এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে নিজের বাল্যবিবাহ রুখে দিল তানিয়া
- আপডেট সময় : ০৭:৫৯:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার তানিয়া খাতুন যখন নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকানোর লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিল, ঠিক তখনই প্রকাশিত হয় তার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল। মেধাবী এই শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ তো পেয়েছেই, পাশাপাশি সব বিষয়ে এ-প্লাস অর্জন করে সবাইকে চমকে দিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বরের মধ্যে রসায়নে ১০০-তে ১০০ এবং পদার্থবিজ্ঞানে ৯৯ ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে এই দুর্দান্ত ফলাফলের আনন্দ ছাপিয়ে তার মাথায় তখন ঘুরছিল বিয়ের দুশ্চিন্তা ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা। সবশেষে অবশ্য শিক্ষকদের সহায়তা এবং এসএসসিতে অসাধারণ ফলাফলের কারণে এ যাত্রায় বাল্যবিবাহের হাত থেকে রেহাই মেলে প্রতিবাদী তানিয়ার।
১৭ বছর বয়সী মোসাম্মত তানিয়া খাতুন পরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তে বিয়ের খবর পায়। নিজের ও মায়ের অমত থাকলেও পরিবারের অন্যরা অভাব-অনটন ও সামাজিক নিরাপত্তার অজুহাতে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করছিলেন। তানিয়া বিয়ের পর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার শর্ত দিলেও ছেলেপক্ষ তা মেনে নেয়নি। তানিয়ার মা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হওয়ায় তিনি শুরু থেকেই এই বিয়ের বিপক্ষে ছিলেন, যা তানিয়ার লড়াইয়ের বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
তানিয়ার বিয়ের আলাপ ছড়িয়ে পড়লে সে ও তার মা স্কুলের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির শিক্ষক আকলিমা খাতুনের কাছে যান। আকলিমা খাতুন তানিয়ার পরিবারকে বলেন, এত ভালো রেজাল্ট করা মেয়েকে এভাবে বিয়ে দেওয়া উচিত নয়, কারণ পাঁচ বছর ধরে পড়ানোর সুবাদে তাদেরও মেয়ের ওপর অধিকার আছে। এরপর শিক্ষক আকলিমা খাতুন, ফয়েজুল হক ও স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী সাকিবুর রহমান তানিয়ার পরিবারকে বোঝাতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা তানিয়াকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে যান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি হওয়ায় তানিয়ার পরিবার বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। বর্তমানে তানিয়া সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছে এবং ভালো ফলের সুবাদে বিনা মূল্যে প্রাইভেট পড়ার সুযোগ পেয়েছে।
আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস, যার এবারের প্রতিপাদ্য ‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করো, মেয়েদের অধিকারে বিনিয়োগ করো’। তবে বিবিএস ও ইউনিসেফের এমআইসিএস-২০২৫ জরিপ বলছে, দেশে বাল্যবিবাহের হার ২০১৯ সালের ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ৪৭ দশমিক ২ শতাংশে নামলেও ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে ১৮ বছর এবং ১৩ দশমিক ৪ শতাংশের ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই হয়েছে। এছাড়া ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীর হার ২০১৯ সালের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। কিশোরী জন্মহারও প্রতি হাজারে ৮৩টি থেকে বেড়ে ৯২টিতে দাঁড়িয়েছে। বাল্যবিবাহের পেছনে মূলত ঝরে পড়া, অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক রীতি, আইন প্রয়োগের দুর্বলতা এবং জন্মনিবন্ধনের ঘাটতিকে দায়ী করা হচ্ছে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী নারীর বিয়ের বয়স ১৮ ও পুরুষের ২১ বছর নির্ধারিত থাকলেও বিশেষ ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশে ও অভিভাবকের সম্মতিতে ব্যতিক্রমের সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ২০১৯ সালে ১৫-১৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীর হার ছিল ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ।




























