প্রাকৃতিক এসি হিসেবে নিমগাছ: পরিবেশ শীতল রাখার অনন্য উপায়
- আপডেট সময় : ১২:০৭:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

প্রকৃতির এক অনন্য দান হলো নিমগাছ, যা পরিবেশ রক্ষায় অসাধারণ ভূমিকা পালন করে। নিমের কার্বন ডাই-অক্সাইড ফিক্সেশন করার ক্ষমতা অন্যান্য গাছের তুলনায় অনেক বেশি। এটি প্রতি সেকেন্ডে প্রতি বর্গ মিটারে ১৪ মাইক্রোমোল কার্বন ডাই-অক্সাইড ঠিক করতে পারে। এছাড়া সালফার ডাই-অক্সাইডসহ অন্যান্য দূষণকারী উপাদানের বিরুদ্ধে এটি একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি পরিপক্ক নিমগাছের অর্থনৈতিক রিটার্ন বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২৭ লক্ষ থেকে ৩৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
পরিবেশ শীতল ও বিশুদ্ধ রাখতে নিমগাছের তুলনা হয় না। একটি পূর্ণবয়স্ক নিমগাছ একসাথে ৮০ টন এসির সমপরিমাণ বাতাস ঠান্ডা রাখতে সক্ষম। এর ছায়াতলে তাপমাত্রা বাইরের পরিবেশের চেয়ে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কম থাকতে পারে। নিমগাছ প্রচুর পরিমাণে সীসা ছাড়াও ধূলিকণা, কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার অক্সাইড এবং নাইট্রোজেনের মতো দূষক শোষণ করতে পারে। শুষ্ক মৌসুমে পাতা ঝরে গেলেও খুব দ্রুত নতুন পাতা গজিয়ে এটি নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলে।
ভারতের ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ১৯৯৬ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, শিল্প এলাকা ও শহরের দূষণ দূর করতে নিমগাছ সবচেয়ে উপযুক্ত প্রজাতি এবং এটি পরিচিত হট স্পটগুলোতে সবুজ বেল্ট হিসেবে কাজ করে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সম্রাট অশোক খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতেই নিমগাছসহ অন্যান্য বহুবর্ষজীবী গাছ যেমন টেমারিন্ডাস ইন্ডিকা এবং মধুকা লাতিফোলিয়া রাস্তার ধারে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
বাড়ির চারপাশে নিমগাছ লাগিয়ে আপনি সহজেই একটি 'মাইক্রোক্লাইমেট' তৈরি করতে পারেন। মাইক্রোক্লাইমেট হলো এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার তাপমাত্রা আশপাশের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি কমিয়ে শীতল রাখা সম্ভব। এর জন্য সুনির্দিষ্ট গাছ, জলাধার এবং পরিকল্পিত স্থানের প্রয়োজন হয়। বাড়ির চারপাশে নিমগাছের সবুজ বেল্ট তৈরি করা নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য একটি সেরা বিনিয়োগ হতে পারে।




























