দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে মডেল হওয়ার পথে বাংলাদেশ: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর
- আপডেট সময় : ০৫:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

বৈদেশিক কর্মসংস্থান, তৈরি পোশাকশিল্পে নারীর অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ বিশ্বে অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে উঠতে পারে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সবার জন্য এশিয়া: সরকারি সেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক সম্মেলনে এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
সম্মেলনের ‘অর্থনৈতিক সমতায় অর্থায়ন: সরকারি সেবায় সম্পদ আহরণ’ শীর্ষক তৃতীয় অধিবেশনে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ এখন বিচ্ছিন্ন সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির পরিবর্তে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ এবং করের আওতা সম্প্রসারণের সঙ্গে সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
উপদেষ্টা তাঁর উপস্থাপনায় করোনা মহামারি এবং পূর্ববর্তী সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই সময়ে নতুন করে আনুমানিক ৭০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হয়েছেন। তিনি বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির সমন্বয়হীনতার সমালোচনা করে বলেন, অনেক সময় যোগ্য ব্যক্তিরা সহায়তা থেকে বাদ পড়েন, আবার অযোগ্য ব্যক্তিরা সুবিধা পেয়ে যান, যা সরকারি সহায়তার লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, সামাজিক সুরক্ষা শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। এতে দারিদ্র্য কমানোর পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে এবং উন্নয়নের সুফল আরও বিস্তৃত হবে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং তৈরি পোশাকশিল্পের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, দেশের বিপুল শ্রমশক্তিকে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলোর শ্রমবাজারের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে বিদেশে কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ বিপুলসংখ্যক নারীর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পরিবারগুলোর আয় ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সামাজিক সুরক্ষার পরিধি বাড়াতে তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন। এই ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে সরকার সরাসরি নারীদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা ‘জিটুপি’ বা সরকার থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে সরাসরি অর্থ প্রদান ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত।



























