জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সরকারের
- আপডেট সময় : ০৩:০৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশনের এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি দেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বৈঠকে মারুবেনির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসাইউকি ওমোতোর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি অংশ নেয়। এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন্নাসের খান উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মারুবেনি করপোরেশন বাংলাদেশে বিদ্যমান ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন শিল্প খাতে বিনিয়োগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে। আলোচনার উল্লেখযোগ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল সার উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্প এবং জাপানের জনপ্রিয় টয়োটা ব্র্যান্ডের গাড়ি নির্মাণের প্রস্তাব। এ ছাড়া বাংলাদেশ-জাপান সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর ও তা বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশে মারুবেনির দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কথা স্মরণ করে কাফকোর আধুনিকায়ন, প্রাকৃতিক গ্যাসের দক্ষ ব্যবহার এবং সার উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও মাসাইউকি ওমোতো। তিনি ডিএপি ও টিএসপি সার উৎপাদনে নতুন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। তথ্যপ্রযুক্তি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত বিজেআইটির শত শত বাংলাদেশি প্রকৌশলী জাপানসহ বৈশ্বিক বাজারে সেবা দিচ্ছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আইটি অফশোরিং খাতে এই ধারাবাহিকতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার বিকল্প হিসেবে ক্ষুদ্র মডিউলার পারমাণবিক চুল্লি (এসএমআর) প্রযুক্তি এবং জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, দেশের উৎপাদনমুখী শিল্পের বিকাশে জাপানের প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও মূলধন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে পাটশিল্পের আধুনিকায়নে প্রথাগত পণ্যের বাইরে গিয়ে তুলা, ভিসকস ও পলিয়েস্টারের সঙ্গে পাটের আঁশ মিশিয়ে উচ্চমূল্যের বহুমুখী পণ্য তৈরি, উন্নত বীজ উদ্ভাবন ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তির সহায়তা চায় সরকার। তিনি নিশ্চিত করেন যে কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্জিত মুনাফা ও মূলধন নিজ দেশে ফেরতের সুনির্দিষ্ট সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার নীতিগত সংস্কার চালিয়ে যাচ্ছে।





























