জঙ্গল সলিমপুরে নতুন পুলিশ একাডেমি ও কারাগার হচ্ছে
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে রাজশাহীর সারদা একাডেমির আদলে একটি নতুন পুলিশ একাডেমি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ওই এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারও স্থানান্তর করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সলিমপুরের অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের জন্য ইতিমধ্যে জঙ্গল সলিমপুরে ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া সেখানে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জায়গা নেওয়া হয়েছে। এসব জায়গায় সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।
বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) নেতৃত্বে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। সভায় এই উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন মৌজায় পাহাড় শ্রেণি বা খাসজমি মিলিয়ে প্রচুর সরকারি জায়গা রয়েছে। এই সমস্ত জমিকে সুশাসনের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকাটি একসময় সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখান থেকে মুক্ত করে পুরো এলাকায় শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা হবে। এছাড়া সেখানকার অবৈধ বসতিগুলো সরিয়ে কীভাবে তাদের পুনর্বাসন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওই এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসা হবে।
একই দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাহাড়ি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, পাহাড়ি এলাকায় প্রতিনিয়ত অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধ ঘটছে। সবার পরামর্শ অনুযায়ী, এসব অপরাধ বন্ধ করতে কক্সবাজারের নোয়াখালীপাড়া ও রঙ্গিখালিতে দুটি নতুন সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দুটি ক্যাম্প সেনাবাহিনীর ১০ ডিভিশনের অধীনে পরিচালিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে (প্রথম আলো) প্রকাশিত পুলিশের আইজিপির একটি সাক্ষাৎকারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইজিপির বক্তব্য অনুযায়ী জনগণের আস্থা ধরে রাখাই পুলিশের সবচেয়ে বড় কাজ। তিনি বলেন, "জন-আস্থা আমরা অর্জন করেছি। জন-আস্থাটা কতটুকু অর্জন করতে পেরেছি, সেটার বিচার করবে জনগণ।" এই জন-আস্থা বজায় রাখা এবং তা আরও বেশি সুদৃঢ় করাকে সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।



























