ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ধ্বংসের মুখে ঝালকাঠির ঐতিহাসিক কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি রংপুরে জুলাই মাসে ১৩৯ মামলা, গ্রেফতার ১৬৮ রংপুর মেডিকেলে ১৪ কোটি টাকার আইসোলেশন ওয়ার্ডের উদ্বোধন হরমুজের বিকল্প হিসেবে আর্কটিকের ‘বরফ সিল্ক রোড’ কতটা কার্যকর? এভিয়েশন খাতে প্রযুক্তির ব্যবহারে নেতৃত্বের লক্ষ্য বিমানমন্ত্রীর নারায়ণগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সীমান্ত হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনিকে আরও এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে মাসব্যাপী ফল-২০২৬ এডমিশন ফেস্ট শুরু হাটহাজারীতে তরুণকে ধাওয়া করে গুলি, এলাকায় আতঙ্ক নিজেদের চোরাবালিতে আটকে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

নিজেদের চোরাবালিতে আটকে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার তার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন যে, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান কোনো ধরনের চাপ কিংবা কৃত্রিম সময়সীমার অধীনে তাদের রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়ন করে না। বাঘাইয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই এই সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করেছে।

মুখপাত্র ব্যাখ্যা করেন, সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণের কোনো বিধান ছিল না, বরং এই দলিলে কেবল ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ ছিল। তিনি বলেন, ইরান কোনো আলোচনাই শুরু করেনি এবং যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই সমঝোতা লঙ্ঘন করায় এই সময়সীমার বিষয়টি এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়। ইরান তার জাতীয় স্বার্থ ও নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে বদ্ধপরিকর।

বাঘাই আরও বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো গতিবিধির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। ওয়াশিংটনের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ইরান বিষয়ে মার্কিন অগ্রাধিকার পরিবর্তনের দাবি বিভ্রান্তিকর। তিনি দাবি করেন, এই আগ্রাসী যুদ্ধের কোনো ভিত্তি ছিল না, যা মূলত আঞ্চলিক একটি শাসকগোষ্ঠীর উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য চালানো হচ্ছে। বাঘাইয়ের দাবি অনুযায়ী, পেন্টাগন নিজেই স্বীকার করেছে যে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না, বরং যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে ও চোরাবালিতে আটকে পড়া থেকে বাঁচতে লক্ষ্য পরিবর্তন করছে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়ে বাঘাই বলেন, এই এলাকা আগ্রাসনের আগেও উন্মুক্ত ছিল। তিনি পরামর্শ দেন, আরও গভীরে জড়িয়ে পড়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো দ্রুত নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। তিনি আরও বলেন, ভুল স্বীকার করা সঠিক সিদ্ধান্তের পথ সুগম করতে পারে, যদিও মার্কিন কর্মকর্তাদের সেই সাহস আছে কিনা তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

কাতারে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ২ মার্চের হামলার পর নিখোঁজ চার ইরানি পাইলটের বিষয়ে বাঘাই জানান, তেহরান তাদের ভাগ্য নিশ্চিত করতে সব ধরনের কূটনৈতিক মাধ্যম ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, যতক্ষণ না তাদের অবস্থা পরিষ্কার হচ্ছে, ততক্ষণ ইরান তাদের আটক হিসেবেই বিবেচনা করছে। তিনি জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের 'মিসিং ইন অ্যাকশন সার্চ কমিটি'-র কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ এই বিষয়ে আইসিআরসি-র কাছেও চিঠি পাঠিয়েছেন। বাঘেরজাদেহর তথ্যমতে, মিশনের সময় দুটি এসইউ-২৪ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং পাইলটদের কাতারি বাহিনী জীবিত আটক করেছে বলে ইরান মূল্যায়ন করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজেদের চোরাবালিতে আটকে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার তার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন যে, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান কোনো ধরনের চাপ কিংবা কৃত্রিম সময়সীমার অধীনে তাদের রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়ন করে না। বাঘাইয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই এই সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করেছে।

মুখপাত্র ব্যাখ্যা করেন, সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণের কোনো বিধান ছিল না, বরং এই দলিলে কেবল ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ ছিল। তিনি বলেন, ইরান কোনো আলোচনাই শুরু করেনি এবং যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই সমঝোতা লঙ্ঘন করায় এই সময়সীমার বিষয়টি এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়। ইরান তার জাতীয় স্বার্থ ও নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে বদ্ধপরিকর।

বাঘাই আরও বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো গতিবিধির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। ওয়াশিংটনের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ইরান বিষয়ে মার্কিন অগ্রাধিকার পরিবর্তনের দাবি বিভ্রান্তিকর। তিনি দাবি করেন, এই আগ্রাসী যুদ্ধের কোনো ভিত্তি ছিল না, যা মূলত আঞ্চলিক একটি শাসকগোষ্ঠীর উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য চালানো হচ্ছে। বাঘাইয়ের দাবি অনুযায়ী, পেন্টাগন নিজেই স্বীকার করেছে যে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না, বরং যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে ও চোরাবালিতে আটকে পড়া থেকে বাঁচতে লক্ষ্য পরিবর্তন করছে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়ে বাঘাই বলেন, এই এলাকা আগ্রাসনের আগেও উন্মুক্ত ছিল। তিনি পরামর্শ দেন, আরও গভীরে জড়িয়ে পড়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো দ্রুত নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। তিনি আরও বলেন, ভুল স্বীকার করা সঠিক সিদ্ধান্তের পথ সুগম করতে পারে, যদিও মার্কিন কর্মকর্তাদের সেই সাহস আছে কিনা তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

কাতারে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ২ মার্চের হামলার পর নিখোঁজ চার ইরানি পাইলটের বিষয়ে বাঘাই জানান, তেহরান তাদের ভাগ্য নিশ্চিত করতে সব ধরনের কূটনৈতিক মাধ্যম ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, যতক্ষণ না তাদের অবস্থা পরিষ্কার হচ্ছে, ততক্ষণ ইরান তাদের আটক হিসেবেই বিবেচনা করছে। তিনি জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের 'মিসিং ইন অ্যাকশন সার্চ কমিটি'-র কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ এই বিষয়ে আইসিআরসি-র কাছেও চিঠি পাঠিয়েছেন। বাঘেরজাদেহর তথ্যমতে, মিশনের সময় দুটি এসইউ-২৪ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং পাইলটদের কাতারি বাহিনী জীবিত আটক করেছে বলে ইরান মূল্যায়ন করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh