হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের ৪০ কোটি ডলারের বলরুম নির্মাণে আদালতের স্থগিতাদেশ
- আপডেট সময় : ১০:১৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসে ৪০ কোটি ডলার ব্যয়ে ‘বলরুম’ নির্মাণের ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়েছে। ইউ.এস. কোর্ট অব অ্যাপিলস ফর ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট এক রায়ে এই বিশাল বাজেট ও বিতর্কিত স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ স্থগিত করে দিয়েছেন।
গত শুক্রবার এই পিটিশনের রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে বিচারকরা স্পষ্টভাবে বলেছেন, “প্রত্যেক প্রেসিডেন্টেরই স্মরণ রাখা উচিত যে তারা হোয়াইট হাউসে সাময়িক সময়ের জন্য অতিথি, এ ভবনের মালিক নন। হোয়াইট হাউসে কোনো বিশালাকৃতির বলরুম নির্মাণ করা হবে কি হবে না— সে সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেস (যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট)। এটা রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের স্বেচ্ছাধীন কোনো বিষয় নয়।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে গত বছর হোয়াইট হাউসের পূর্বাংশ (ইস্ট উইং) ভেঙে ৯০ হাজার বর্গফুট আয়তনের বিশাল এক বলরুম নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। এই প্রকল্প শুরুর আগে কংগ্রেসের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিভেনশন নামের একটি সংস্থা এই প্রকল্পের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে কলাম্বিয়া জেলা সার্কিটের আপিল আদালতে পিটিশন দাখিল করেছিল। আপিল আদালতের ৩ জন বিচারপতির মধ্যে ২ জন এই রায়ের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
পিটিশনকারী সংস্থা ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিভেনশনের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ট লেগস আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “হোয়াইট হাউসসহ যুক্তরাষ্ট্রের যত ঐতিহাসিক স্থাপনা আছে, সেসবের ব্যাপারে মতামত দেওয়ার পূর্ণ অধিকার এ দেশের নাগরিকদের রয়েছে। এ রায়ের মাধ্যমে আদালত সেই অধিকারকে স্বীকৃতি দিলেন। আজকের দিনটি যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন নাগরিকদের জন্য একটি মহান দিন।”
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই রায়কে ‘অন্যায্য’, ‘ভয়ঙ্কর’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, প্রস্তাবিত বলরুমটি আসলে একটি নিরাপত্তা স্থাপনা। তিনি লিখেছেন, “এটি আসলে একটি বড়, দামি এবং কমপ্লেক্স ইউনিট যেখানে বোমা আশ্রয়কেন্দ্র, মেডিকেল সুবিধা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতে শিল্ড থাকবে। আপিল আদালত যে রায় দিয়েছেন সেটি ভয়ঙ্কার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং এই রায় আমার এবং হোয়াইট হাউসের অন্যান্য স্টাফ ও দর্শকনার্থীদের হামলার ঝুঁকিতে ফেলেছে।”
আপিল আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার জন্য ট্রাম্পের হাতে মাত্র ১৪ দিন সময় আছে। আগামী ১৪ দিনের মধ্যে যদি ট্রাম্পের আইনজীবীরা সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে ব্যর্থ হন, তবে আপিল আদালতের এই রায়ই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।




























