
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার তার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন যে, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান কোনো ধরনের চাপ কিংবা কৃত্রিম সময়সীমার অধীনে তাদের রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়ন করে না। বাঘাইয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই এই সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করেছে।
মুখপাত্র ব্যাখ্যা করেন, সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণের কোনো বিধান ছিল না, বরং এই দলিলে কেবল ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ ছিল। তিনি বলেন, ইরান কোনো আলোচনাই শুরু করেনি এবং যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই সমঝোতা লঙ্ঘন করায় এই সময়সীমার বিষয়টি এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়। ইরান তার জাতীয় স্বার্থ ও নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে বদ্ধপরিকর।
বাঘাই আরও বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো গতিবিধির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। ওয়াশিংটনের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ইরান বিষয়ে মার্কিন অগ্রাধিকার পরিবর্তনের দাবি বিভ্রান্তিকর। তিনি দাবি করেন, এই আগ্রাসী যুদ্ধের কোনো ভিত্তি ছিল না, যা মূলত আঞ্চলিক একটি শাসকগোষ্ঠীর উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য চালানো হচ্ছে। বাঘাইয়ের দাবি অনুযায়ী, পেন্টাগন নিজেই স্বীকার করেছে যে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না, বরং যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে ও চোরাবালিতে আটকে পড়া থেকে বাঁচতে লক্ষ্য পরিবর্তন করছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়ে বাঘাই বলেন, এই এলাকা আগ্রাসনের আগেও উন্মুক্ত ছিল। তিনি পরামর্শ দেন, আরও গভীরে জড়িয়ে পড়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো দ্রুত নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। তিনি আরও বলেন, ভুল স্বীকার করা সঠিক সিদ্ধান্তের পথ সুগম করতে পারে, যদিও মার্কিন কর্মকর্তাদের সেই সাহস আছে কিনা তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
কাতারে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ২ মার্চের হামলার পর নিখোঁজ চার ইরানি পাইলটের বিষয়ে বাঘাই জানান, তেহরান তাদের ভাগ্য নিশ্চিত করতে সব ধরনের কূটনৈতিক মাধ্যম ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, যতক্ষণ না তাদের অবস্থা পরিষ্কার হচ্ছে, ততক্ষণ ইরান তাদের আটক হিসেবেই বিবেচনা করছে। তিনি জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের 'মিসিং ইন অ্যাকশন সার্চ কমিটি'-র কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ এই বিষয়ে আইসিআরসি-র কাছেও চিঠি পাঠিয়েছেন। বাঘেরজাদেহর তথ্যমতে, মিশনের সময় দুটি এসইউ-২৪ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং পাইলটদের কাতারি বাহিনী জীবিত আটক করেছে বলে ইরান মূল্যায়ন করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২