ভারতে ভোটার তালিকা যাচাই নিয়ে বিতর্ক ও দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক
- আপডেট সময় : ০৯:১৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

ভারতে প্রায় ১০০ কোটি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের সরকারি উদ্যোগ দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়েছে। তাদের দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) অন্যায্য সুবিধা লাভ করেছে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যাচাইপ্রক্রিয়ায় তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ ব্যক্তি আগের ঠিকানা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন এবং প্রায় তিন কোটি ব্যক্তির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়ার বিষয়টি বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভোটাররা তুলনামূলকভাবে বেশি বাদ পড়েছেন। এসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিজেপির প্রতি সমর্থন কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনের ফলাফলেও এই ভোটার তালিকা পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে বলে বিরোধীরা দাবি করছেন।
বিরোধী দল ও তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে। এই দাবিতে শনিবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনের পর থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন ও ডিজিটাল পদ্ধতি নিয়ে দুজন নির্বাচন কমিশনার ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন, যা আমলে নেওয়া হয়নি।
তবে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপির দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা ও ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণেই দলটি নির্বাচনে আধিপত্য ধরে রেখেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক এবং কোনো রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।
আগামী বছর ভারতের অন্তত সাতটি রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে উত্তর প্রদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যও রয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া ও এরপর পুনরায় পরিচয় ও যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়ার জটিল প্রক্রিয়ার কারণে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে অনেক মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন, এই পদ্ধতিকে ভবিষ্যতের নির্বাচনে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।




























