ইরানি মিত্রদের সমন্বিত বড় হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব

- আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরবের ওপর বড় ধরনের সমন্বিত সামরিক হামলার আশঙ্কা করছে রিয়াদ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রিয়াদের জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্র জানিয়েছে, উত্তরের ইরাকি শিয়া মিলিশিয়া এবং দক্ষিণের ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা একযোগে এই হামলা চালাতে পারে। পুরো পরিকল্পনাটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভাষ্যমতে, সৌদির কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামো, বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরগুলো এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, নাজরান প্রদেশে ওই হামলায় সাত সৌদি নাগরিক, এক ইয়েমেনি, দুই মিসরীয় ও এক পাকিস্তানি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে তেহরান। ফার্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে জাহাজ চলাচলের জন্য তিন ধাপের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ইরান ও ওমান উপকূল ব্যবহার করা হলেও নির্দিষ্ট সময় পর দুটি লেনই বন্ধ করে একক কেন্দ্রীয় করিডোর চালু করা হবে। তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সতর্ক করে জানিয়েছেন, প্রণালিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্মুক্ত হচ্ছে না। মুক্ত চলাচলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বাজেয়াপ্ত সম্পদ নিয়ে আলোচনার শর্ত পূরণ করতে হবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কোনো দ্বিতীয় করিডোর হরমুজ প্রণালিতে তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, মার্কিন সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে তাদের বাহিনী সরাসরি হামলার মুখে পড়বে। পাশাপাশি, ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটিতে একটি নতুন খসড়া বিল পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এতে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজসহ ইরানের ক্ষতি করা যেকোনো দেশের সামরিক ও বেসামরিক জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং অমান্যকারীদের ওপর ২০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ট্রানজিট ফি হিসেবে ইরানি মুদ্রা ব্যবহারের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

























