ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, অস্ত্র নিয়ে হামলা ও ভাঙচুর সায়েন্সল্যাবে ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, যান চলাচল বিঘ্নিত কটিয়াদীতে ডিউটিরত অবস্থায় ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশ কনস্টেবল আহত দুর্ঘটনা না ঘটলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: জ্বালানি মন্ত্রী নিজেদের চাঁদাবাজদের সামলাবেন কি, প্রশ্ন জামায়াত আমীরের রাজশাহীতে মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা, দোকানে পেট্রল বোমা হামলা দক্ষিণ আফ্রিকার পানশালায় বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ১৭ সন্ত্রাসে মদদ দিলে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সংলাপ বন্ধের হুঁশিয়ারি রাজনাথের ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদে সায়েন্সল্যাবে ডিসিইউ শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবার বৈঠকে রুশ ও জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক নির্মাণে ধীরগতি ও অনিয়ম, ভোগান্তিতে ৫ উপজেলা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সাতক্ষীরা-ভেটখালি আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণে ধীরগতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পাঁচ উপজেলার মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের ফলে সড়কটি টেকসই হচ্ছে না। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সড়ক বিভাগ এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, নির্ধারিত শিডিউল ও গুণগত মান বজায় রেখেই কাজ চালানো হচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা শহরের লাবনী মোড় থেকে শ্যামনগর হয়ে ভেটখালি পর্যন্ত বিস্তৃত এই আঞ্চলিক মহাসড়কটির দৈর্ঘ্য ৬২ কিলোমিটার। এই বৃহৎ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৮২২ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে এই কাজের সরকারি আদেশ জারি হওয়ার পর ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে এই মহাসড়কের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত মাত্র ৩১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কাজের ধীরগতির কারণে প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত করা হয়েছে।

মহাসড়কের নির্মাণকাজে ধীরগতির কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শ্যামনগরের আটুলিয়া এলাকার বাসিন্দা নুর ইসলাম সাতক্ষীরা জজ কোর্টে এসে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কটির এমন বেহাল দশা যে একবার চলাচল করলে কেউ আর দ্বিতীয়বার এই পথে আসতে চায় না। বাধ্য হয়েই তাকে কোর্টের তারিখে আসতে হয়েছে। অহিদুল ইসলাম নামের এক বাসচালক জানান, সংস্কারের জন্য সড়কের একপাশ ভেঙে রাখায় গাড়ি চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা কাজের মান নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দেবহাটার পারুলিয়া এলাকার ওলিয়ার রহমান জানান, ঠিকাদাররা নিয়ম মেনে কাজ করছিলেন না। স্থানীয়দের কড়া নজরদারির কারণে কাজের মান কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও তা পুরোপুরি মানসম্মত হচ্ছে না। কালীগঞ্জের নলতা এলাকার কে এম সবুজ অভিযোগ করেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে সড়কের সাইড ওয়ালে করা পাইলিং ধসে পড়েছে। এছাড়া ভোমরা স্থলবন্দরের পাথর ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেনের দাবি, সড়ক নির্মাণে অত্যন্ত নিম্নমানের 'ভটকা স্টোন' ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বেশি দিন টিকবে না।

তবে নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমডি মাঈনুদ্দীন লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক রবিউল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, সমস্ত নির্মাণসামগ্রী ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করেই ব্যবহার করা হচ্ছে। সাইড ওয়াল ধসে পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ওয়ালটি পুরোপুরি সেট হওয়ার আগেই যদি মানুষ তার ওপর দিয়ে চলাচল করে, তবে তা ভেঙে যেতে পারে। এমন ঘটনা ঘটলে তারা তা পুনরায় মেরামত করে দিচ্ছেন।

সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ জানান, ৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটির কাজ শেষ করার জন্য ২ বছর ১১ মাস সময় নির্ধারিত ছিল। তবে বিভিন্ন দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রায় ২ বছর সময় নষ্ট হয়েছে। গত ১১ মাসে কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৩২ শতাংশ। ২০২৬ সালের জুনে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তারা আশা করছেন ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কাজের মান বজায় রাখা হচ্ছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, এক ধরনের ব্লগার না বুঝে অহেতুক তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক নির্মাণে ধীরগতি ও অনিয়ম, ভোগান্তিতে ৫ উপজেলা

আপডেট সময় : ১০:০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

সাতক্ষীরা-ভেটখালি আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণে ধীরগতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পাঁচ উপজেলার মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের ফলে সড়কটি টেকসই হচ্ছে না। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সড়ক বিভাগ এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, নির্ধারিত শিডিউল ও গুণগত মান বজায় রেখেই কাজ চালানো হচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা শহরের লাবনী মোড় থেকে শ্যামনগর হয়ে ভেটখালি পর্যন্ত বিস্তৃত এই আঞ্চলিক মহাসড়কটির দৈর্ঘ্য ৬২ কিলোমিটার। এই বৃহৎ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৮২২ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে এই কাজের সরকারি আদেশ জারি হওয়ার পর ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে এই মহাসড়কের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত মাত্র ৩১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কাজের ধীরগতির কারণে প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত করা হয়েছে।

মহাসড়কের নির্মাণকাজে ধীরগতির কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শ্যামনগরের আটুলিয়া এলাকার বাসিন্দা নুর ইসলাম সাতক্ষীরা জজ কোর্টে এসে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কটির এমন বেহাল দশা যে একবার চলাচল করলে কেউ আর দ্বিতীয়বার এই পথে আসতে চায় না। বাধ্য হয়েই তাকে কোর্টের তারিখে আসতে হয়েছে। অহিদুল ইসলাম নামের এক বাসচালক জানান, সংস্কারের জন্য সড়কের একপাশ ভেঙে রাখায় গাড়ি চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা কাজের মান নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দেবহাটার পারুলিয়া এলাকার ওলিয়ার রহমান জানান, ঠিকাদাররা নিয়ম মেনে কাজ করছিলেন না। স্থানীয়দের কড়া নজরদারির কারণে কাজের মান কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও তা পুরোপুরি মানসম্মত হচ্ছে না। কালীগঞ্জের নলতা এলাকার কে এম সবুজ অভিযোগ করেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে সড়কের সাইড ওয়ালে করা পাইলিং ধসে পড়েছে। এছাড়া ভোমরা স্থলবন্দরের পাথর ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেনের দাবি, সড়ক নির্মাণে অত্যন্ত নিম্নমানের 'ভটকা স্টোন' ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বেশি দিন টিকবে না।

তবে নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমডি মাঈনুদ্দীন লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক রবিউল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, সমস্ত নির্মাণসামগ্রী ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করেই ব্যবহার করা হচ্ছে। সাইড ওয়াল ধসে পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ওয়ালটি পুরোপুরি সেট হওয়ার আগেই যদি মানুষ তার ওপর দিয়ে চলাচল করে, তবে তা ভেঙে যেতে পারে। এমন ঘটনা ঘটলে তারা তা পুনরায় মেরামত করে দিচ্ছেন।

সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ জানান, ৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটির কাজ শেষ করার জন্য ২ বছর ১১ মাস সময় নির্ধারিত ছিল। তবে বিভিন্ন দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রায় ২ বছর সময় নষ্ট হয়েছে। গত ১১ মাসে কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৩২ শতাংশ। ২০২৬ সালের জুনে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তারা আশা করছেন ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কাজের মান বজায় রাখা হচ্ছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, এক ধরনের ব্লগার না বুঝে অহেতুক তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh