ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সোবহানার সেঞ্চুরি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড সংগ্রহ ৫ বছর পর ন্যান্সি ও জাহিদ নিরবের দ্বৈত গান ‘দিওয়ানা দিল’ তুরস্কে পর্যটকবাহী বাস ও টো ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১১, আহত ২৭ পিরোজপুরে ডেঙ্গু ও কিশোর গ্যাং দমনে প্রতিমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা জাতীয় ক্রিকেট লিগে একদিনে পাঁচ ব্যাটারের সেঞ্চুরি দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদের ভূত যেভাবে মোদি সরকারকে তাড়া করছে দুর্গাপূজায় নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখতে সজাগ থাকার আহ্বান রিজভীর আয়াসসহ চারজনের বিরুদ্ধে যেসব ধারায় মামলা, রিমান্ডের আদেশ চাঁদপুরে জেলেদের ৫ টন চাল জব্দ, তদন্ত কমিটি গঠন নতুন রেকর্ডের হাতছানি হানসি ফ্লিকের বার্সেলোনার সামনে

গণভোটকে অবৈধ বললে বিএনপি সরকারও অবৈধ হবে: মামুনুল হক

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৪২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



গণভোটকে অবৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ হয়ে যায় বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, একই দিনে এবং একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এমনকি দুটির ফলাফলও ঘোষণা করা হয় একসঙ্গে। অথচ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের নিউ ফিল্ড মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হবিগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে দুই নির্বাচনের ভোটার সমর্থনের চিত্র তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, অন্যদিকে গণভোটে 'হ্যাঁ' এর পক্ষে রায় এসেছিল ৭০ শতাংশ। একই দিনে অনুষ্ঠিত দুটি নির্বাচনের মধ্যে একটি মেনে নিয়ে অন্যটি প্রত্যাখ্যান করার অবস্থান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাঁরা কাজ করছেন। সে লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ ৯ মাসে অনুষ্ঠিত ৮৩টি অধিবেশনে খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ব্যাখ্যা করে খেলাফত মজলিসের আমীর বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই ছিল এই লড়াইয়ের প্রধান উদ্দেশ্য, যেখানে দলীয় আনুগত্য, সুপারিশ কিংবা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সম্পর্কের বদলে কেবল মেধার ভিত্তিতে চাকরি ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিবাদের চিরতরে অবসান ঘটানো এবং ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদী শাসন যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্যই জুলাই জাতীয় সনদে বৈষম্য ও স্বৈরাচারী শাসনের পথ রুদ্ধ করার বিভিন্ন প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

সংবিধান সংস্কার ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংস্কারের স্বার্থে তাঁরা সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে রাজি আছেন। এমনকি সরকার যদি সংবিধান সংস্কার, বৈষম্য দূরীকরণ এবং ফ্যাসিবাদের চিরতরে বিলোপে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়, তবে পাঁচ বছর পর্যন্ত সরকারের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলনে না যাওয়ার কথা বিবেচনা করতেও তাঁরা প্রস্তুত। তবে এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। মামুনুল হক পরিষ্কার জানিয়ে দেন, সংবিধান সংস্কার এবং রাষ্ট্রে স্থায়ী পরিবর্তনের যেসব প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছিল তা পূরণ না হলে বিএনপি ইতিহাসে 'বিশ্বাসঘাতক' হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

দেশের চলমান পরিস্থিতি ও জনদুর্ভোগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, চাঁদাবাজি, অনিয়ম কিংবা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও সারের মতো জরুরি খাতের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ষোলোআনা ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নেবে না। এসব জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধান না হলে রাজপথের প্রতিবাদ আরও তীব্র রূপ নেবে। জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণ দেওয়া শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, অগণিত মানুষের রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে একটি স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটানো হয়েছে অন্য কোনো নতুন ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার জন্ম দেওয়ার জন্য নয়। এসময় তিনি শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করে দেশজুড়ে কর্মসূচি পালন করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এই নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করে খেলাফত মজলিস। সংগঠনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ আকিলপুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নোমান আহমদ সাদিকের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা আব্দুল আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহসিনুল হাসান, সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাঈদ ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মুফতি হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

নিউজটি শেয়ার করুন

গণভোটকে অবৈধ বললে বিএনপি সরকারও অবৈধ হবে: মামুনুল হক

আপডেট সময় : ০৫:৪২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

গণভোটকে অবৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ হয়ে যায় বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, একই দিনে এবং একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এমনকি দুটির ফলাফলও ঘোষণা করা হয় একসঙ্গে। অথচ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের নিউ ফিল্ড মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হবিগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে দুই নির্বাচনের ভোটার সমর্থনের চিত্র তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, অন্যদিকে গণভোটে 'হ্যাঁ' এর পক্ষে রায় এসেছিল ৭০ শতাংশ। একই দিনে অনুষ্ঠিত দুটি নির্বাচনের মধ্যে একটি মেনে নিয়ে অন্যটি প্রত্যাখ্যান করার অবস্থান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাঁরা কাজ করছেন। সে লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ ৯ মাসে অনুষ্ঠিত ৮৩টি অধিবেশনে খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ব্যাখ্যা করে খেলাফত মজলিসের আমীর বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই ছিল এই লড়াইয়ের প্রধান উদ্দেশ্য, যেখানে দলীয় আনুগত্য, সুপারিশ কিংবা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সম্পর্কের বদলে কেবল মেধার ভিত্তিতে চাকরি ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিবাদের চিরতরে অবসান ঘটানো এবং ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদী শাসন যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্যই জুলাই জাতীয় সনদে বৈষম্য ও স্বৈরাচারী শাসনের পথ রুদ্ধ করার বিভিন্ন প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

সংবিধান সংস্কার ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংস্কারের স্বার্থে তাঁরা সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে রাজি আছেন। এমনকি সরকার যদি সংবিধান সংস্কার, বৈষম্য দূরীকরণ এবং ফ্যাসিবাদের চিরতরে বিলোপে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়, তবে পাঁচ বছর পর্যন্ত সরকারের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলনে না যাওয়ার কথা বিবেচনা করতেও তাঁরা প্রস্তুত। তবে এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। মামুনুল হক পরিষ্কার জানিয়ে দেন, সংবিধান সংস্কার এবং রাষ্ট্রে স্থায়ী পরিবর্তনের যেসব প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছিল তা পূরণ না হলে বিএনপি ইতিহাসে 'বিশ্বাসঘাতক' হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

দেশের চলমান পরিস্থিতি ও জনদুর্ভোগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, চাঁদাবাজি, অনিয়ম কিংবা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও সারের মতো জরুরি খাতের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ষোলোআনা ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নেবে না। এসব জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধান না হলে রাজপথের প্রতিবাদ আরও তীব্র রূপ নেবে। জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণ দেওয়া শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, অগণিত মানুষের রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে একটি স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটানো হয়েছে অন্য কোনো নতুন ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার জন্ম দেওয়ার জন্য নয়। এসময় তিনি শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করে দেশজুড়ে কর্মসূচি পালন করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এই নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করে খেলাফত মজলিস। সংগঠনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ আকিলপুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নোমান আহমদ সাদিকের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা আব্দুল আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহসিনুল হাসান, সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাঈদ ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মুফতি হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।