সিরাজগঞ্জে আগাম মাসকালাই চাষে বাম্পার ফলনের আশা
- আপডেট সময় : ০৮:০৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের মাসকালাই চাষে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা। ইতিমধ্যে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ তৈরি হয়েছে, যা ভালো ফলনের আশা জাগাচ্ছে স্থানীয় চাষিদের মনে।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলায় মোট ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে মাসকালাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে কৃষকেরা ইতিমধ্যে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে এই ডাল চাষ সম্পন্ন করেছেন। প্রায় দেড় থেকে দুই মাস আগে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে আগাম জাতের মাসকালাই বপন করা হয়। চাষ করা জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে বারি-৩, বারি-৪, বারি-৬ এবং বিনা-১। এর আগে গত আগস্ট মাসে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে সরকারিভাবে বারি-৩ জাতের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছিল।
জেলার শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, চৌহালী, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলগুলোতে মাসকালাইয়ের চাষ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। এ ছাড়া কৃষকেরা অন্যান্য জাতের মাসকালাইও চাষ করছেন, যার বীজ বপন আগামী মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে। স্থানীয় চাষিরা জানান, সাধারণত খাল-বিলের ধার, নদীর পাড়, বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিতে এই চাষ করা হয়। কম খরচে অধিক লাভের সুযোগ থাকায় প্রতি বছরের মতো এবারও তারা মাসকালাই চাষে ঝুঁকেছেন।
চরাঞ্চলে উৎপাদিত দেশি মাসকালাই গরুর খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। তবে বারি-৩ জাতের মাসকালাই আর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কাটা ও মাড়াই শুরু হবে। নতুন এই ডালের বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা স্থানীয় হাটবাজার থেকে তা কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন। ভালো দাম পাওয়ার আশায় কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যাচ্ছে। যদিও অতিবৃষ্টির কারণে চরাঞ্চলসহ কিছু এলাকায় ফসল নষ্ট হয়েছিল, তবে কৃষকেরা পুনরায় সেখানে বীজ বুনেছেন।
এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেরিন আহম্মেদ জানান, কম খরচে লাভজনক এই আগাম জাতের মাসকালাই চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এই চাষাবাদ বেশি হচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবারও মাসকালাইয়ের বাম্পার ফলন হবে এবং কৃষকেরা লাভবান হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




























