ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লালপুরে অবৈধ সার বিক্রির দায়ে ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবিতে জাতীয় যুবশক্তির বিক্ষোভ ৯ মাসে সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইনে ৭ হাজারের বেশি কল উত্তরায় মুগ্ধসহ ১১ হত্যা: ২৬ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশ নিউগিনি প্রকল্পে হামলায় ১ কোটি টাকায় সন্ত্রাসী ভাড়া, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মোদি ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ: মুক্তির পর সিজেপি নেতা জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সরকারের ত্রিশালে নতুন সামাজিক সংগঠন ‘নাগরিক অধিকার আন্দোলন’র যাত্রা শুরু সাটুরিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে ছোট ভাইয়ের পিটুনিতে বড় ভাই নিহত আন্দোলন থামবে না, সাফ জানালেন ককরোচ প্রধান অভিজিৎ দীপকে

আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল, অভিযোগ ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৩৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি অভিযোগ করেছেন যে তাকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি, বরং তার বাড়ি থেকে তাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছিল। দিল্লিতে আটকের পর মুক্তি পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এই গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন।

ধ্রুব রাঠির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে তিনি যখন নিজের শোবার ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন, তখন সাধারণ পোশাকে প্রায় ২০ জন ব্যক্তি তার বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান। তিনি দাবি করেন, সে সময় বাড়ির বাইরে আরও ৫০ জনের বেশি লোক অবস্থান করছিলেন। তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো পরিচয় দেননি, গ্রেপ্তারের কারণ বা কোনো আইনি ধারার কথাও উল্লেখ করেননি। এমনকি তাকে স্যান্ডেল পরার সুযোগ না দিয়েই গাড়িতে তুলে নেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

এই ইউটিউবার আরও জানান, তাকে একাধিক থানায় ঘোরানো হয়েছে এবং এই সময়ে তার নিজের ও তার বাবা-মায়ের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। থানায় আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ চেয়েও তিনি পাননি। সব মিলিয়ে প্রায় ২২ থেকে ২৩ ঘণ্টা তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। ধ্রুব রাঠি ভিডিওতে নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট দেখিয়ে জোর দিয়ে বলেন, তিনি ভারতের নাগরিক এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তার আটক হওয়ার পেছনে বিদেশি পাসপোর্টের যে তথ্য কিছু সংবাদমাধ্যম প্রচার করছে, তা তিনি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

নিজের বিরুদ্ধে কোনো আইন ভঙ্গের অভিযোগ নেই দাবি করে ধ্রুব রাঠি বলেন, দেশের স্বার্থে সত্য কথা বলা এবং একটি উন্নত নির্বাচন কমিশনের দাবি তোলার কারণেই তাকে হয়রানি করা হয়েছে। তিনি ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণতান্ত্রিক দেশে কি আইন না ভেঙেও এভাবে শোবার ঘর থেকে কাউকে তুলে নেওয়া যায়?

ধ্রুব রাঠি জানান, মুক্তির পরও তার বাড়ির আশপাশে লোকজন নজরদারি করছে, যা কার্যত এক ধরনের ‘অনানুষ্ঠানিক গৃহবন্দিত্ব’। তিনি উল্লেখ করেন যে, তার সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপ, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাসহ বহু রাজনৈতিক নেতা ও বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল। তিনি জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকসহ যারা তার মুক্তির দাবিতে সমর্থন জানিয়েছিলেন, তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভয় দেখিয়ে তাকে দমিয়ে রাখা যাবে না এবং দেশের স্বার্থে তিনি ভবিষ্যতেও কথা বলে যাবেন।

উল্লেখ্য যে, ১০ অক্টোবর দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আটক অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। ভোটার তালিকায় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল, যদিও নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল, অভিযোগ ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির

আপডেট সময় : ০২:৩৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি অভিযোগ করেছেন যে তাকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি, বরং তার বাড়ি থেকে তাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছিল। দিল্লিতে আটকের পর মুক্তি পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এই গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন।

ধ্রুব রাঠির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে তিনি যখন নিজের শোবার ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন, তখন সাধারণ পোশাকে প্রায় ২০ জন ব্যক্তি তার বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান। তিনি দাবি করেন, সে সময় বাড়ির বাইরে আরও ৫০ জনের বেশি লোক অবস্থান করছিলেন। তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো পরিচয় দেননি, গ্রেপ্তারের কারণ বা কোনো আইনি ধারার কথাও উল্লেখ করেননি। এমনকি তাকে স্যান্ডেল পরার সুযোগ না দিয়েই গাড়িতে তুলে নেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

এই ইউটিউবার আরও জানান, তাকে একাধিক থানায় ঘোরানো হয়েছে এবং এই সময়ে তার নিজের ও তার বাবা-মায়ের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। থানায় আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ চেয়েও তিনি পাননি। সব মিলিয়ে প্রায় ২২ থেকে ২৩ ঘণ্টা তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। ধ্রুব রাঠি ভিডিওতে নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট দেখিয়ে জোর দিয়ে বলেন, তিনি ভারতের নাগরিক এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তার আটক হওয়ার পেছনে বিদেশি পাসপোর্টের যে তথ্য কিছু সংবাদমাধ্যম প্রচার করছে, তা তিনি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

নিজের বিরুদ্ধে কোনো আইন ভঙ্গের অভিযোগ নেই দাবি করে ধ্রুব রাঠি বলেন, দেশের স্বার্থে সত্য কথা বলা এবং একটি উন্নত নির্বাচন কমিশনের দাবি তোলার কারণেই তাকে হয়রানি করা হয়েছে। তিনি ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণতান্ত্রিক দেশে কি আইন না ভেঙেও এভাবে শোবার ঘর থেকে কাউকে তুলে নেওয়া যায়?

ধ্রুব রাঠি জানান, মুক্তির পরও তার বাড়ির আশপাশে লোকজন নজরদারি করছে, যা কার্যত এক ধরনের ‘অনানুষ্ঠানিক গৃহবন্দিত্ব’। তিনি উল্লেখ করেন যে, তার সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপ, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাসহ বহু রাজনৈতিক নেতা ও বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল। তিনি জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকসহ যারা তার মুক্তির দাবিতে সমর্থন জানিয়েছিলেন, তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভয় দেখিয়ে তাকে দমিয়ে রাখা যাবে না এবং দেশের স্বার্থে তিনি ভবিষ্যতেও কথা বলে যাবেন।

উল্লেখ্য যে, ১০ অক্টোবর দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আটক অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। ভোটার তালিকায় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল, যদিও নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din