ঢাকা ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংবিধান সংশোধনের নামে নতুন গণভোট জাতির সাথে তামাশা: রাশেদ প্রধান কিছু করে দেখান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘ছোটদের সময় প্রকাশনী’র ৮ নতুন বইয়ের প্রকাশ কৃষকরাই দেশের শ্রেষ্ঠ মানুষ, তাদের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ: রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদপুরে জমি দখলের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই কর্ণফুলী ইপিজেডে ২০ বছরে বিনিয়োগ ৪১২ গুণ বৃদ্ধি নদীর সংখ্যা আছে, কিন্তু প্রাণ হারিয়েছে বাংলাদেশের নদ-নদী আলোকঝাড়ীর ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের মৃত্যুতে হুইপের শোক চট্টগ্রাম আদালতে নারীকে টেনেহিঁচড়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: কূটনীতিই একমাত্র সমাধানের পথ, দাবি তেহরানের

নদীর সংখ্যা আছে, কিন্তু প্রাণ হারিয়েছে বাংলাদেশের নদ-নদী

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:১৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হিসেবে পরিচিত, যেখানে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, বিষখালী, বলেশ্বর ও আন্দারমানিকসহ অসংখ্য নদী কৃষি, মৎস্য ও নৌ-পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নদীর প্রবাহ প্রকৃতিকে সজীব রাখে এবং জনপদ, শহর ও বাজারের বিকাশে সহায়তা করে। তবে বর্তমানে দেশের নদীগুলোর অবস্থা উদ্বেগজনক। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে নদ-নদীর সংখ্যা ১,৪১৫টি। কিন্তু নদীমাতৃক এই পরিচয়ের আড়ালে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে এসেছে—মানচিত্রে নদীর সংখ্যা থাকলেও, আসলে কতটি নদী এখনো জীবিত আছে?

অস্তিত্ব সংকটের মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অবৈধ দখল, শিল্প ও নগরবর্জ্যের কারণে দূষণ, নদী ভরাট এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। নদীগুলো এখন শুধু জলপথ বা সীমানা নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে লাশের ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত হয়েছে। দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থাকায় নদী রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। নদী রক্ষার আইন ও প্রতিষ্ঠান থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগের অভাব রয়েছে। অনেক সময় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও দখলদাররা পুনরায় ফিরে আসে।

একটি নদীর প্রাণ তার স্বাভাবিক প্রবাহ, জোয়ার-ভাটায় পানির ওঠানামা, মাছের বিচরণ এবং পাড়ের প্রতিবেশব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। নদীকে কেবল ভোগের সম্পদ হিসেবে দেখার মানসিকতাই আজ বিপর্যয় ডেকে এনেছে। নদী ভরাট করে জমি দখলের প্রবণতা সমাজের গভীরে প্রোথিত। নদী শুকিয়ে গেলে কৃষক সেচের সংকটে পড়েন, মৎস্যজীবীর জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নাব্যতা কমলে নৌপথের গুরুত্ব কমে যায়। এছাড়া, নদী দখল ও সংকোচনের ফলে বন্যা ও ভাঙনের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।

নদী রক্ষায় প্রয়োজন সমন্বিত নদী-স্বাস্থ্য মূল্যায়ন। শুধু দখলমুক্ত করা বা খনন করাই যথেষ্ট নয়; নদীর পানির গুণমান, সারা বছর প্রবাহ এবং জলাভূমির সাথে সংযোগ বজায় রাখা জরুরি। উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে নদীর প্রতিবেশব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নদী ব্যবস্থাপনায় জেলে, কৃষক, নৌকার মাঝি এবং স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও গবেষকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া, নদী-সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী করা সময়ের দাবি।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন নদী সংরক্ষণে কাজ করলেও তাদের নির্বাহী ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র এখনো আশাব্যঞ্জক নয়। পরিবেশ ও উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা না করলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নদী মরে গেলে একটি ভূখণ্ডের অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য ও স্মৃতিও হারিয়ে যায়। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নদী বাঁচানো আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে শুধু আলোচনা সীমাবদ্ধ না রেখে, নদী রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

নদীর সংখ্যা আছে, কিন্তু প্রাণ হারিয়েছে বাংলাদেশের নদ-নদী

আপডেট সময় : ০৭:১৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হিসেবে পরিচিত, যেখানে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, বিষখালী, বলেশ্বর ও আন্দারমানিকসহ অসংখ্য নদী কৃষি, মৎস্য ও নৌ-পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নদীর প্রবাহ প্রকৃতিকে সজীব রাখে এবং জনপদ, শহর ও বাজারের বিকাশে সহায়তা করে। তবে বর্তমানে দেশের নদীগুলোর অবস্থা উদ্বেগজনক। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে নদ-নদীর সংখ্যা ১,৪১৫টি। কিন্তু নদীমাতৃক এই পরিচয়ের আড়ালে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে এসেছে—মানচিত্রে নদীর সংখ্যা থাকলেও, আসলে কতটি নদী এখনো জীবিত আছে?

অস্তিত্ব সংকটের মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অবৈধ দখল, শিল্প ও নগরবর্জ্যের কারণে দূষণ, নদী ভরাট এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। নদীগুলো এখন শুধু জলপথ বা সীমানা নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে লাশের ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত হয়েছে। দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থাকায় নদী রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। নদী রক্ষার আইন ও প্রতিষ্ঠান থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগের অভাব রয়েছে। অনেক সময় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও দখলদাররা পুনরায় ফিরে আসে।

একটি নদীর প্রাণ তার স্বাভাবিক প্রবাহ, জোয়ার-ভাটায় পানির ওঠানামা, মাছের বিচরণ এবং পাড়ের প্রতিবেশব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। নদীকে কেবল ভোগের সম্পদ হিসেবে দেখার মানসিকতাই আজ বিপর্যয় ডেকে এনেছে। নদী ভরাট করে জমি দখলের প্রবণতা সমাজের গভীরে প্রোথিত। নদী শুকিয়ে গেলে কৃষক সেচের সংকটে পড়েন, মৎস্যজীবীর জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নাব্যতা কমলে নৌপথের গুরুত্ব কমে যায়। এছাড়া, নদী দখল ও সংকোচনের ফলে বন্যা ও ভাঙনের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।

নদী রক্ষায় প্রয়োজন সমন্বিত নদী-স্বাস্থ্য মূল্যায়ন। শুধু দখলমুক্ত করা বা খনন করাই যথেষ্ট নয়; নদীর পানির গুণমান, সারা বছর প্রবাহ এবং জলাভূমির সাথে সংযোগ বজায় রাখা জরুরি। উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে নদীর প্রতিবেশব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নদী ব্যবস্থাপনায় জেলে, কৃষক, নৌকার মাঝি এবং স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও গবেষকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া, নদী-সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী করা সময়ের দাবি।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন নদী সংরক্ষণে কাজ করলেও তাদের নির্বাহী ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র এখনো আশাব্যঞ্জক নয়। পরিবেশ ও উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা না করলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নদী মরে গেলে একটি ভূখণ্ডের অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য ও স্মৃতিও হারিয়ে যায়। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নদী বাঁচানো আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে শুধু আলোচনা সীমাবদ্ধ না রেখে, নদী রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh