নিকাব নিয়ে শ্রেণিকক্ষে কোনো নির্দেশ দিইনি, ভিডিও বার্তায় দাবি শিক্ষকের
- আপডেট সময় : ০৬:০৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরা এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। ১০ অক্টোবর শনিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা এই ভিডিওতে তিনি ৭ অক্টোবরের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।
ভিডিও বার্তায় তাসনীম সিরাজ মাহবুব দাবি করেন, ওই শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে নিকাব খুলতে, পোশাক পরিবর্তন করতে কিংবা ক্লাস ত্যাগ করার কোনো নির্দেশ তিনি দেননি। তিনি জানান, ওই শিক্ষার্থীর চোখসহ মুখমণ্ডল ঢাকা থাকায় তাকে শনাক্ত করা এবং কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। শিক্ষক হিসেবে পাঠদানের সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চোখের যোগাযোগ জরুরি মনে করায় তিনি কেবল নিজের অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন।
তিনি জানান, ওইদিন ক্লাসে আরও দুজন শিক্ষার্থী বোরকা পরা অবস্থায় থাকলেও তাদের চোখ দৃশ্যমান ছিল, ফলে তাদের শনাক্ত করতে অসুবিধা হয়নি। তাই তাদের পোশাক নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তাসনীম সিরাজ মাহবুব আরও বলেন, ওই শিক্ষার্থী চলে যাওয়ার পর সহপাঠীদের মাধ্যমে তিনি খোঁজ নিয়েছিলেন এবং দুঃখ প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। তবে শিক্ষার্থীটি বেরিয়ে না আসায় সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি।
নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে এই শিক্ষক বলেন, ৩৪ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি কখনো কোনো শিক্ষার্থীর ধর্মীয় বিশ্বাস বা পোশাককে অবমাননা করেননি। তিনি জানান, আলোচনার সময় তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নূরের ৩১ নম্বর আয়াতের প্রসঙ্গ টেনে শালীনতার কথা বলেছিলেন এবং হজের সময় ইহরাম অবস্থায় নারীদের পোশাকের বিষয়ে হাদিসের উল্লেখ করেছিলেন।
ঘটনার পর থেকে বেনামি ফোন, ই-মেইল ও হুমকি পাওয়ার দাবি করে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার বক্তব্য না শুনেই ইংরেজি বিভাগ কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে তার সব কোর্স অন্য শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ঘটনার পর ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্স ফাইনাল সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সুমি আক্তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন যে, ওই শিক্ষক পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেছেন। এর প্রেক্ষিতে ৮ অক্টোবর নারী শিক্ষার্থীরা প্রক্টর ও প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কর্মীরা মানববন্ধন করেন। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, এই ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ও অপতথ্যের অংশ এবং শিক্ষককে ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী বেআইনি।



























