নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র বিতর্ক
- আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের একটি পরিকল্পনা দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুডে এই দণ্ড কার্যকরের দিন ধার্য করা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই দৃশ্য জনসাধারণ সরাসরি দেখতে পারবে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রথম কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার হতে যাচ্ছে।
এই উদ্যোগের সমর্থনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ‘মানুষকে বুঝতে হবে, এ ধরনের কাজের গুরুতর পরিণতি রয়েছে।’ তবে এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী এবং রাজনীতিকরা। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করার বিষয়টি কার্যত প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের শামিল হতে পারে, যা নির্যাতনের ওপর আরোপিত নিরঙ্কুশ নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি এই পরিকল্পনাকে ‘জঘন্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, এটি উগ্রপন্থি ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পরিচালিত মৃত্যুদণ্ডের কথা মনে করিয়ে দেয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের নিয়ে কাজ করা আইনজীবী জন মিলস এই উদ্যোগকে আধুনিক যুগে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন।
আইনজীবী জন মিলসের মতে, হাসানের মামলার আপিল প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি এবং তিনি ফেডারেল আদালতে দণ্ডাদেশ ও সাজা পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারেন, যা কার্যকর হলে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত হতে পারে। মিলস মনে করেন, ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে সাজা কার্যকর এবং তা সরাসরি সম্প্রচারের এই উদ্যোগ মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচার পাওয়ার একটি কৌশল। তার মতে, বাস্তবে এই মৃত্যুদণ্ডটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
























