ঢাকা ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়ে নরওয়ের মাঠে জয় পেল পর্তুগাল দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীদের জন্য বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাণহানির ঝুঁকি ইসলামের দৃষ্টিতে কথা বলার আদব ও শিষ্টাচার গোপনে আবুধাবি সফরে নেতানিয়াহু, বৈঠক আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক সুন্দর ও দৃঢ় করতে সালামের গুরুত্ব অপরিসীম আশুলিয়ায় উচ্ছেদ অভিযানে আনসার-হকার সংঘর্ষ, আহত ৪ শরীয়তপুর পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে তালা ভেঙে ল্যাপটপ ও ট্যাব চুরি এইচএসসি উত্তীর্ণদের শিক্ষাবৃত্তি দেবে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন আজকের পর্দায় বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ম্যাচসহ নেশন্স লিগের ফুটবল লড়াই কাশীয়ানীতে ১৯৮ ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

ইসলামের দৃষ্টিতে কথা বলার আদব ও শিষ্টাচার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৫:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইসলামের অনুপম শিক্ষা ও সৌন্দর্য হলো সুন্দরভাবে কথা বলা। সঠিক ও মার্জিত উপায়ে কথা বললে খুব সহজেই অন্যকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করা যায়, অথচ স্থান-কাল-পাত্রভেদে কথা বলতে না পারার কারণে মানুষ একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়। কথা এমন একটি বিষয়—যা মুখ থেকে বেরিয়ে গেলে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'প্রকৃত মুসলমান হলো সেই ব্যক্তি, যার মুখ ও হাত থেকে মুসলমানরা নিরাপদ থাকে।' (তিরমিজি : ২৬২৭)।

ইসলাম মিথ্যাকে কখনোই প্রশ্রয় দেয় না। মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার মানুষ তো বটেই, আসমানের ফেরেশতারাও ঘৃণা করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'মানুষ যখন মিথ্যা কথা বলে, তখন মিথ্যার দুর্গন্ধে ফেরেশতারা মিথ্যাবাদী থেকে এক মাইল দূরে চলে যায়।' (তিরমিজি : ১৯৭২)। তাই সবসময় সত্য কথা বলা জরুরি।

কথা বলার সময় প্রতিটি শব্দ ভেবেচিন্তে বলা উচিত। দুনিয়া ও আখেরাতের কোনো ফায়দা নেই—এমন কথা বলা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, 'যে কথাই মানুষ উচ্চারণ করে (তা সংরক্ষণের জন্য) তার কাছে একজন সদাতৎপর প্রহরী আছে।' (সুরা কাফ : ১৮)।

তাড়াহুড়া না করে ধীরে ধীরে কথা বলা উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমনভাবে কথা বলতেন যে, কেউ চাইলে তা গণনা করতে পারত। আয়েশা (রা.) এ বিষয়ে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুল (সা.)-এর কথা বলার গতি ছিল পরিমিত (মুসলিম : ৭৩৯৯)। এছাড়া কথা বলার সময় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা আবশ্যক। কোরআনে বলা হয়েছে, 'তোমার বলার ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো, তোমার আওয়াজ নিচু করো; নিশ্চয়ই সবচেয়ে নিকৃষ্ট আওয়াজ হলো গাধার আওয়াজ।' (সুরা লুকমান : ১৯)।

মানুষের সঙ্গে উত্তম পন্থায় কথা বলা ইসলামের সৌন্দর্য। আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, 'আর তোমরা লোকের সঙ্গে উত্তমভাবে কথা বলবে।' (সুরা বাকারা : ৮৩)। এছাড়া নবীর আওয়াজের ওপর নিজেদের আওয়াজ উঁচু না করার বিষয়েও পবিত্র কোরআনে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে (সুরা হুজুরাত : ২-৩)।

ইসলামের দাওয়াতের ক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কথা বলার কোনো বিকল্প নেই। আল্লাহতায়ালা বলেন, 'তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং সুন্দরতম পন্থায় তাদের সঙ্গে বিতর্ক করো।' (সুরা নাহল : ১২৫)। মন্দ কথার প্রতিবাদ করতে হবে ভালো কাজের মাধ্যমে। আল্লাহতায়ালা বলেন, 'মন্দকে প্রতিহত করো, তা দ্বারা যা উৎকৃষ্টতর।' (সুরা হামিম আস-সাজদা : ৩৪)। এছাড়া অজ্ঞ বা মূর্খ লোকদের সঙ্গে তর্কে না জড়িয়ে সালাম দিয়ে সরে আসাই মুমিনের গুণ (সুরা ফুরকান : ৬৩)।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসলামের দৃষ্টিতে কথা বলার আদব ও শিষ্টাচার

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলামের অনুপম শিক্ষা ও সৌন্দর্য হলো সুন্দরভাবে কথা বলা। সঠিক ও মার্জিত উপায়ে কথা বললে খুব সহজেই অন্যকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করা যায়, অথচ স্থান-কাল-পাত্রভেদে কথা বলতে না পারার কারণে মানুষ একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়। কথা এমন একটি বিষয়—যা মুখ থেকে বেরিয়ে গেলে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'প্রকৃত মুসলমান হলো সেই ব্যক্তি, যার মুখ ও হাত থেকে মুসলমানরা নিরাপদ থাকে।' (তিরমিজি : ২৬২৭)।

ইসলাম মিথ্যাকে কখনোই প্রশ্রয় দেয় না। মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার মানুষ তো বটেই, আসমানের ফেরেশতারাও ঘৃণা করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'মানুষ যখন মিথ্যা কথা বলে, তখন মিথ্যার দুর্গন্ধে ফেরেশতারা মিথ্যাবাদী থেকে এক মাইল দূরে চলে যায়।' (তিরমিজি : ১৯৭২)। তাই সবসময় সত্য কথা বলা জরুরি।

কথা বলার সময় প্রতিটি শব্দ ভেবেচিন্তে বলা উচিত। দুনিয়া ও আখেরাতের কোনো ফায়দা নেই—এমন কথা বলা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, 'যে কথাই মানুষ উচ্চারণ করে (তা সংরক্ষণের জন্য) তার কাছে একজন সদাতৎপর প্রহরী আছে।' (সুরা কাফ : ১৮)।

তাড়াহুড়া না করে ধীরে ধীরে কথা বলা উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমনভাবে কথা বলতেন যে, কেউ চাইলে তা গণনা করতে পারত। আয়েশা (রা.) এ বিষয়ে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুল (সা.)-এর কথা বলার গতি ছিল পরিমিত (মুসলিম : ৭৩৯৯)। এছাড়া কথা বলার সময় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা আবশ্যক। কোরআনে বলা হয়েছে, 'তোমার বলার ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো, তোমার আওয়াজ নিচু করো; নিশ্চয়ই সবচেয়ে নিকৃষ্ট আওয়াজ হলো গাধার আওয়াজ।' (সুরা লুকমান : ১৯)।

মানুষের সঙ্গে উত্তম পন্থায় কথা বলা ইসলামের সৌন্দর্য। আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, 'আর তোমরা লোকের সঙ্গে উত্তমভাবে কথা বলবে।' (সুরা বাকারা : ৮৩)। এছাড়া নবীর আওয়াজের ওপর নিজেদের আওয়াজ উঁচু না করার বিষয়েও পবিত্র কোরআনে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে (সুরা হুজুরাত : ২-৩)।

ইসলামের দাওয়াতের ক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কথা বলার কোনো বিকল্প নেই। আল্লাহতায়ালা বলেন, 'তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং সুন্দরতম পন্থায় তাদের সঙ্গে বিতর্ক করো।' (সুরা নাহল : ১২৫)। মন্দ কথার প্রতিবাদ করতে হবে ভালো কাজের মাধ্যমে। আল্লাহতায়ালা বলেন, 'মন্দকে প্রতিহত করো, তা দ্বারা যা উৎকৃষ্টতর।' (সুরা হামিম আস-সাজদা : ৩৪)। এছাড়া অজ্ঞ বা মূর্খ লোকদের সঙ্গে তর্কে না জড়িয়ে সালাম দিয়ে সরে আসাই মুমিনের গুণ (সুরা ফুরকান : ৬৩)।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh