ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চরফ্যাশনে অসময়ে তরমুজ চাষে কৃষক মিজানের অভাবনীয় সাফল্য সেন্টমার্টিন উপকূলে ৪২ কোটি টাকার ইয়াবা ও হেরোইন জব্দ দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ১৯৩৫ রোগী বিশ্ব অক্টোপাস দিবস আজ: রহস্যময় এই প্রাণীর বিস্ময়কর সব তথ্য মানবিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনে সুনির্দিষ্ট সংস্কারের তাগিদ রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন সাহিত্যে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কারসন কর্মকর্তাদের কর্তৃত্ববাদী না হয়ে সেবক হওয়ার আহ্বান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর রূপগঞ্জে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ ও বাস ভাঙচুর, যান চলাচল স্বাভাবিক দৌলতখানের ৭৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

দৌলতখানের ৭৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ভোলার দৌলতখান উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার মোট ১০৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৩টিতেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের দিয়ে কোনোমতে চালানো হচ্ছে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম। এর ফলে একদিকে যেমন শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান ও বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দৌলতখানের ১০৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৩৩টিতে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন। বাকি ৭৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২১টিতে চলতি দায়িত্বে এবং ৫২টিতে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সহকারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। শুধু প্রধান শিক্ষকই নয়, সহকারী শিক্ষক পদেও রয়েছে বড় ধরনের শূন্যতা। উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের ৫৪টি পদ খালি রয়েছে। তবে সম্প্রতি নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ জন সহকারী শিক্ষক শূন্য পদে যোগদান করেছেন বলে শিক্ষা অফিস জানিয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়গুলোতে নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরি পদের সংকটও স্পষ্ট; ১০৬টি বিদ্যালয়ের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬৩ জন।

দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম কতটা কঠিন হয়ে পড়েছে, তা উঠে এসেছে স্থানীয় শিক্ষকদের বক্তব্যে। উপজেলার মধ্য হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য। সেখানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গোলাম রহমান আজাদ। তিনি জানান, বছরের পর বছর প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক ও সার্বিক কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে তাকে অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে। নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে দক্ষিণ জয়নগর শমাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। সেখানে প্রায় দেড় যুগ ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি। বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জান্নাতুল আসমা বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। একই সংকটে ধুঁকছে দৌলতখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে ছয়জন শিক্ষকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন, যার ওপর আবার প্রধান শিক্ষকের পদটিও শূন্য। বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবেয়া বেগম জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে একই সঙ্গে পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে, যা দাপ্তরিক কাজের চরম বিঘ্ন ঘটাচ্ছে。

এ বিষয়ে দৌলতখান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মু. জাহিদ উদ্দিন জানান, আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান ও সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হওয়া নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে দ্রুত এসব শূন্য পদ পূরণ করে বিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

দৌলতখানের ৭৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ভোলার দৌলতখান উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার মোট ১০৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৩টিতেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের দিয়ে কোনোমতে চালানো হচ্ছে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম। এর ফলে একদিকে যেমন শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান ও বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দৌলতখানের ১০৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৩৩টিতে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন। বাকি ৭৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২১টিতে চলতি দায়িত্বে এবং ৫২টিতে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সহকারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। শুধু প্রধান শিক্ষকই নয়, সহকারী শিক্ষক পদেও রয়েছে বড় ধরনের শূন্যতা। উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের ৫৪টি পদ খালি রয়েছে। তবে সম্প্রতি নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ জন সহকারী শিক্ষক শূন্য পদে যোগদান করেছেন বলে শিক্ষা অফিস জানিয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়গুলোতে নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরি পদের সংকটও স্পষ্ট; ১০৬টি বিদ্যালয়ের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬৩ জন।

দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম কতটা কঠিন হয়ে পড়েছে, তা উঠে এসেছে স্থানীয় শিক্ষকদের বক্তব্যে। উপজেলার মধ্য হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য। সেখানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গোলাম রহমান আজাদ। তিনি জানান, বছরের পর বছর প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক ও সার্বিক কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে তাকে অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে। নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে দক্ষিণ জয়নগর শমাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। সেখানে প্রায় দেড় যুগ ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি। বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জান্নাতুল আসমা বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। একই সংকটে ধুঁকছে দৌলতখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে ছয়জন শিক্ষকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন, যার ওপর আবার প্রধান শিক্ষকের পদটিও শূন্য। বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবেয়া বেগম জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে একই সঙ্গে পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে, যা দাপ্তরিক কাজের চরম বিঘ্ন ঘটাচ্ছে。

এ বিষয়ে দৌলতখান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মু. জাহিদ উদ্দিন জানান, আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান ও সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হওয়া নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে দ্রুত এসব শূন্য পদ পূরণ করে বিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh