ঢাকা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারত ছাড়ার ঘোষণা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সিজেপির দায়িত্ব অজিঙ্কা শিন্ডের কাঁধে, আটক সিপিএম নেতা ও পিনারাই বিজয়ন প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, নীলক্ষেতে বিক্ষোভ প্রকৃতি রক্ষায় আমাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি ঢাকায় ছয় মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি বাস, ৯৮টি রুট কমে ৩২ আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রানে থামল বাংলাদেশ কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি আহত, বিজিবির পাল্টা গুলি মক্কা-মদিনার মর্যাদার প্রশ্নে আপস করবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভবিষ্যতের ঝামেলা এড়াতে সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যা: আদালতে সৎমা ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে সরব শাবানা আজমি ও নাসিরউদ্দিন শাহ

প্রকৃতি রক্ষায় আমাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৪৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মানুষের চাহিদা মেটানোর মূল উৎস প্রকৃতি, কিন্তু শিল্প বিপ্লবের পর থেকে মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। এই চাহিদার বিরূপ প্রভাব পড়ছে সরাসরি পরিবেশের ওপর। কারখানার বর্জ্য মাটি ও সাগরে মিশছে, বর্জ্য পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া বায়ুকে দূষিত করছে এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার মাটির ক্ষতি করছে। এভাবে মানুষের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে পরিবেশের প্রতিটি উপাদান আজ দূষণের শিকার।

সুইডেনের মতো উন্নত দেশগুলোতে পরিবেশ সচেতনতা বেশ প্রকট, যার একটি উদাহরণ তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি গ্রেটা তুনবার্গ। দেশটিতে প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার কমাতে ব্যাগের দাম দুই ক্রোনার থেকে বাড়িয়ে সাত ক্রোনার করা হয়েছে। কাগজের ব্যাগের দাম পলিথিনের তুলনায় কিছুটা কম। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, দোকানে ব্যাগ কিনতে গিয়ে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে তরুণ প্রজন্মের কঠোর মনোভাবের মুখোমুখি হতে হয়। তবে পরিবেশ রক্ষার দায়ভার কেবল নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা ব্যক্তির নয়, বরং এটি বৈশ্বিক।

পরিবেশ দূষণের পেছনে প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট কারণই প্রধান। বিশেষ করে 'ডার্টি ডজন' নামে পরিচিত ১২টি মারাত্মক রাসায়নিক দ্রব্য পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি করছে। এর মধ্যে ৮টি কীটনাশক যেমন অলড্রিন, ডায়েলড্রিন, ক্লোরডেন, এনড্রিন, হেপ্টাক্লোর, ডিডিটি, মিরেক্স এবং টক্সাফেন; দুটি শিল্পজাত রাসায়নিক পিসিবি ও হেক্সাক্লোরোবেনজিন; এবং কারখানায় উৎপাদিত উপজাত ডাইওক্সিন ও ফিউরান অন্তর্ভুক্ত। এগুলো খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে ক্যান্সার, ভ্রূণ বিকাশে সমস্যা এবং ত্রুটিপূর্ণ শিশুর জন্মের জন্য দায়ী।

পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ফলে পানি, বায়ু, মাটি ও শব্দ দূষণ ক্রমাগত বাড়ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, পরিবেশ দূষণের সাথে পাল্লা দিয়ে মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ও ঘটছে। হত্যা, দুর্নীতি, ঘুষ ও অশুভ প্রতিযোগিতার মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। সাগরের পানি দূষণের ফলে জলজ জীবন বিপন্ন হচ্ছে এবং মৌমাছির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় পরাগায়নের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ছে।

আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পরিবেশ সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের এখনই সময়। প্লাস্টিকের উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধ করার পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। সুইডেনের মতো বাংলাদেশেও সরকার ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আমরা যদি প্রকৃতির সাথে মিতালি গড়ি এবং পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করি, তবেই সুন্দর পৃথিবী আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়া সম্ভব হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রকৃতি রক্ষায় আমাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি

আপডেট সময় : ০১:৪৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মানুষের চাহিদা মেটানোর মূল উৎস প্রকৃতি, কিন্তু শিল্প বিপ্লবের পর থেকে মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। এই চাহিদার বিরূপ প্রভাব পড়ছে সরাসরি পরিবেশের ওপর। কারখানার বর্জ্য মাটি ও সাগরে মিশছে, বর্জ্য পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া বায়ুকে দূষিত করছে এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার মাটির ক্ষতি করছে। এভাবে মানুষের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে পরিবেশের প্রতিটি উপাদান আজ দূষণের শিকার।

সুইডেনের মতো উন্নত দেশগুলোতে পরিবেশ সচেতনতা বেশ প্রকট, যার একটি উদাহরণ তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি গ্রেটা তুনবার্গ। দেশটিতে প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার কমাতে ব্যাগের দাম দুই ক্রোনার থেকে বাড়িয়ে সাত ক্রোনার করা হয়েছে। কাগজের ব্যাগের দাম পলিথিনের তুলনায় কিছুটা কম। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, দোকানে ব্যাগ কিনতে গিয়ে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে তরুণ প্রজন্মের কঠোর মনোভাবের মুখোমুখি হতে হয়। তবে পরিবেশ রক্ষার দায়ভার কেবল নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা ব্যক্তির নয়, বরং এটি বৈশ্বিক।

পরিবেশ দূষণের পেছনে প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট কারণই প্রধান। বিশেষ করে 'ডার্টি ডজন' নামে পরিচিত ১২টি মারাত্মক রাসায়নিক দ্রব্য পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি করছে। এর মধ্যে ৮টি কীটনাশক যেমন অলড্রিন, ডায়েলড্রিন, ক্লোরডেন, এনড্রিন, হেপ্টাক্লোর, ডিডিটি, মিরেক্স এবং টক্সাফেন; দুটি শিল্পজাত রাসায়নিক পিসিবি ও হেক্সাক্লোরোবেনজিন; এবং কারখানায় উৎপাদিত উপজাত ডাইওক্সিন ও ফিউরান অন্তর্ভুক্ত। এগুলো খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে ক্যান্সার, ভ্রূণ বিকাশে সমস্যা এবং ত্রুটিপূর্ণ শিশুর জন্মের জন্য দায়ী।

পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ফলে পানি, বায়ু, মাটি ও শব্দ দূষণ ক্রমাগত বাড়ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, পরিবেশ দূষণের সাথে পাল্লা দিয়ে মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ও ঘটছে। হত্যা, দুর্নীতি, ঘুষ ও অশুভ প্রতিযোগিতার মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। সাগরের পানি দূষণের ফলে জলজ জীবন বিপন্ন হচ্ছে এবং মৌমাছির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় পরাগায়নের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ছে।

আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পরিবেশ সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের এখনই সময়। প্লাস্টিকের উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধ করার পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। সুইডেনের মতো বাংলাদেশেও সরকার ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আমরা যদি প্রকৃতির সাথে মিতালি গড়ি এবং পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করি, তবেই সুন্দর পৃথিবী আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়া সম্ভব হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh