ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাংবাদিকদের নিয়ে ছাত্রদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষুব্ধ সংবাদকর্মীরা ১৮ কোটি মানুষের নিরাপদ পানির জন্য ২.১ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী উপকূলের পানিতে লবণাক্ততার সঙ্গে আর্সেনিক, জীবাণু ও সিসার মারাত্মক ঝুঁকি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের দাবিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশের সামনে অবস্থান গুণগত শিক্ষার বদলে পাসের রাজনীতি হয়েছে: রিজভী নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা জিয়াউল আহসানের, ভার্চ্যুয়াল শুনানির প্রস্তাব প্রসিকিউশনের দেওয়ানগঞ্জে ৫০ হাজার টাকায় ৪ মাসের শিশু বিক্রির অভিযোগ, দাদির আহাজারি ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে বিধবার টিপসই নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ মাধবপুরে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা ট্রাম্প প্রশাসনের চাপে ভুয়া তথ্যবিরোধী সম্মেলন থেকে সরে গেল ইইউ

ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে বিধবার টিপসই নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার এক গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪৩ বছর বয়সী এক বিধবার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেওয়া হয়। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াত নেতা আবদুস ছাত্তার ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে কৌশলে তাঁর কাছ থেকে একটি কাগজে টিপসই নেন। কয়েক দিন পর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে যে ওই নারীর বিয়ে হয়ে গেছে এবং তাঁকে একটি কাবিননামাও দেখানো হয়। অথচ ওই নারী কোনো বিয়েতে সম্মতি দেননি বলে দাবি করেছেন।

ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম রয়েছে। ভুক্তভোগী নারী জানান, কুদ্দুস এর আগেও তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। কুদ্দুসের সংসারে স্ত্রী সুফিয়া খাতুন, সন্তান ও নাতি-নাতনি রয়েছে। প্রায় ১৩ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে ওই নারী মানুষের জমিতে কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করে বিয়ে দিয়েছেন। ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমি কোথাও বিয়ে করতে যাইনি, কোনো কাজিকেও দেখিনি। অভিযুক্ত আবদুল কুদ্দুসের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন জানান, বিয়ের বিষয়টি তাঁর স্বামী তাঁকে আগে জানাননি। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর কুদ্দুস ‘কোর্ট ম্যারেজ’ করেছেন বলে দাবি করছেন।

অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার নিজেকে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন এবং একটি কসমেটিকসের দোকান চালান। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে তিনি কোনো টিপসই নেননি এবং জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক জানান, ছাত্তার জামায়াতের পদধারী নেতা নন, তবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বিষয়টিকে সাজানো বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন।

কাবিননামায় কাজি গোলাম মোস্তফার নাম উল্লেখ থাকলেও তিনি বিয়ে সম্পন্ন করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। কাজি গোলাম মোস্তফার দাবি, এটি সম্পূর্ণ জাল কাগজ এবং ২০২০ সালেও এমন একটি জালিয়াতির ঘটনায় তিনি থানায় জিডি করেছিলেন। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে নাম থাকা আবদুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের মধ্যে সাইফুল দাবি করেন, তিনি কোনো বিয়ের সাক্ষী হননি।

এ বিষয়ে এলাকায় দুই দফা সালিস বৈঠক হলেও অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস উপস্থিত হননি। সালিসে নেতৃত্ব দেওয়া মোহাম্মদ রুস্তম আলী জানান, শুক্রবার পর্যন্ত তাঁদের সময় দেওয়া হয়েছে, এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানিয়েছেন, এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে বিধবার টিপসই নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার এক গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪৩ বছর বয়সী এক বিধবার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেওয়া হয়। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াত নেতা আবদুস ছাত্তার ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে কৌশলে তাঁর কাছ থেকে একটি কাগজে টিপসই নেন। কয়েক দিন পর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে যে ওই নারীর বিয়ে হয়ে গেছে এবং তাঁকে একটি কাবিননামাও দেখানো হয়। অথচ ওই নারী কোনো বিয়েতে সম্মতি দেননি বলে দাবি করেছেন।

ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম রয়েছে। ভুক্তভোগী নারী জানান, কুদ্দুস এর আগেও তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। কুদ্দুসের সংসারে স্ত্রী সুফিয়া খাতুন, সন্তান ও নাতি-নাতনি রয়েছে। প্রায় ১৩ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে ওই নারী মানুষের জমিতে কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করে বিয়ে দিয়েছেন। ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমি কোথাও বিয়ে করতে যাইনি, কোনো কাজিকেও দেখিনি। অভিযুক্ত আবদুল কুদ্দুসের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন জানান, বিয়ের বিষয়টি তাঁর স্বামী তাঁকে আগে জানাননি। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর কুদ্দুস ‘কোর্ট ম্যারেজ’ করেছেন বলে দাবি করছেন।

অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার নিজেকে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন এবং একটি কসমেটিকসের দোকান চালান। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে তিনি কোনো টিপসই নেননি এবং জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক জানান, ছাত্তার জামায়াতের পদধারী নেতা নন, তবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বিষয়টিকে সাজানো বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন।

কাবিননামায় কাজি গোলাম মোস্তফার নাম উল্লেখ থাকলেও তিনি বিয়ে সম্পন্ন করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। কাজি গোলাম মোস্তফার দাবি, এটি সম্পূর্ণ জাল কাগজ এবং ২০২০ সালেও এমন একটি জালিয়াতির ঘটনায় তিনি থানায় জিডি করেছিলেন। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে নাম থাকা আবদুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের মধ্যে সাইফুল দাবি করেন, তিনি কোনো বিয়ের সাক্ষী হননি।

এ বিষয়ে এলাকায় দুই দফা সালিস বৈঠক হলেও অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস উপস্থিত হননি। সালিসে নেতৃত্ব দেওয়া মোহাম্মদ রুস্তম আলী জানান, শুক্রবার পর্যন্ত তাঁদের সময় দেওয়া হয়েছে, এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানিয়েছেন, এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo