ঢাকা ০২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলা, বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় দিল্লির বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, অস্বস্তিতে সরকার নারায়ণগঞ্জে আদালতপাড়ায় যাওয়ার পথে প্রবীণ আইনজীবীর মৃত্যু দুর্গাপূজা ও লক্ষ্মীপূজায় ৬ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ কোম্পানীগঞ্জে স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে তৎপর বিএনপি, দৌড়ঝাঁপে একাধিক প্রার্থী শিল্পকলায় গ্রাফিতিতে চুনকালি: রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার চারজন শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেন সিজেপির তিন শীর্ষ নেতা ভুল হিসাব-নিকাশে ইয়েমেনের যুদ্ধে নতুন করে জড়িয়ে পড়লো সৌদি আরব যুব উন্নয়ন নিয়োগ পরীক্ষা ফাঁস: তদন্তে অগ্রাধিকার পাচ্ছে দুটি বিষয়

মানুষকে চূড়ান্ত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয় যে সাতটি কবিরা গুনাহ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মানুষ মাত্রই ভুল ও গুনাহের মুখোমুখি হতে পারে, তবে সব পাপের পরিণতি এক নয়। কিছু পাপ মানুষের ঈমানকে দুর্বল করে, আবার কিছু অপরাধ ব্যক্তি থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ ও সম্পূর্ণ জাতির ধ্বংস ডেকে আনে। ইসলামী পরিভাষায় এসব মারাত্মক পাপকে কবিরা গুনাহ বা মহাপাপ বলা হয়ে থাকে। এ ধরনের অপরাধ থেকে অনুসারীদের দূরে থাকতে বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশিত মারাত্মক এসব পাপকে চিহ্নিত করতে ‘আল-মুবিকাত’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যার অর্থ এমন ধ্বংসাত্মক অপরাধ যা দুনিয়াতে চরম বিপর্যয় এবং আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির মুখোমুখি করে। বিখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন—তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক পাপ থেকে বেঁচে থাকো। সাহাবিরা এর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, জাদু করা, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, সুদ খাওয়া, এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শত্রুর মুখোমুখি হয়ে পলায়ন করা এবং সতী ঈমানদার ও নিরপরাধ নারীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের মিথ্যা অপবাদ দেওয়া—এই সাতটি পাপাচারের কথা উল্লেখ করেন (বুখারি, হাদিস : ২৭৬৬)।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব অপরাধ কেবল ব্যক্তিগত পাপাচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এগুলোর প্রতিটি সামাজিক ও নৈতিক ভিত্তি ধ্বংস করে দেয়। এর মধ্যে প্রথমটি হলো শরিক বা শিরক করা, যা মহান আল্লাহর একত্ববাদকে অস্বীকার করে এবং কোরআনের ভাষায় সর্ববৃহৎ জুলুম হিসেবে চিহ্নিত। সুরা আন-নিসার ৪৮ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করার অপরাধ ক্ষমা করবেন না। দ্বিতীয়ত, জাদু করা হলো ঈমান ও সমাজ বিনাশের এক মারাত্মক মাধ্যম। সুরা আল-বাকারার ১৯২ নম্বর আয়াতে হারুত ও মারুতের ঘটনার বর্ণনায় এসেছে, তারা এমন বিদ্যা শিখত যা দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটানো হতো। বর্তমানে তাবিজ, কুফুরি মন্ত্র, জাদু ও প্রতারণার নামে বহু মানুষ ঈমান ও সম্পদ হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তৃতীয় অপরাধটি হলো অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা। ইসলামে মানবজীবনের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। সুরা আল-মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াত অনুযায়ী, একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা পুরো মানবজাতিকে হত্যা করার শামিল। কেবল অস্ত্র দিয়ে নয়, বরং পরিকল্পিত নির্যাতন, সন্ত্রাস কিংবা যে কোনো উপায়ে জীবন বিনষ্টের পথ তৈরি করাও এর আওতাভুক্ত। চতুর্থ মারাত্মক পাপাচার হলো সুদ খাওয়া, যা ব্যক্তি ও সমাজের অর্থনৈতিক সুষম ব্যবস্থা নষ্ট করে। সুরা আল-বাকারার ২৭৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, সুদ পরিত্যাগ না করলে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা রয়েছে।

পঞ্চম অপরাধ হলো পিতৃহীন এতিম শিশুর সম্পদ আত্মসাৎ করা। সুরা আন-নিসার ১০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ জানান, যারা অন্যায়ভাবে এতিমের ধন-সম্পদ ভক্ষণ করে, তারা প্রকৃতপক্ষে নিজেদের পেটে আগুনই ভর্তি করছে এবং অচিরেই জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। ষষ্ঠত, জিহাদের ময়দানে শত্রুর সামনে থেকে কাপুরুষের মতো পালিয়ে যাওয়া বড় গুনাহ, কারণ এতে পুরো মুসলিম সমাজ ঝুঁকির মুখে পড়ে। তবে কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন বা অন্য দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে সরে যাওয়া এর ব্যতিক্রম, যা সুরা আল-আনফালের ১৫-১৬ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। সপ্তম অপরাধ হলো কারো সম্মানহানি করা, বিশেষ করে পবিত্র ও ঈমানদার নারীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের কুৎসা রটানো। সুরা আন-নূরের ২৩ নম্বর আয়াত অনুযায়ী, যারা সতী ও নিরপরাধ নারীর ওপর মিথ্যা অপবাদ দেয়, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।

এই সাতটি ধ্বংসাত্মক অপরাধের কিছু আল্লাহর হক নষ্ট করে, কিছু বান্দার হক ক্ষুণ্ন করে এবং কিছু সমাজব্যবস্থাকে চরম বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেয়। তাই প্রতিটি মুমিনের জন্য নিজে এসব থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও সচেতন রাখা অপরিহার্য।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

মানুষকে চূড়ান্ত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয় যে সাতটি কবিরা গুনাহ

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মানুষ মাত্রই ভুল ও গুনাহের মুখোমুখি হতে পারে, তবে সব পাপের পরিণতি এক নয়। কিছু পাপ মানুষের ঈমানকে দুর্বল করে, আবার কিছু অপরাধ ব্যক্তি থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ ও সম্পূর্ণ জাতির ধ্বংস ডেকে আনে। ইসলামী পরিভাষায় এসব মারাত্মক পাপকে কবিরা গুনাহ বা মহাপাপ বলা হয়ে থাকে। এ ধরনের অপরাধ থেকে অনুসারীদের দূরে থাকতে বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশিত মারাত্মক এসব পাপকে চিহ্নিত করতে ‘আল-মুবিকাত’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যার অর্থ এমন ধ্বংসাত্মক অপরাধ যা দুনিয়াতে চরম বিপর্যয় এবং আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির মুখোমুখি করে। বিখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন—তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক পাপ থেকে বেঁচে থাকো। সাহাবিরা এর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, জাদু করা, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, সুদ খাওয়া, এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শত্রুর মুখোমুখি হয়ে পলায়ন করা এবং সতী ঈমানদার ও নিরপরাধ নারীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের মিথ্যা অপবাদ দেওয়া—এই সাতটি পাপাচারের কথা উল্লেখ করেন (বুখারি, হাদিস : ২৭৬৬)।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব অপরাধ কেবল ব্যক্তিগত পাপাচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এগুলোর প্রতিটি সামাজিক ও নৈতিক ভিত্তি ধ্বংস করে দেয়। এর মধ্যে প্রথমটি হলো শরিক বা শিরক করা, যা মহান আল্লাহর একত্ববাদকে অস্বীকার করে এবং কোরআনের ভাষায় সর্ববৃহৎ জুলুম হিসেবে চিহ্নিত। সুরা আন-নিসার ৪৮ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করার অপরাধ ক্ষমা করবেন না। দ্বিতীয়ত, জাদু করা হলো ঈমান ও সমাজ বিনাশের এক মারাত্মক মাধ্যম। সুরা আল-বাকারার ১৯২ নম্বর আয়াতে হারুত ও মারুতের ঘটনার বর্ণনায় এসেছে, তারা এমন বিদ্যা শিখত যা দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটানো হতো। বর্তমানে তাবিজ, কুফুরি মন্ত্র, জাদু ও প্রতারণার নামে বহু মানুষ ঈমান ও সম্পদ হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তৃতীয় অপরাধটি হলো অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা। ইসলামে মানবজীবনের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। সুরা আল-মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াত অনুযায়ী, একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা পুরো মানবজাতিকে হত্যা করার শামিল। কেবল অস্ত্র দিয়ে নয়, বরং পরিকল্পিত নির্যাতন, সন্ত্রাস কিংবা যে কোনো উপায়ে জীবন বিনষ্টের পথ তৈরি করাও এর আওতাভুক্ত। চতুর্থ মারাত্মক পাপাচার হলো সুদ খাওয়া, যা ব্যক্তি ও সমাজের অর্থনৈতিক সুষম ব্যবস্থা নষ্ট করে। সুরা আল-বাকারার ২৭৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, সুদ পরিত্যাগ না করলে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা রয়েছে।

পঞ্চম অপরাধ হলো পিতৃহীন এতিম শিশুর সম্পদ আত্মসাৎ করা। সুরা আন-নিসার ১০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ জানান, যারা অন্যায়ভাবে এতিমের ধন-সম্পদ ভক্ষণ করে, তারা প্রকৃতপক্ষে নিজেদের পেটে আগুনই ভর্তি করছে এবং অচিরেই জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। ষষ্ঠত, জিহাদের ময়দানে শত্রুর সামনে থেকে কাপুরুষের মতো পালিয়ে যাওয়া বড় গুনাহ, কারণ এতে পুরো মুসলিম সমাজ ঝুঁকির মুখে পড়ে। তবে কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন বা অন্য দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে সরে যাওয়া এর ব্যতিক্রম, যা সুরা আল-আনফালের ১৫-১৬ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। সপ্তম অপরাধ হলো কারো সম্মানহানি করা, বিশেষ করে পবিত্র ও ঈমানদার নারীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের কুৎসা রটানো। সুরা আন-নূরের ২৩ নম্বর আয়াত অনুযায়ী, যারা সতী ও নিরপরাধ নারীর ওপর মিথ্যা অপবাদ দেয়, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।

এই সাতটি ধ্বংসাত্মক অপরাধের কিছু আল্লাহর হক নষ্ট করে, কিছু বান্দার হক ক্ষুণ্ন করে এবং কিছু সমাজব্যবস্থাকে চরম বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেয়। তাই প্রতিটি মুমিনের জন্য নিজে এসব থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও সচেতন রাখা অপরিহার্য।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin