৩৫ রুপি বেতনে পোস্টার আঁকা নানা পাটেকার আর নেই
- আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নানা পাটেকার আর নেই। বৃহস্পতিবার ভোরে ভারতের গোয়ায় নিজ বাড়িতে ৭৫ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে জনপ্রিয়তা ও সাফল্যের শিখরে পৌঁছালেও তার শুরুর জীবন ছিল চরম দারিদ্র্য ও কঠিন সংগ্রামে ভরা।
এক সাক্ষাৎকারে নানা পাটেকার জানিয়েছিলেন, স্কুলে পড়ার সময় তিনি প্রায় আট কিলোমিটার পথ হেঁটে মুম্বাইয়ের চুনাভাট্টিতে যেতেন। সেখানে তিনি সিনেমার পোস্টার আঁকার কাজ করতেন। সেই সময় তার মাসিক আয় ছিল মাত্র ৩৫ রুপি। অভাবের সংসারে দিনে একবার খাবার জোগাড় করাই ছিল তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বাবার সম্পত্তি হারানোর পর তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি ঘটেছিল, আর সেই সময়ের ক্ষুধা ও আর্থিক অনিশ্চয়তার অভিজ্ঞতা তার জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছিল।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে কাজ শুরু করা নানা পাটেকার নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই সিনেমার পোস্টার আঁকতেন। পরবর্তীতে অভিনয়ে এসে ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে প্রথম বড় সুযোগ পান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নি সাক্ষী’, ‘আব তক ছাপ্পান’, ‘নটসম্রাট’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সেই ৩৫ রুপি মাসিক আয় একসময় কয়েক কোটি রুপির পারিশ্রমিকে পৌঁছায়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জীবনের শেষদিকে একটি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিতেন। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন উপস্থিতি ও ব্র্যান্ড-সংশ্লিষ্ট কাজ থেকেও তার আয় হতো।
বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েও নানা পাটেকার অনাড়ম্বর জীবনযাপনের জন্য পরিচিত ছিলেন। মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে প্রায় ৭৫০ বর্গফুটের একটি এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে তিনি দীর্ঘদিন বসবাস করেছেন। কয়েক দশক আগে প্রায় ১ দশমিক ১ লাখ রুপিতে কেনা সেই ফ্ল্যাটের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি রুপি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া গোয়ায় তার একটি বাড়ির পাশাপাশি পুনের খাদকওয়াসলার কাছে প্রায় ২৭ একরের একটি খামারবাড়ি ছিল, যেখানে তিনি গম ও ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করতেন।
বিলাসবহুল গাড়ির প্রতিও তার বিশেষ আগ্রহ ছিল না। তার গাড়ির তালিকায় ছিল মাহিন্দ্রা জিপ সিজে৪, মাহিন্দ্রা স্করপিও ও অডি কিউ৭। বিলাসিতার চেয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিতেন। জানা যায়, একবার দেড় কোটি রুপি দামের একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, ওই অর্থ বরং কৃষকদের সহায়তায় ব্যয় করা যেতে পারে। দারিদ্র্য থেকে কোটি রুপির পারিশ্রমিক পর্যন্ত নানা পাটেকারের এই জীবনযাত্রা কেবল অর্থনৈতিক সাফল্যের গল্প নয়, বরং কঠিন সংগ্রাম পেরিয়ে নিজের প্রতিভায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এক অনন্য উদাহরণ।




























