ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০২৭ সালেও মুখোমুখি হচ্ছে পিএসএল ও আইপিএল জঙ্গল সলিমপুরে নতুন পুলিশ একাডেমি ও কারাগার হচ্ছে কটিয়াদীতে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ৫ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান ও বাহরাইনের সংলাপের আহ্বান চরফ্যাশনে জেলেদের খাদ্য সহায়তা তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তজুমদ্দিনে নজরুল বর্ষের বক্তৃতায় মাদরাসা শিক্ষার্থীর সাফল্য রিয়াদে বিস্ফোরণ ও কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হিজবুল্লাহকে ২০ কোটি ডলার সহায়তা দিলো ইরান বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মেসির বিদায়ী ম্যাচে বেনিন দলের সঙ্গে ‘চরম অবমাননা’র অভিযোগ

মিরসরাইয়ে গৃহায়নের ৪২ কোটির প্রকল্পে ১০ বছরেও মেলেনি প্লট

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:১২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসনের স্বপ্নপূরণে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) দুটি প্রকল্প হাতে নিলেও দীর্ঘ এক দশকেও তা সফলতার মুখ দেখেনি। কিছমত জাফরাবাদ ও সোনাপাহাড়—এই দুটি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য এখন অনিয়ম, আত্মসাৎ, মামলা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভেস্তে যেতে বসেছে।

উপজেলার ১৬ দশমিক ২৮ একর জমির ওপর বাস্তবায়নাধীন ‘কিছমত জাফরাবাদ’ আবাসন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৪২ কোটি ৩৭ লাখ ২১ হাজার টাকা। ১৬৩টি আবাসিক ও ৪টি বাণিজ্যিক প্লট বরাদ্দ দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও প্রায় ১০ বছরেও উন্নয়ন কাজ শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এর ফলে কোনো গ্রাহকই তাদের প্লট বুঝে পাননি।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই প্রকল্পে মাটি ভরাটের কাজে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। ৮৭ হাজার ৯৩ ঘনমিটার মাটি ভরাট দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হলেও দুদকের নিরপেক্ষ প্রকৌশলীদের পরিমাপে পাওয়া যায় মাত্র ৪৩ হাজার ১২৯ ঘনমিটার। অসত্য তথ্য দিয়ে ৪৮ লাখ ৭৭ হাজার ৮৯৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (চট্টগ্রাম-২) একটি মামলা দায়ের করে। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জাগৃকের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদ, সাবেক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. অলিউল ইসলাম, উপসহকারী প্রকৌশলী আশ্রাফুজ্জামান ও ঠিকাদার মাঈনুল কবির। মামলাটি বর্তমানে জেলা স্পেশাল জজ আদালতে বিচারাধীন।

দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তবে তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হাসান অভিযোগ করেছেন যে, বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও জাগৃক নথিপত্র সরবরাহ করছে না। অভিযুক্ত প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদ ও আশ্রাফুজ্জামান তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। এদিকে, কিছমত জাফরাবাদ প্রকল্পটি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ১৮ কোটি টাকার নতুন দরপত্র আহ্বান করা হলেও ঠিকাদারদের শর্ত পূরণ না হওয়ায় তা পুনরায় আহ্বানের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাগৃক চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলাম।

অন্যদিকে, ১৬ দশমিক ৪৮ একরের ‘সোনাপাহাড়’ প্রকল্পের চিত্র আরও হতাশাজনক। ২০১৭ সালেই ১৮৩ জন গ্রাহকের কাছে প্লটের দলিল হস্তান্তর করা হলেও গত নয় বছরে সেখানে কোনো বসতি গড়ে ওঠেনি। তদারকির অভাবে সীমানা প্রাচীরে ঘেরা প্লটগুলো এখন মাদকসেবী ও অপরাধীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। প্রকল্পের শত শত বৈদ্যুতিক খুঁটির তার চোরেরা খুলে নিয়ে গেছে এবং ঝোপজঙ্গলে সাপের উপদ্রব বেড়েছে।

সোনাপাহাড় হাউজিং এস্টেট প্লট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার জানান, নিরাপত্তা না থাকায় এবং বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি স্থায়ী আনসার ক্যাম্প ও নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী প্লট মালিক নাছির উদ্দীন জানান, ১০ বছর আগে জমানো টাকা দিয়ে প্লট কিনে এখন তিনি স্বপ্নভঙ্গের শিকার। স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন প্রকল্প দুটির অনিয়ম খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২: ৩৬আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২: ৫৬

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

মিরসরাইয়ে গৃহায়নের ৪২ কোটির প্রকল্পে ১০ বছরেও মেলেনি প্লট

আপডেট সময় : ০১:১২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসনের স্বপ্নপূরণে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) দুটি প্রকল্প হাতে নিলেও দীর্ঘ এক দশকেও তা সফলতার মুখ দেখেনি। কিছমত জাফরাবাদ ও সোনাপাহাড়—এই দুটি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য এখন অনিয়ম, আত্মসাৎ, মামলা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভেস্তে যেতে বসেছে।

উপজেলার ১৬ দশমিক ২৮ একর জমির ওপর বাস্তবায়নাধীন ‘কিছমত জাফরাবাদ’ আবাসন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৪২ কোটি ৩৭ লাখ ২১ হাজার টাকা। ১৬৩টি আবাসিক ও ৪টি বাণিজ্যিক প্লট বরাদ্দ দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও প্রায় ১০ বছরেও উন্নয়ন কাজ শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এর ফলে কোনো গ্রাহকই তাদের প্লট বুঝে পাননি।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই প্রকল্পে মাটি ভরাটের কাজে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। ৮৭ হাজার ৯৩ ঘনমিটার মাটি ভরাট দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হলেও দুদকের নিরপেক্ষ প্রকৌশলীদের পরিমাপে পাওয়া যায় মাত্র ৪৩ হাজার ১২৯ ঘনমিটার। অসত্য তথ্য দিয়ে ৪৮ লাখ ৭৭ হাজার ৮৯৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (চট্টগ্রাম-২) একটি মামলা দায়ের করে। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জাগৃকের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদ, সাবেক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. অলিউল ইসলাম, উপসহকারী প্রকৌশলী আশ্রাফুজ্জামান ও ঠিকাদার মাঈনুল কবির। মামলাটি বর্তমানে জেলা স্পেশাল জজ আদালতে বিচারাধীন।

দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তবে তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হাসান অভিযোগ করেছেন যে, বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও জাগৃক নথিপত্র সরবরাহ করছে না। অভিযুক্ত প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদ ও আশ্রাফুজ্জামান তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। এদিকে, কিছমত জাফরাবাদ প্রকল্পটি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ১৮ কোটি টাকার নতুন দরপত্র আহ্বান করা হলেও ঠিকাদারদের শর্ত পূরণ না হওয়ায় তা পুনরায় আহ্বানের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাগৃক চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলাম।

অন্যদিকে, ১৬ দশমিক ৪৮ একরের ‘সোনাপাহাড়’ প্রকল্পের চিত্র আরও হতাশাজনক। ২০১৭ সালেই ১৮৩ জন গ্রাহকের কাছে প্লটের দলিল হস্তান্তর করা হলেও গত নয় বছরে সেখানে কোনো বসতি গড়ে ওঠেনি। তদারকির অভাবে সীমানা প্রাচীরে ঘেরা প্লটগুলো এখন মাদকসেবী ও অপরাধীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। প্রকল্পের শত শত বৈদ্যুতিক খুঁটির তার চোরেরা খুলে নিয়ে গেছে এবং ঝোপজঙ্গলে সাপের উপদ্রব বেড়েছে।

সোনাপাহাড় হাউজিং এস্টেট প্লট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার জানান, নিরাপত্তা না থাকায় এবং বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি স্থায়ী আনসার ক্যাম্প ও নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী প্লট মালিক নাছির উদ্দীন জানান, ১০ বছর আগে জমানো টাকা দিয়ে প্লট কিনে এখন তিনি স্বপ্নভঙ্গের শিকার। স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন প্রকল্প দুটির অনিয়ম খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২: ৩৬আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২: ৫৬

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh