শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের টাকা লোপাট: পলাতক কর্মকর্তা শরীফুজ্জামান
- আপডেট সময় : ০৫:১৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের স্থানীয় শাখায় বড় ধরনের অর্থ লোপাটের ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংকটির ক্যাশ কর্মকর্তা শরীফুজ্জামান গ্রাহকদের সহায়তা করার নামে তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে নিজের তৈরি সিল ও জমা বইয়ে স্বাক্ষর করে বিদায় করে দিতেন। পরবর্তীতে সেই টাকা ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করতেন তিনি। এছাড়া প্রবাসী গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টের ফোন নম্বর পরিবর্তন করে কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ থেকেও কয়েক কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই শ্রীনগর প্লাজার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ব্যাংকটির সামনে অ্যাকাউন্ট যাচাই করার জন্য গ্রাহকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত গ্রাহকরা ব্যাংকের গেট ভাঙচুর শুরু করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিজ অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অনেক গ্রাহক কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রবিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১১৩ জন গ্রাহক অর্থ লোপাটের অভিযোগ জমা দিয়েছেন। প্রাথমিক তথ্যানুসারে, শতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় দশ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে এই জালিয়াতির খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত গ্রাহক ব্যাংকে ভিড় করতে থাকেন। এর দুই দিন আগে থেকেই অভিযুক্ত ক্যাশ কর্মকর্তা শরীফুজ্জামান সোহাগ পলাতক রয়েছেন। এর আগে ১৪টি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা গায়েব হওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অগ্রণী ব্যাংক মুন্সীগঞ্জ জেলার ডিজিএম মিজানুর রহমান জানান, এই ঘটনায় পলাতক শরীফুজ্জামানের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে শরীফুজ্জামান ও ক্যাশিয়ার মো. জিন্নাহকে শোকজ করা হয়েছে। গ্রাহকদের টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের অডিট টিম কাজ করছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি যাচাই-বাছাই করে অর্থ ফেরতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। সব অ্যাকাউন্ট যাচাই না হওয়া পর্যন্ত লোপাট হওয়া টাকার সঠিক পরিমাণ বলা সম্ভব নয়। তবে কোনো গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে অভিযোগ জমা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।



























