ভারতের আন্দোলনরত তরুণদের পাশে ঢাকা থেকে সংহতি নাহিদের
- আপডেট সময় : ০৫:০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ইংরেজিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বার্তা দেন, ‘এই লড়াই শুধু আপনাদের একার নয়। ঢাকা থেকে আমরা আপনাদের পাশে আছি।’ ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম কেন্দ্রীয় সংগঠক নাহিদ নির্বাচনী জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে সোচ্চার ভারতীয় তরুণ ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর প্রতি এই সমর্থন জানান।
বিবৃতিতে নতুন দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী, সংগঠক ও সাংবাদিকদের সাম্প্রতিক আটক, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ এবং যন্তর মন্তরে বিধিনিষেধ আরোপের তীব্র সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি এসব পদক্ষেপকে মৌলিক স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। সুষ্ঠু নির্বাচন ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের স্বচ্ছ জবাব দেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, ব্যারিকেড বা সেন্সরশিপ দিয়ে কখনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, জবাবদিহিমূলক ক্ষমতা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মানবিক মর্যাদার অভিন্ন দাবিতে বন্ধনে আবদ্ধ বন্ধু হিসেবে ঢাকা থেকে তারা ভারতীয় তরুণদের পাশে রয়েছেন। দেশবাসীও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই লড়াইকে তারা গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। একই সঙ্গে গণ-অভ্যুত্থানের সময় ভারতীয় শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীনচেতা কণ্ঠস্বরগুলোর পক্ষ থেকে পাওয়া সমর্থনের কথাও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, হিন্দুত্ববাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ, ফ্যাসিবাদ কিংবা কোনো ধরনের ধর্মীয় আধিপত্য দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। বাংলাদেশের মতো ভারতের ক্ষেত্রেও যেকোনো ধরনের কর্তৃত্ববাদ, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতাকে প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান তিনি। ধর্ম, জাতপাত, লিঙ্গ বা শ্রেণিনির্বিশেষে সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভিত্তিতে এই অঞ্চলের অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ার তাগিদ দেন নাহিদ। তিনি বলেন, যে সমাজে সংখ্যালঘুরা ভয়ের মধ্যে বসবাস করে, ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের অধিকার নির্ধারিত হয়, তা প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক হতে পারে না।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে আটক সংগঠকদের কোথায় রাখা হয়েছে এবং কী আইনি ভিত্তিতে আটক করা হয়েছে, তা প্রকাশের জোর দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার কারণে যাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং সাংবাদিকেরা যাতে ভয়ভীতি বা সরঞ্জাম জব্দের শিকার না হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড, পানি বণ্টন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে নাহিদ বলেন, ‘আমাদের সংগ্রামগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।’ ভারতের গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকারীদের অবিচল থাকার এবং একে অপরকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ প্রতিহত করতে হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎকে ফ্যাসিবাদ ও বিভাজনের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। ঢাকা থেকে এবং জুলাই প্রজন্মের অপূর্ণ গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার জায়গা থেকেই তারা সংহতি জানিয়ে যাচ্ছেন।





























