হঠাৎ সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ১০:১৩:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হঠাৎ বিএনপির সংসদীয় দলের সভা আহ্বান করেছেন। আগামীকাল রোববার সন্ধ্যা ছয়টায় জাতীয় সংসদের সরকারি দলের সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণত সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার দু–এক দিন আগে বা অধিবেশনের মধে৵ সংসদীয় দলের সভা হয়; কিন্তু এবার সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ নির্ধারণের আগেই সভা ডাকার বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদ অধিবেশন শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, নিয়মিত বৈঠকের বাইরে এই জরুরি সভা ডাকার পেছনে দলের নেতা-কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ডেকেছেন এবং তিনি নিশ্চয়ই কিছু জরুরি বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন।
সভায় মূলত দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ ক্ষমতাসীন দলের জন্য একটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিরপুরে একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি)-এর পদত্যাগের বিষয়টি এবং এর জেরে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিনটি কমিটি বিলুপ্ত ও ১৪ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কারের ঘটনাটি দলীয় শৃঙ্খলার কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংবিধান সংশোধনের বিষয়টিও বর্তমানে সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি কাজ করছে। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন যে, ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন। সংসদীয় দলের বৈঠকে এ বিষয়ে দলের অবস্থান ও সংসদ সদস্যদের করণীয় নিয়ে নির্দেশনা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপির জন্য একটি বড় সাংগঠনিক পরীক্ষা। জাতীয় নির্বাচনের পর তৃণমূলের প্রত্যাশা ও ক্ষোভ সামলানো এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে সভায় আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে কমিটি পুনর্গঠন ও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিষয়ে সিদ্ধান্তসহ সার্বিক সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়েও দিকনির্দেশনা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।



























