ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য আমি: ডোনাল্ড ট্রাম্প চরফ্যাশনে অসময়ে তরমুজ চাষে কৃষক মিজানের অভাবনীয় সাফল্য সেন্টমার্টিন উপকূলে ৪২ কোটি টাকার ইয়াবা ও হেরোইন জব্দ দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ১৯৩৫ রোগী বিশ্ব অক্টোপাস দিবস আজ: রহস্যময় এই প্রাণীর বিস্ময়কর সব তথ্য মানবিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনে সুনির্দিষ্ট সংস্কারের তাগিদ রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন সাহিত্যে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কারসন কর্মকর্তাদের কর্তৃত্ববাদী না হয়ে সেবক হওয়ার আহ্বান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর রূপগঞ্জে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ ও বাস ভাঙচুর, যান চলাচল স্বাভাবিক

ইরানের হামলা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে ক্যালিফোর্নিয়ায় তীব্র ক্ষোভ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:১৪:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইরানের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো শহরকে জড়িয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া এক বক্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ‘অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন’ ও ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণভাবে চাপের মুখে পড়লে বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে এমন উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক বক্তব্য দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

গত ৫ অক্টোবর নেব্রাস্কায় আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। সেখানে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনাকালে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগোর প্রসঙ্গ টানেন। ট্রাম্প বলেন, ইরান চাইলে একটি শহর ধ্বংস করে দিতে পারে। এরপর লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগোর উদাহরণ দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখার জন্য এই ধরনের মূল্য দেওয়া হলেও তা তুলনামূলকভাবে একটি ‘ছোট মূল্য’।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর ক্যালিফোর্নিয়া জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ট্রাম্পকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মূল্যায়নের জন্য রাজ্যের জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রকে (ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার) সক্রিয় করেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস এবং সান দিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়াও এই বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন। মেয়র গ্লোরিয়া স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সান দিয়েগো কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো যুদ্ধের ‘মূল্য’ হতে পারে না।

এই বিতর্কের মুখে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং ট্রাম্পের বক্তব্যের পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প মার্কিন কোনো শহরে হামলার আহ্বান জানাননি। চিউংয়ের মতে, ট্রাম্প মূলত বলতে চেয়েছেন যে ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে মার্কিন শহরগুলো হুমকির মুখে পড়তে পারত। আর ইরানকে সেই পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখার ‘মূল্য’ হিসেবেই উচ্চ জ্বালানি মূল্যের বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছেন তিনি। যদিও এই বক্তব্য বিভ্রান্তিকর, তবে পুরো প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এটিকে সরাসরি মার্কিন শহর ধ্বংসের উসকানি হিসেবে ব্যাখ্যা করা কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখ থেকে পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহার বা দেশের কোনো শহর ধ্বংসের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন মন্তব্য আসাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে কেবল রাজনৈতিক কথা হিসেবে নয়, বরং সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঐতিহ্যগতভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা পারমাণবিক প্রতিরোধনীতি ও এ সংক্রান্ত বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ভাষা ব্যবহার করে এসেছেন, যা ট্রাম্পের এই বক্তব্যে অনুপস্থিত ছিল।

তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পরদিন ট্রাম্প পুনরায় লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগোর প্রসঙ্গ তোলেন। তবে এবার তিনি সুর নরম করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ইরানকে এই শহরগুলোতে হামলা করতে দেবে না এবং দেশের সব শহরকে রক্ষা করা হবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি হোয়াইট হাউসের দেওয়া ব্যাখ্যার সঙ্গে নিজের বক্তব্যের সামঞ্জস্য আনার চেষ্টা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে যুদ্ধ, পারমাণবিক হামলা বা নিজ দেশের শহর ধ্বংসের সম্ভাবনাকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক আলোচনার অংশে পরিণত করা এবং এমন বক্তব্যের প্রতি সমাজের অভ্যস্ত হয়ে পড়াকে গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ০৪আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ০৫

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানের হামলা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে ক্যালিফোর্নিয়ায় তীব্র ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৪:১৪:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো শহরকে জড়িয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া এক বক্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ‘অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন’ ও ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণভাবে চাপের মুখে পড়লে বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে এমন উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক বক্তব্য দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

গত ৫ অক্টোবর নেব্রাস্কায় আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। সেখানে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনাকালে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগোর প্রসঙ্গ টানেন। ট্রাম্প বলেন, ইরান চাইলে একটি শহর ধ্বংস করে দিতে পারে। এরপর লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগোর উদাহরণ দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখার জন্য এই ধরনের মূল্য দেওয়া হলেও তা তুলনামূলকভাবে একটি ‘ছোট মূল্য’।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর ক্যালিফোর্নিয়া জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ট্রাম্পকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মূল্যায়নের জন্য রাজ্যের জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রকে (ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার) সক্রিয় করেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস এবং সান দিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়াও এই বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন। মেয়র গ্লোরিয়া স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সান দিয়েগো কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো যুদ্ধের ‘মূল্য’ হতে পারে না।

এই বিতর্কের মুখে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং ট্রাম্পের বক্তব্যের পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প মার্কিন কোনো শহরে হামলার আহ্বান জানাননি। চিউংয়ের মতে, ট্রাম্প মূলত বলতে চেয়েছেন যে ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে মার্কিন শহরগুলো হুমকির মুখে পড়তে পারত। আর ইরানকে সেই পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখার ‘মূল্য’ হিসেবেই উচ্চ জ্বালানি মূল্যের বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছেন তিনি। যদিও এই বক্তব্য বিভ্রান্তিকর, তবে পুরো প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এটিকে সরাসরি মার্কিন শহর ধ্বংসের উসকানি হিসেবে ব্যাখ্যা করা কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখ থেকে পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহার বা দেশের কোনো শহর ধ্বংসের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন মন্তব্য আসাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে কেবল রাজনৈতিক কথা হিসেবে নয়, বরং সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঐতিহ্যগতভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা পারমাণবিক প্রতিরোধনীতি ও এ সংক্রান্ত বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ভাষা ব্যবহার করে এসেছেন, যা ট্রাম্পের এই বক্তব্যে অনুপস্থিত ছিল।

তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পরদিন ট্রাম্প পুনরায় লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগোর প্রসঙ্গ তোলেন। তবে এবার তিনি সুর নরম করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ইরানকে এই শহরগুলোতে হামলা করতে দেবে না এবং দেশের সব শহরকে রক্ষা করা হবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি হোয়াইট হাউসের দেওয়া ব্যাখ্যার সঙ্গে নিজের বক্তব্যের সামঞ্জস্য আনার চেষ্টা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে যুদ্ধ, পারমাণবিক হামলা বা নিজ দেশের শহর ধ্বংসের সম্ভাবনাকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক আলোচনার অংশে পরিণত করা এবং এমন বক্তব্যের প্রতি সমাজের অভ্যস্ত হয়ে পড়াকে গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ০৪আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ০৫

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh