নিজের নামে প্রায় ১০ লাখ টাকার জমি রয়েছে। মূলত আর্থিক অনটনের চেয়ে পারিবারিক টানাপোড়েনই এই বিরোধের মূল কারণ।

নাগডেমরা ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান জানান, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে এই বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করছেন। সাগরের অভিযোগ, অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে মায়ের অভিযোগের কারণে তাঁকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়েছিল, যা তাঁর অভিমান আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চেয়ারম্যানের মতে, মায়ের কিছু ভুল থাকলেও একমাত্র ছেলে হয়ে মাকে কাছে রাখতে না চাওয়াটা মেনে নেওয়া কঠিন।

ইউএনও সেলিম আহমেদ জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মুন্নি খাতুন ও সাগরের মামা লিখিত অভিযোগ দিলে সাগরকে নোটিশ পাঠানো হয়। শুনানিতে সাগরকে মা-বাবার ভরণপোষণ আইন ও মানবিক দিকগুলো বোঝানো হলেও কোনো কাজ হয়নি। ইউএনও বলেন, এটি মূলত আর্থিক নয়, মানসিক সমস্যা। তিনি আরও জানান, মুন্নি খাতুন বিভিন্ন সরকারি ভাতা পান। শুনানি শেষে সাগরকে মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা গেলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। আপাতত আর চাপ প্রয়োগ না করে কিছুদিন পর কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন ইউএনও।

কিন্তু তিনি কারণটি স্পষ্ট করে বলেননি।সেলিম আহমেদ, ইউএনও, সাঁথিয়া.৫৫ বছর বয়সী মুন্নি খাতুনের সঙ্গে এ বিরোধ নিয়ে কিছু বলতে নারাজ সাগর (৩২)।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

অসুস্থ মায়ের আকুতি, ছেলের কাছে স্থান মেলেনি মুন্নি খাতুনের

আপডেট সময় : ১১:৪৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার মা-ছেলের বিরোধ নিয়ে একটি শুনানির আয়োজন করা হয়। সেখানে অসুস্থ মুন্নি খাতুন (৫৫) তাঁর ছেলে সাগর হোসেনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে আকুতি জানান, ‘আমি তোর সাথে যাবোরে, ও সোনার বাজানরে। আমি আর কিছু চাই না।’ কিন্তু মায়ের এই আকুতিতে মন গলেনি ছেলের। সাগর হোসেনের সাফ কথা, তিনি মায়ের ভরণপোষণের খরচ দেবেন, তবে মাকে নিজের সঙ্গে রাখা সম্ভব নয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

শুনানিতে ইউএনও সেলিম আহমেদ ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও সাগর নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে সাগর জানান, মাকে তাঁর সঙ্গে থাকতে দিলে আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় থাকবে না। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাগরের বিয়ের পর থেকে তাঁর স্ত্রী ও মায়ের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। পরে সাগরের বোনও মায়ের পক্ষ নিয়ে বিবাদে জড়ালে পারিবারিক অশান্তি চরমে পৌঁছায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে কয়েক দফা সমাধানের চেষ্টা করেও এই বিরোধ মেটানো সম্ভব হয়নি।

সাগর হোসেন সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত। তাঁর বাবা সিরাজুল ইসলাম অনেক আগেই মারা গেছেন। মুন্নি খাতুন এখন আর স্বামীর রেখে যাওয়া বাড়িতে ছেলের সঙ্গে থাকেন না, থাকেন মেয়ের বাড়িতে। এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে, মুন্নি খাতুনের নিজের নামে প্রায় ১০ লাখ টাকার জমি রয়েছে। মূলত আর্থিক অনটনের চেয়ে পারিবারিক টানাপোড়েনই এই বিরোধের মূল কারণ।

নাগডেমরা ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান জানান, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে এই বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করছেন। সাগরের অভিযোগ, অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে মায়ের অভিযোগের কারণে তাঁকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়েছিল, যা তাঁর অভিমান আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চেয়ারম্যানের মতে, মায়ের কিছু ভুল থাকলেও একমাত্র ছেলে হয়ে মাকে কাছে রাখতে না চাওয়াটা মেনে নেওয়া কঠিন।

ইউএনও সেলিম আহমেদ জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মুন্নি খাতুন ও সাগরের মামা লিখিত অভিযোগ দিলে সাগরকে নোটিশ পাঠানো হয়। শুনানিতে সাগরকে মা-বাবার ভরণপোষণ আইন ও মানবিক দিকগুলো বোঝানো হলেও কোনো কাজ হয়নি। ইউএনও বলেন, এটি মূলত আর্থিক নয়, মানসিক সমস্যা। তিনি আরও জানান, মুন্নি খাতুন বিভিন্ন সরকারি ভাতা পান। শুনানি শেষে সাগরকে মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা গেলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। আপাতত আর চাপ প্রয়োগ না করে কিছুদিন পর কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন ইউএনও।

কিন্তু তিনি কারণটি স্পষ্ট করে বলেননি।সেলিম আহমেদ, ইউএনও, সাঁথিয়া.৫৫ বছর বয়সী মুন্নি খাতুনের সঙ্গে এ বিরোধ নিয়ে কিছু বলতে নারাজ সাগর (৩২)।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo