ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি, স্থগিত পিটিআই সরকারের কার্যক্রম খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন জারি করল পাকিস্তান তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক হিসেবে সংবর্ধনা পেলেন সাহিদা আক্তার লালপুরে অবৈধ সার বিক্রির দায়ে ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবিতে জাতীয় যুবশক্তির বিক্ষোভ ৯ মাসে সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইনে ৭ হাজারের বেশি কল উত্তরায় মুগ্ধসহ ১১ হত্যা: ২৬ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশ নিউগিনি প্রকল্পে হামলায় ১ কোটি টাকায় সন্ত্রাসী ভাড়া, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মোদি ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ: মুক্তির পর সিজেপি নেতা

নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের পরা স্যুট ঘিরে আলোচনায় বাংলাদেশের অনন্ত গ্রুপ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৪৬:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সম্প্রতি একটি নির্বাচনী সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরা স্যুটকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের নাম। ট্রাম্প যে ফ্যাশন ব্র্যান্ডের স্যুটটি পরেছিলেন, সেই ব্র্যান্ডের জন্য নিয়মিত পোশাক তৈরি করে থাকে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অনন্ত গ্রুপ। এই ঘটনা পোশাকশিল্পের পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্ণাঢ্য ও বিতর্কিত জীবনকে আবারও আলোচনায় এনেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন নিউইয়র্কের কুইন্সে জন্ম নেওয়া ট্রাম্পের বাবার নাম ফ্রেড ট্রাম্প, যিনি একজন আবাসন ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর মা মেরি ট্রাম্প ছিলেন স্কটিশ বংশোদ্ভূত। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ ট্রাম্প ছোটবেলা থেকেই দুরন্ত স্বভাবের ছিলেন। সে কারণে তাঁকে নিউইয়র্ক মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ারটন স্কুল থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। পড়াশোনা শেষ করে ধনী বাবার প্রতিষ্ঠানে খুব ছোট পদ থেকে কাজ শুরু করলেও পরে পৈতৃক ব্যবসাকে বহু দূর এগিয়ে নিয়ে যান। তিনি পর্যায়ক্রমে হোটেল, বহুতল ভবন, গলফ কোর্স ও ক্যাসিনো ব্যবসা গড়ে তোলেন।

রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার বহু আগে থেকেই মার্কিন সমাজে ধনকুবের হিসেবে পরিচিত ছিলেন ট্রাম্প। দীর্ঘদিন মিস ইউনিভার্সের স্পনসর থাকা ছাড়াও টিভি রিয়্যালিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেনটিস’ এবং রেসলিং ম্যাচ উপস্থাপনা করে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছান তিনি। ব্যবসায়িক জীবনে কয়েকবার নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন। ব্যক্তিজীবনে ট্রাম্প তিনবার বিয়ে করেছেন এবং তিনি পাঁচ সন্তানের জনক। ১৯৯২ সালে তাঁর প্রথম স্ত্রী চেক মডেল ইভানার সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ১৯৯৩ সালে বিয়ে করা দ্বিতীয় স্ত্রী মার্লা ম্যাপলসের সঙ্গে ১৯৯৯ সালে বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে মডেল মেলানিয়াকে বিয়ে করেন ট্রাম্প, যিনি মার্কিন ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব পালন করছেন।

বাণিজ্য ও শোবিজ জগতে জীবনের বড় অংশ কাটালেও অতীতে কয়েকবার প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। অবশেষে ২০১৫ সালের ১৫ জুন আচমকা কোটিপতি এই ব্যবসায়ী নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। শুরুতে খুব কম মানুষই তাঁর এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিলেন এবং তা নিয়ে হাসিঠাট্টাও হয়েছিল। তবে ১৬ জন প্রার্থীকে পেছনে ফেলে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত করেন তিনি। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির ঝানু রাজনীতিক হিলারি ক্লিনটনকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে হোয়াইট হাউসের মসনদে বসেন পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া ট্রাম্প।

নির্বাচনী প্রচারের পুরো সময় জুড়ে ট্রাম্প ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। রাশিয়া ও দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি প্রকাশ্যে নিজের অনুরাগের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি অভিবাসী, মুসলমান, নারী ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে তাঁর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। তাঁর বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠলেও তিনি জয় লাভ করেন। ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও নিত্যনতুন বিতর্কের জন্ম দিয়ে চলেন ট্রাম্প। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মুসলিম নিষেধাজ্ঞাসহ একের পর এক বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ জারি করেন তিনি। বৈশ্বিক নীতিতে অস্থিরতা তৈরি ছাড়াও প্রথম বছরই তাঁর প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বিদায় নেন। সময়-অসময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে একের পর এক পোস্ট ও গণমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধের কারণে তাঁর মানসিক সুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এসব বিতর্ক ও অভ্যন্তরীণ সংকট সত্ত্বেও ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার আগ্রহ প্রকাশ করে রেখেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের পরা স্যুট ঘিরে আলোচনায় বাংলাদেশের অনন্ত গ্রুপ

আপডেট সময় : ১০:৪৬:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

সম্প্রতি একটি নির্বাচনী সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরা স্যুটকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের নাম। ট্রাম্প যে ফ্যাশন ব্র্যান্ডের স্যুটটি পরেছিলেন, সেই ব্র্যান্ডের জন্য নিয়মিত পোশাক তৈরি করে থাকে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অনন্ত গ্রুপ। এই ঘটনা পোশাকশিল্পের পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্ণাঢ্য ও বিতর্কিত জীবনকে আবারও আলোচনায় এনেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন নিউইয়র্কের কুইন্সে জন্ম নেওয়া ট্রাম্পের বাবার নাম ফ্রেড ট্রাম্প, যিনি একজন আবাসন ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর মা মেরি ট্রাম্প ছিলেন স্কটিশ বংশোদ্ভূত। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ ট্রাম্প ছোটবেলা থেকেই দুরন্ত স্বভাবের ছিলেন। সে কারণে তাঁকে নিউইয়র্ক মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ারটন স্কুল থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। পড়াশোনা শেষ করে ধনী বাবার প্রতিষ্ঠানে খুব ছোট পদ থেকে কাজ শুরু করলেও পরে পৈতৃক ব্যবসাকে বহু দূর এগিয়ে নিয়ে যান। তিনি পর্যায়ক্রমে হোটেল, বহুতল ভবন, গলফ কোর্স ও ক্যাসিনো ব্যবসা গড়ে তোলেন।

রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার বহু আগে থেকেই মার্কিন সমাজে ধনকুবের হিসেবে পরিচিত ছিলেন ট্রাম্প। দীর্ঘদিন মিস ইউনিভার্সের স্পনসর থাকা ছাড়াও টিভি রিয়্যালিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেনটিস’ এবং রেসলিং ম্যাচ উপস্থাপনা করে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছান তিনি। ব্যবসায়িক জীবনে কয়েকবার নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন। ব্যক্তিজীবনে ট্রাম্প তিনবার বিয়ে করেছেন এবং তিনি পাঁচ সন্তানের জনক। ১৯৯২ সালে তাঁর প্রথম স্ত্রী চেক মডেল ইভানার সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ১৯৯৩ সালে বিয়ে করা দ্বিতীয় স্ত্রী মার্লা ম্যাপলসের সঙ্গে ১৯৯৯ সালে বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে মডেল মেলানিয়াকে বিয়ে করেন ট্রাম্প, যিনি মার্কিন ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব পালন করছেন।

বাণিজ্য ও শোবিজ জগতে জীবনের বড় অংশ কাটালেও অতীতে কয়েকবার প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। অবশেষে ২০১৫ সালের ১৫ জুন আচমকা কোটিপতি এই ব্যবসায়ী নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। শুরুতে খুব কম মানুষই তাঁর এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিলেন এবং তা নিয়ে হাসিঠাট্টাও হয়েছিল। তবে ১৬ জন প্রার্থীকে পেছনে ফেলে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত করেন তিনি। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির ঝানু রাজনীতিক হিলারি ক্লিনটনকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে হোয়াইট হাউসের মসনদে বসেন পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া ট্রাম্প।

নির্বাচনী প্রচারের পুরো সময় জুড়ে ট্রাম্প ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। রাশিয়া ও দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি প্রকাশ্যে নিজের অনুরাগের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি অভিবাসী, মুসলমান, নারী ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে তাঁর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। তাঁর বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠলেও তিনি জয় লাভ করেন। ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও নিত্যনতুন বিতর্কের জন্ম দিয়ে চলেন ট্রাম্প। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মুসলিম নিষেধাজ্ঞাসহ একের পর এক বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ জারি করেন তিনি। বৈশ্বিক নীতিতে অস্থিরতা তৈরি ছাড়াও প্রথম বছরই তাঁর প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বিদায় নেন। সময়-অসময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে একের পর এক পোস্ট ও গণমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধের কারণে তাঁর মানসিক সুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এসব বিতর্ক ও অভ্যন্তরীণ সংকট সত্ত্বেও ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার আগ্রহ প্রকাশ করে রেখেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo