হরমুজ প্রণালিতে নৌজোট গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ইউরোপের অনাগ্রহ
- আপডেট সময় : ০৮:০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে বেশ কয়েক মাস ধরে একটি আন্তর্জাতিক নৌজোট গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নৌবাহিনীর একটি নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তুলে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখাই মার্কিন এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে আগের মতো আর আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এর আগে দেশ দুটি জানিয়েছিল যে, টেকসই যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলে তারা এ ধরনের নৌ মিশনে নেতৃত্ব দিতে সম্মত আছে। কিন্তু হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব সত্ত্বেও প্রস্তাবিত নৌজোট গঠনের কার্যক্রম তেমন একটা এগোয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, নৌজোট গঠনে এই স্থবিরতা ইউরোপীয় দেশগুলোর গভীর সতর্কতার প্রতিফলন। তাদের আশঙ্কা, এমন একটি অনিশ্চিত ও দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এমন সংঘাতে জড়িয়ে পড়া ইউরোপের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যে সংঘাত তারা নিজেরা শুরু করেনি এবং যার প্রতি তাদের সরাসরি সমর্থনও নেই, সেখানে সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে ইউরোপীয় সরকারগুলো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বিশ্লেষকেরা আরও মনে করছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ ধরনের সামরিক উদ্যোগের সুস্পষ্ট সমর্থন না থাকায় ইউরোপের অনাগ্রহ আরও বাড়ছে।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (আরইউএসআই) ও সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এইচ এ হেলিয়ার আল জাজিরাকে বলেন, অন্যদের হয়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্সের খুব একটা আগ্রহ নেই। বিশেষ করে এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট আহ্বান না থাকলে তাদের সামরিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আরও কম। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় অঞ্চলটিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ থাকলেও ইউরোপীয় মিত্রদের সতর্ক অবস্থানের কারণে প্রস্তাবিত নৌজোট গঠন এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।



























