কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ১২:২১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর আমদানি নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রোববার সচিবালয়ে নিজের কার্যালয় থেকে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এই তাগিদ দেন। এ সময় তিনি লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব কৃষিপণ্য দেশে উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধিতে গবেষণা, উন্নত জাতের ব্যবহার, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা দ্রুত কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। তিনি দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও বেশি উৎপাদনশীল ও লাভজনক করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোজ্য তেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষার উৎপাদন বাড়ানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু নতুন ফসলের জাত মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ফসলের ১ হাজার ৯০টি জাত উদ্ভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে ধানের জাত রয়েছে ১৫৫টি। এ ছাড়া ১ হাজারেরও বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রণালয় জানায়, সুলভমূল্যে কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সেচ খরচ কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় দেশে বর্তমানে ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা রয়েছে।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির বিষয়ে বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন।





























