রিয়াদে বিস্ফোরণ ও কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি
- আপডেট সময় : ০৪:৪১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) রিয়াদজুড়ে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার মধ্যেই গোষ্ঠীটি এই দাবি তোলে। তবে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে হুতিদের এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কূটনীতিকদের নিজ নিজ দূতাবাসে অবস্থান করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক স্কুলগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগের দিন কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতিদের ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছিলেন। একই দিনে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আবহা বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় আরও দুজন নিহত ও ২৮ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন মরক্কোর ও অন্যজন আলজেরিয়ার নাগরিক। এসব হামলার কারণে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দুই বিমানবন্দরেই ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালকি জানিয়েছেন, রিয়াদের উত্তরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের একটি প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি জোট।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতিদের হামলার প্রবণতা বেড়েছে। এর পাল্টা জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি পুনর্দখলে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। বিশ্বের প্রায় ১২ শতাংশ বাণিজ্য এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি দিয়ে পরিচালিত হয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের মতে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার মাধ্যমে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়িয়ে দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে হুতিরা। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর গত জুলাই মাস থেকে ২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে ইয়েমেন এখন অন্যতম সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।





























