ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে বিধবার টিপসই নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৩:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার এক গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪৩ বছর বয়সী এক বিধবার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেওয়া হয়। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াত নেতা আবদুস ছাত্তার ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে কৌশলে তাঁর কাছ থেকে একটি কাগজে টিপসই নেন। কয়েক দিন পর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে যে ওই নারীর বিয়ে হয়ে গেছে এবং তাঁকে একটি কাবিননামাও দেখানো হয়। অথচ ওই নারী কোনো বিয়েতে সম্মতি দেননি বলে দাবি করেছেন।
ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম রয়েছে। ভুক্তভোগী নারী জানান, কুদ্দুস এর আগেও তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। কুদ্দুসের সংসারে স্ত্রী সুফিয়া খাতুন, সন্তান ও নাতি-নাতনি রয়েছে। প্রায় ১৩ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে ওই নারী মানুষের জমিতে কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করে বিয়ে দিয়েছেন। ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমি কোথাও বিয়ে করতে যাইনি, কোনো কাজিকেও দেখিনি। অভিযুক্ত আবদুল কুদ্দুসের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন জানান, বিয়ের বিষয়টি তাঁর স্বামী তাঁকে আগে জানাননি। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর কুদ্দুস ‘কোর্ট ম্যারেজ’ করেছেন বলে দাবি করছেন।
অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার নিজেকে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন এবং একটি কসমেটিকসের দোকান চালান। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে তিনি কোনো টিপসই নেননি এবং জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক জানান, ছাত্তার জামায়াতের পদধারী নেতা নন, তবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বিষয়টিকে সাজানো বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন।
কাবিননামায় কাজি গোলাম মোস্তফার নাম উল্লেখ থাকলেও তিনি বিয়ে সম্পন্ন করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। কাজি গোলাম মোস্তফার দাবি, এটি সম্পূর্ণ জাল কাগজ এবং ২০২০ সালেও এমন একটি জালিয়াতির ঘটনায় তিনি থানায় জিডি করেছিলেন। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে নাম থাকা আবদুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের মধ্যে সাইফুল দাবি করেন, তিনি কোনো বিয়ের সাক্ষী হননি।
এ বিষয়ে এলাকায় দুই দফা সালিস বৈঠক হলেও অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস উপস্থিত হননি। সালিসে নেতৃত্ব দেওয়া মোহাম্মদ রুস্তম আলী জানান, শুক্রবার পর্যন্ত তাঁদের সময় দেওয়া হয়েছে, এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানিয়েছেন, এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


























