শ্যামনগরের চিংড়ি হ্যাচারিতে দেশের প্রথম ফোল্ডিং সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু
- আপডেট সময় : ০৫:৪৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অবস্থিত বাগদা চিংড়ির রেণু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘ওশান হ্যাচারি’তে চালু হয়েছে ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি অত্যাধুনিক হাইব্রিড সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের মৎস্য ও চিংড়ি হ্যাচারি খাতে এটিই প্রথম ভাঁজযোগ্য (ফোল্ডিং) আধুনিক সৌর প্যানেল প্রযুক্তির ব্যবহার, যা দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
নতুন এই প্রযুক্তির কারিগরি সুবিধা সম্পর্কে সাইমার পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক (অপারেশনস) সাইমা সাজেদুল করিম জানান, বিশেষ ফোল্ডিং সুবিধার কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী প্যানেলগুলো একপাশে সরিয়ে নেওয়া যাবে। এর ফলে হ্যাচারির ট্যাংক শুকানোর কাজ সহজে করা সম্ভব হবে। এছাড়া শক্তিশালী ব্যাটারি ব্যাকআপ থাকায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ না থাকলেও ওশান হ্যাচারিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসেবা বজায় থাকবে।
পরিবেশবান্ধব এই প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করেছে সাইমার পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ও জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশ। গত বুধবার প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সূচনা উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা শ্যামনগরের এই হ্যাচারিটি পরিদর্শন করেন।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ওশান হ্যাচারির মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করতে পারবে, যা দেশের সামগ্রিক জ্বালানি খাতে বড় অবদান রাখবে।
প্রকল্প পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চায়না জেনিক্সগ্রিনের পরিচালক ডন, জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান, ওজোপাডিকোর কর্মকর্তা সোয়াইব হোসেন এবং সাইমার পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর গোলাম মোস্তফাসহ স্থানীয় কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগটি সফল হলে দেশের মৎস্য ও চিংড়িশিল্পে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে।






















