হরমুজ প্রণালি সচল করতে ইরান-ওমান চুক্তি কাছাকাছি, জানাল যুক্তরাষ্ট্র

- আপডেট সময় : ১০:২৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় স্বাভাবিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু করার বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি সই হতে পারে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি সচল হলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ আবারও স্বাভাবিক রূপ ফিরে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা শুক্রবার রয়টার্সকে জানান, ওয়াশিংটন এই সমঝোতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং দ্রুতই চুক্তিটি সম্পন্ন হবে বলে প্রত্যাশা করছে। চুক্তি অনুযায়ী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো ধরনের বাধা না দেওয়ার ঘোষণা এলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে। তবে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই মার্কিন প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধানতম রুট এই হরমুজ প্রণালি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রতি পাঁচ ব্যারেলের মধ্যে প্রায় এক ব্যারেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। সংঘাতের পর থেকে তেলবাহী জাহাজ চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হয়। ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তেলবাহী জাহাজের কাছ থেকে মাশুল আদায় এবং অনুমতিহীন জাহাজে হামলা চালানোর নীতি গ্রহণ করে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি কাছাকাছি বলে একাধিকবার ইঙ্গিত দিলেও ইরান তা অস্বীকার করে আসছিল। ফলে সর্বশেষ দফার কূটনৈতিক তৎপরতা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমঝোতায় রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরেও হামলা জোরদার করেছে। আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি শুক্রবার জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে তাদের ১৫টি জাহাজে বিনা উসকানিতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে একজন ক্রু নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।
উদ্ভূত আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে শুক্রবার মক্কায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। সুন্নিপ্রধান এই তিন দেশের চুক্তিতে বলা হয়েছে, যেকোনো এক দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা বলে গণ্য হবে। তুরস্ক অবশ্য জানিয়েছে, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি, এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। তবে শিয়া-অধ্যুষিত ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই চুক্তিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। গত জুনে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর ১৭ জুন একটি স্বল্পমেয়াদি সমঝোতা হয়েছিল। তবে অভ্যন্তরীণ বিরোধিতার কারণে ৭ জুলাই আবারও সংঘাত শুরু হয়। পরবর্তীতে ২৯ জুলাইয়ের পর ইরানের ওপর আর কোনো হামলা চালায়নি মার্কিন বাহিনী। এরই মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান কট্টরপন্থীদের সমালোচনা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার সিদ্ধান্তকে দেশের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডাররা সমর্থন করেছেন। আমেরিকার মূল শত্রু চীন হওয়া সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ না করে সংলাপের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন তিনি।
অন্যদিকে, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত বন্ধে লেবানন ফ্রন্টেও কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ পর্যবেক্ষণে সেনা পাঠানোর জন্য লেবানন ও ইসরায়েল সম্ভাব্য কিছু দেশের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকায় একমত হয়েছে, যেখান থেকে চূড়ান্ত দেশ নির্বাচন করবে ওয়াশিংটন। হরমুজ প্রণালি সচল করার উদ্যোগ এবং মক্কার নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


























