জ্বালানি তেলের প্রভাবে রাজধানীর বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি
- আপডেট সময় : ০২:১৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দাম নতুন করে বাড়ানো হয়েছে। গত এক থেকে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু রাজধানীতেই নয়, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় দেশের প্রধান চালের মোকামগুলোতেও দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত ২০শে সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধির পর ট্রাক ভাড়া দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া ধানের দামও বাড়তি থাকায় চালের দর সমন্বয় করতে হচ্ছে। কাওরান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, বাবুবাজার ও নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, সরু চাল (মিনিকেট ও নাজিরশাইল) মানভেদে প্রতি কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে ৬৮ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর কিছু ব্র্যান্ডের চাল ৭৬ থেকে ৮৫ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের চাল (বিআর-২৮, ব্রি-২৯ ও পাইজাম) কেজিতে ১ থেকে ৩ টাকা বেড়ে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকায় পৌঁছেছে এবং মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ দরে থাকা পোলাও চালের দাম কিছুটা কমে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমেছে, যা আগে ২০০ থেকে ২১০ টাকা ছিল।
পাইকারি আড়তদার ও মিল মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার খাজানগর এবং নওগাঁর মোকামে ধানের দাম বস্তাপ্রতি ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দিনাজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চাল আনতে ট্রাকপ্রতি অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে। কুষ্টিয়ার এক অটো রাইস মিল মালিক জানান, ধান, শ্রমিকের মজুরি, বিদ্যুৎ, প্যাকেজিং ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মিলগেটে দাম সমন্বয় করা ছাড়া উপায় নেই। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে মাঝারি মানের চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা বেড়েছে, যদিও মোটা চালের দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজার পরিস্থিতির কারণে সাধারণ ভোক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেক ক্রেতার অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা সব সময় দাম বাড়ানোর সুযোগ খোঁজেন এবং সরকারি নজরদারির অভাবে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম জানান, ব্যবসায়ীরা ক্রমাগত সব জিনিসের দাম বাড়াচ্ছেন, কিন্তু তাদের আয় বাড়েনি। এদিকে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আতিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, সারা দেশের বাজারে নিয়মিত তদারকি চলছে এবং চালের দাম বাড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অভিযান জোরদার করা হবে। অনেক খুচরা ব্যবসায়ী ক্রেতা হারানোর ভয়ে আপাতত আগের মজুত থেকে সামান্য লাভে চাল বিক্রি করলেও, পুরনো মজুত শেষ হলে এই দরবৃদ্ধির প্রভাব আরও স্পষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।




























