ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘তেরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচির আগে অভিজিৎ দীপকে ও নেহা বোরা আটক ক্রিকেটের নতুন ফরম্যাট টেস্ট টুয়েন্টি: এক দিনে ৮০ ওভারের লড়াই শ্রীপুরে পরিত্যক্ত বোতল বিস্ফোরণে ব্যবসায়ীর হাতের আঙুল ঝলসে গেল বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু কর্মসূচি বন্ধে পুলিশি নোটিশ, অভিজিৎ দিপকের সাফ কথা ‘ফাঁসি দিন’ ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে দারিদ্র্য কমবে, আশা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের কুমিল্লায় জমি নিয়ে বিরোধে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা বাউফলে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ কাজীপুরের যমুনার চরাঞ্চলে যাতায়াত সংকট, নৌকাই একমাত্র ভরসা

চীনা যন্ত্রাংশে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে ইয়েমেনের হুতিরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:১০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের নকশা অনুসরণ করে চীনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে উন্নত মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সফল হলে গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের গভীরে এবং ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। অস্ত্রের উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা সংস্থা কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের (সিএআর) অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনটি বলছে, এতদিন হুতিরা ইরান ও আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের ওপর নির্ভর করলেও এখন তারা নিজেরাই উন্নত অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে। ধারণা করা হচ্ছে, হুতিদের এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরানের ‘খাইবার শেকান’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আদলে তৈরি করা হচ্ছে, যা নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম। ২০২২ সালে তেহরানে প্রথম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রদর্শন করা হয়েছিল। সফলভাবে তৈরি করা গেলে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১২০০ মাইল বা ১৯৩০ কিলোমিটার হতে পারে।

সিএআরের অনুসন্ধানে গত বছর ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষের আটক করা দুটি চালানের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এসব চালানে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম লুকিয়ে পরিবহন করা হচ্ছিল। জব্দকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও মূল কাঠামো তৈরির ধাতব যন্ত্রাংশ, স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাখনা এবং কঠিন জ্বালানিচালিত রকেট মোটরের উপাদান। এছাড়া তাপসহনশীল উপাদান ও পরীক্ষার যন্ত্রপাতিও পাওয়া গেছে, যা খাইবার শেকান সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। তদন্তকারীরা চালানের নথিপত্র পরীক্ষা করে চীনের একটি নির্ভুল ধাতব যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয় পেয়েছেন, তবে প্রতিবেদনে সেই প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

সিএআরের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান হিনজ জানিয়েছেন, এসব যন্ত্রাংশ আমদানি থেকে স্পষ্ট যে হুতিরা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে অথবা সেই চেষ্টা করছে। খাইবার শেকান সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে এবং এর গতি ঘণ্টায় প্রায় ৬০০০ মাইল বা ৯৬৫৬ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি কিছু ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের তুলনায় বেশি ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম।

অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, হুতিরা ধীরে ধীরে নিজেদের অস্ত্র উৎপাদনব্যবস্থা সম্প্রসারণ করছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের কাছে পাঠানো পণ্যের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম উঠে আসছে। যদিও চীন জানিয়েছে তারা জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা মেনে চলে, তবে দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে পৌঁছানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

চীনা যন্ত্রাংশে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে ইয়েমেনের হুতিরা

আপডেট সময় : ০৭:১০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের নকশা অনুসরণ করে চীনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে উন্নত মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সফল হলে গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের গভীরে এবং ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। অস্ত্রের উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা সংস্থা কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের (সিএআর) অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনটি বলছে, এতদিন হুতিরা ইরান ও আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের ওপর নির্ভর করলেও এখন তারা নিজেরাই উন্নত অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে। ধারণা করা হচ্ছে, হুতিদের এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরানের ‘খাইবার শেকান’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আদলে তৈরি করা হচ্ছে, যা নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম। ২০২২ সালে তেহরানে প্রথম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রদর্শন করা হয়েছিল। সফলভাবে তৈরি করা গেলে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১২০০ মাইল বা ১৯৩০ কিলোমিটার হতে পারে।

সিএআরের অনুসন্ধানে গত বছর ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষের আটক করা দুটি চালানের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এসব চালানে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম লুকিয়ে পরিবহন করা হচ্ছিল। জব্দকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও মূল কাঠামো তৈরির ধাতব যন্ত্রাংশ, স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাখনা এবং কঠিন জ্বালানিচালিত রকেট মোটরের উপাদান। এছাড়া তাপসহনশীল উপাদান ও পরীক্ষার যন্ত্রপাতিও পাওয়া গেছে, যা খাইবার শেকান সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। তদন্তকারীরা চালানের নথিপত্র পরীক্ষা করে চীনের একটি নির্ভুল ধাতব যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয় পেয়েছেন, তবে প্রতিবেদনে সেই প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

সিএআরের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান হিনজ জানিয়েছেন, এসব যন্ত্রাংশ আমদানি থেকে স্পষ্ট যে হুতিরা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে অথবা সেই চেষ্টা করছে। খাইবার শেকান সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে এবং এর গতি ঘণ্টায় প্রায় ৬০০০ মাইল বা ৯৬৫৬ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি কিছু ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের তুলনায় বেশি ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম।

অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, হুতিরা ধীরে ধীরে নিজেদের অস্ত্র উৎপাদনব্যবস্থা সম্প্রসারণ করছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের কাছে পাঠানো পণ্যের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম উঠে আসছে। যদিও চীন জানিয়েছে তারা জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা মেনে চলে, তবে দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে পৌঁছানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin