ঢাকা ০৮:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীদের জন্য বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাণহানির ঝুঁকি ইসলামের দৃষ্টিতে কথা বলার আদব ও শিষ্টাচার গোপনে আবুধাবি সফরে নেতানিয়াহু, বৈঠক আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক সুন্দর ও দৃঢ় করতে সালামের গুরুত্ব অপরিসীম আশুলিয়ায় উচ্ছেদ অভিযানে আনসার-হকার সংঘর্ষ, আহত ৪ শরীয়তপুর পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে তালা ভেঙে ল্যাপটপ ও ট্যাব চুরি এইচএসসি উত্তীর্ণদের শিক্ষাবৃত্তি দেবে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন আজকের পর্দায় বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ম্যাচসহ নেশন্স লিগের ফুটবল লড়াই কাশীয়ানীতে ১৯৮ ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার ট্রাম্প-শি বৈঠকে সমঝোতা না হলেও যুক্তরাষ্ট্রে আসবে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি

সম্পর্ক সুন্দর ও দৃঢ় করতে সালামের গুরুত্ব অপরিসীম

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:১৯:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইসলাম সামাজিক রীতিনীতি এবং একে অপরের সাথে অভিবাদনের সুন্দর পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছে। 'আসসালামু আলাইকুম' শব্দটির অর্থ হলো 'আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক'। সালাম শব্দের আভিধানিক অর্থ শান্তি ও নিরাপত্তা। শরিয়তের পরিভাষায়, একজন মুসলিম যখন অন্য মুসলিম ভাইয়ের সাথে দেখা করেন, তখন যে বাক্যের মাধ্যমে একে অপরের কল্যাণ, দোয়া, বন্ধুত্ব ও নিরাপত্তা কামনা করেন, তাকেই সালাম বলা হয়।

সালামের এই নান্দনিক বিধানটি মহান আল্লাহ নিজেই প্রবর্তন করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন যে, আল্লাহ আদম (আ.)-কে তার আকৃতিতে সৃষ্টি করে ফেরেশতাদের দলকে সালাম করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তাদের জবাব মনোযোগ দিয়ে শুনতে বলেছিলেন। আদম (আ.) 'আসসালামু আলাইকুম' বললে ফেরেশতারা তার উত্তরে 'আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ' বলেছিলেন। এই ঘটনাটিই মানবজাতির জন্য অভিবাদনের পদ্ধতি হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে (বোখারি: ৩৩২৬)।

কুরআনে আল্লাহ সালামের জবাব উত্তমভাবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, যখন কেউ সালাম দেয়, তখন তার চেয়ে উন্নত ভাষায় অথবা অন্তত সেই ভাষায় উত্তর দিতে হবে। আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ের হিসাব সংরক্ষণ করেন (সুরা নিসা: ৮৬)।

সালাম অহংকার দূর করে এবং মানুষের মধ্যে বিনয় সৃষ্টি করে। অহংকার যেখানে শত্রুতা জন্ম দেয়, সেখানে বিনয় শত্রুকেও বন্ধুতে পরিণত করতে পারে। তাই অহংকার থেকে বাঁচতে সালামের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কাম্য। নবী (সা.)-এর কাছে উত্তম ইসলামের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি অন্যকে অন্ন দান করা এবং পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেওয়ার কথা বলেছিলেন (বোখারি: ১২)।

সালামের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় এবং শত্রুতা বা পরশ্রীকাতরতা দূর হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ঈমান না আনলে জান্নাতে প্রবেশ করা যাবে না, আর একে অপরকে ভালো না বাসলে ঈমানদার হওয়া সম্ভব নয়। তিনি পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধির উপায় হিসেবে সালামের প্রসার ঘটানোর পরামর্শ দিয়েছেন (তিরমিজি: ২৬৮৮)।

আমাদের উচিত চেনা-অচেনা সবার সাথে বেশি বেশি সালাম বিনিময় করা এবং সন্তানদেরও এই অভ্যাসে গড়ে তোলা। সালামের ব্যাপক প্রচার ও চর্চার মাধ্যমেই একটি সুষ্ঠু ও কল্যাণকর সমাজ গঠন করা সম্ভব।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

সম্পর্ক সুন্দর ও দৃঢ় করতে সালামের গুরুত্ব অপরিসীম

আপডেট সময় : ০৭:১৯:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলাম সামাজিক রীতিনীতি এবং একে অপরের সাথে অভিবাদনের সুন্দর পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছে। 'আসসালামু আলাইকুম' শব্দটির অর্থ হলো 'আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক'। সালাম শব্দের আভিধানিক অর্থ শান্তি ও নিরাপত্তা। শরিয়তের পরিভাষায়, একজন মুসলিম যখন অন্য মুসলিম ভাইয়ের সাথে দেখা করেন, তখন যে বাক্যের মাধ্যমে একে অপরের কল্যাণ, দোয়া, বন্ধুত্ব ও নিরাপত্তা কামনা করেন, তাকেই সালাম বলা হয়।

সালামের এই নান্দনিক বিধানটি মহান আল্লাহ নিজেই প্রবর্তন করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন যে, আল্লাহ আদম (আ.)-কে তার আকৃতিতে সৃষ্টি করে ফেরেশতাদের দলকে সালাম করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তাদের জবাব মনোযোগ দিয়ে শুনতে বলেছিলেন। আদম (আ.) 'আসসালামু আলাইকুম' বললে ফেরেশতারা তার উত্তরে 'আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ' বলেছিলেন। এই ঘটনাটিই মানবজাতির জন্য অভিবাদনের পদ্ধতি হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে (বোখারি: ৩৩২৬)।

কুরআনে আল্লাহ সালামের জবাব উত্তমভাবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, যখন কেউ সালাম দেয়, তখন তার চেয়ে উন্নত ভাষায় অথবা অন্তত সেই ভাষায় উত্তর দিতে হবে। আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ের হিসাব সংরক্ষণ করেন (সুরা নিসা: ৮৬)।

সালাম অহংকার দূর করে এবং মানুষের মধ্যে বিনয় সৃষ্টি করে। অহংকার যেখানে শত্রুতা জন্ম দেয়, সেখানে বিনয় শত্রুকেও বন্ধুতে পরিণত করতে পারে। তাই অহংকার থেকে বাঁচতে সালামের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কাম্য। নবী (সা.)-এর কাছে উত্তম ইসলামের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি অন্যকে অন্ন দান করা এবং পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেওয়ার কথা বলেছিলেন (বোখারি: ১২)।

সালামের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় এবং শত্রুতা বা পরশ্রীকাতরতা দূর হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ঈমান না আনলে জান্নাতে প্রবেশ করা যাবে না, আর একে অপরকে ভালো না বাসলে ঈমানদার হওয়া সম্ভব নয়। তিনি পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধির উপায় হিসেবে সালামের প্রসার ঘটানোর পরামর্শ দিয়েছেন (তিরমিজি: ২৬৮৮)।

আমাদের উচিত চেনা-অচেনা সবার সাথে বেশি বেশি সালাম বিনিময় করা এবং সন্তানদেরও এই অভ্যাসে গড়ে তোলা। সালামের ব্যাপক প্রচার ও চর্চার মাধ্যমেই একটি সুষ্ঠু ও কল্যাণকর সমাজ গঠন করা সম্ভব।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh