ঢাকা ০৭:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৫ বছরের জন্য নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেল ডিপি ওয়ার্ল্ড দেশে হাম ও উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু গৌরনদীতে ঋণের চাপে চা দোকানির গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য আমি: ডোনাল্ড ট্রাম্প চরফ্যাশনে অসময়ে তরমুজ চাষে কৃষক মিজানের অভাবনীয় সাফল্য সেন্টমার্টিন উপকূলে ৪২ কোটি টাকার ইয়াবা ও হেরোইন জব্দ দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ১৯৩৫ রোগী বিশ্ব অক্টোপাস দিবস আজ: রহস্যময় এই প্রাণীর বিস্ময়কর সব তথ্য মানবিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনে সুনির্দিষ্ট সংস্কারের তাগিদ রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন

চরফ্যাশনে জেলেদের খাদ্য সহায়তা তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে সরকার ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য নদী ও সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারো জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাদের উপার্জনের পথও রুদ্ধ হয়েছে। অনেক জেলে ধার-দেনা করে জাল ও নৌকা প্রস্তুত করে নদীতে নামলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবার নিয়ে চরম খাদ্যসংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিলেও সেই সহায়তার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জেলেরা। তাদের অভিযোগ, তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত অনেক জেলেকে বাদ দিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মাদ্রাজ ইউনিয়নের সামরাজ এলাকার জেলেরা জানান, বছরের পর বছর নদীতে মাছ ধরলেও অনেক সময় সরকারি তালিকায় তাদের নাম থাকে না। তারা প্রকৃত জেলেদের যাচাই করে নতুন তালিকা তৈরির দাবি জানিয়েছেন।

মেঘনা-২ বোটের জেলে জহির উদ্দিন বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে কোনো চাল, টাকা বা সরকারি সহায়তা পাননি। সন্তানদের নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে সময় কাটছে তার। অপর জেলে হোসেন বেপারি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় মাছ ধরার পেশায় জড়িত থাকলেও নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি। অনিয়মের কারণে প্রকৃত জেলেরা তালিকায় স্থান পাচ্ছেন না বলে তিনি দাবি করেন।

চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৪১ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৭৫৬ জন জেলে বরাদ্দের আওতায় রয়েছেন। নিবন্ধিত জেলেদের জনপ্রতি ২৫ কেজি করে মোট ৮৯১.৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বরাদ্দের বাইরেও কয়েক হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়ে গেছেন।

তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় সময়মতো চাল না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, কম দেওয়া বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না। ট্যাগ অফিসারদের উপস্থিতিতে চাল বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ চাল আত্মসাৎ বা অনিয়ম করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত জেলেরা যাতে সহায়তা পান তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে তালিকা যাচাই করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

চরফ্যাশনে জেলেদের খাদ্য সহায়তা তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে সরকার ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য নদী ও সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারো জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাদের উপার্জনের পথও রুদ্ধ হয়েছে। অনেক জেলে ধার-দেনা করে জাল ও নৌকা প্রস্তুত করে নদীতে নামলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবার নিয়ে চরম খাদ্যসংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিলেও সেই সহায়তার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জেলেরা। তাদের অভিযোগ, তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত অনেক জেলেকে বাদ দিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মাদ্রাজ ইউনিয়নের সামরাজ এলাকার জেলেরা জানান, বছরের পর বছর নদীতে মাছ ধরলেও অনেক সময় সরকারি তালিকায় তাদের নাম থাকে না। তারা প্রকৃত জেলেদের যাচাই করে নতুন তালিকা তৈরির দাবি জানিয়েছেন।

মেঘনা-২ বোটের জেলে জহির উদ্দিন বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে কোনো চাল, টাকা বা সরকারি সহায়তা পাননি। সন্তানদের নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে সময় কাটছে তার। অপর জেলে হোসেন বেপারি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় মাছ ধরার পেশায় জড়িত থাকলেও নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি। অনিয়মের কারণে প্রকৃত জেলেরা তালিকায় স্থান পাচ্ছেন না বলে তিনি দাবি করেন।

চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৪১ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৭৫৬ জন জেলে বরাদ্দের আওতায় রয়েছেন। নিবন্ধিত জেলেদের জনপ্রতি ২৫ কেজি করে মোট ৮৯১.৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বরাদ্দের বাইরেও কয়েক হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়ে গেছেন।

তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় সময়মতো চাল না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, কম দেওয়া বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না। ট্যাগ অফিসারদের উপস্থিতিতে চাল বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ চাল আত্মসাৎ বা অনিয়ম করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত জেলেরা যাতে সহায়তা পান তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে তালিকা যাচাই করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh