কৌশলগত স্বার্থে তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ভারত
- আপডেট সময় : ০৮:৫৬:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

কাশ্মীর ইস্যুতে তুরস্কের অবস্থান এবং পাকিস্তানের সঙ্গে দেশটির সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হলেও, নয়াদিল্লি তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কের দরজা বন্ধ করতে চায় না। বরং ভারত তার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থে তুরস্কের সঙ্গে মাদক পাচার দমন, নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের মতো ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। ভারতের লক্ষ্য হলো তুরস্কের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রেখে ইসলামী বিশ্বে নিজেদের প্রভাব বাড়ানো এবং ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার বাজারে প্রবেশের সুযোগ কাজে লাগানো।
ভারত ও তুরস্কের সম্পর্কের এই টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। কাশ্মীর ইস্যুতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান বারবার পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে আসছেন। ২০১৯ সালে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থেকেই এরদোয়ান এ বিষয়ে সরব। ২০২০ ও ২০২১ সালের পর সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যেও তিনি কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলেন। ওই বক্তব্যে তিনি কাশ্মীরসহ দক্ষিণ এশিয়ার সব বিরোধ জাতিসংঘ সনদ ও সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের কাঠামোর মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান।
এর জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ও দ্বিপক্ষীয় বিষয় এবং এ বিষয়ে বাইরের কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নজিরও রয়েছে। সম্প্রতি তুরস্ক থেকে মাদক পাচারকারী নাভপ্রীত সিংকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ বলে অভিহিত করেছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও অপরাধ দমন ও নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, কাশ্মীর ইস্যু ও পাকিস্তানের সঙ্গে আঙ্কারার ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কে চাপ তৈরি করলেও, উভয় পক্ষই অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রয়োজনে সহযোগিতার সুযোগ ধরে রাখতে চায়।



























