তদন্ত শুরুর ঘোষণায় পদত্যাগ করলেন কেমব্রিজ অধ্যাপক জেসন আর্ডে

- আপডেট সময় : ০২:৩৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেসন আর্ডে তার বিরুদ্ধে ওঠা মেধাস্বত্ব চুরি (প্লেজিয়ারিজম) ও একাডেমিক যোগ্যতা সংক্রান্ত অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৩ সালে কেমব্রিজের সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় এসেছিলেন।
জেসন আর্ডের পিএইচডি গবেষণাপত্রের বিভিন্ন অংশে প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার একাডেমিক যোগ্যতা ও সম্মানসূচক নিয়োগের তথ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় গত বুধবার জানায়, নতুন তথ্যের ভিত্তিতে তার একাডেমিক যোগ্যতা ও সম্মানসূচক নিয়োগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া একাডেমিক অসদাচরণের আরও কয়েকটি অভিযোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা নীতিমালা অনুযায়ী পর্যালোচনা চলছে। পাশাপাশি জেসাস কলেজও তাদের নিজস্ব তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের নতুন তথ্যের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে অনলাইনে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন জেসন আর্ডে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ ছিল পদত্যাগ করা। তবে তার এই সিদ্ধান্তকে যেন অভিযোগের স্বীকৃতি বা দায় স্বীকার হিসেবে বিবেচনা না করা হয়, সে দাবিও করেছেন তিনি। চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘এটি এমন একজন মানুষের সিদ্ধান্ত, যিনি এতটাই কষ্ট সহ্য করেছেন যে এর বেশি আর সহ্য করা সম্ভব নয়।’ কেমব্রিজের ‘সোসিওলজি অব এডুকেশন’-এর অধ্যাপক পদের পাশাপাশি জেসাস কলেজের ফেলো পদ থেকেও তিনি ইস্তফা দিয়েছেন।
এর আগে গত জুনে অবশ্য কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জেসন আর্ডের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তখন তারা জানিয়েছিল, তার থিসিস ও গবেষণাপত্রে প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জার্নাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষে খারিজ করে দিয়েছে। তাই এগুলোকে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়। তবে সম্প্রতি মার্কিন গবেষক নাথান কফনাস অভিযোগ তোলেন যে, আর্ডের পিএইচডি থিসিসের একাধিক অংশ অন্য গবেষণা থেকে হুবহু নকল করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্ণবাদ সংক্রান্ত অভিযোগের জেরে ২০২৪ সালে কফনাসের সঙ্গে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণামূলক সম্পৃক্ততার অবসান ঘটেছিল।
জেসন আর্ডের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অতীতে তিনি দাবি করেছিলেন যে, ৩৫ দিনে ৩০টি ম্যারাথন সম্পন্ন করে দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। এখন এই দাবির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত শনিবার ‘দ্য টাইমস’ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্ডে স্বীকার করেন যে, তার একাডেমিক জীবনে কিছু ভুলত্রুটি হয়েছিল। তবে তার দাবি, তাকে অন্যায়ভাবে মিথ্যাবাদী, কাল্পনিক চরিত্র এবং একাডেমিক প্রতারক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে এবং এর পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য কাজ করছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনের শিক্ষাঙ্গন ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। ডানপন্থী গণমাধ্যমগুলো তাকে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি (ডিইআই) নীতির প্রতীক হিসেবে আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করছে। অন্যদিকে, আর্ডের সমর্থনে এবং প্রভাবশালী কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষাবিদদের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদ জানিয়ে একটি খোলা চিঠিতে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন, যার মধ্যে কেমব্রিজের শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষাবিদরাও রয়েছেন। প্রকাশনা সংস্থা সাইমন অ্যান্ড শুস্টার জানিয়েছে, চলতি মাসেই আর্ডের স্মৃতিকথা ‘গ্রেট অ্যান্ড আনফরচুনেট থিংস’ প্রকাশিত হবে এবং এই বইটিতে কোনো প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ নেই।
অটিজমে আক্রান্ত জেসন আর্ডের জীবনসংগ্রাম বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল। তিনি ১১ বছর বয়স পর্যন্ত কথা বলতে পারতেন না এবং ১৮ বছর বয়সে পড়তে ও লিখতে শেখেন। এরপর মাত্র ৩৭ বছর বয়সে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হন। নিজের বিবৃতির শেষ অংশে আর্ডে প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘এটাই আমার কাজের শেষ নয়। এখন সুস্থ হয়ে ওঠা এবং নিজের মধ্যে ফিরে আসার জন্য আমার কিছু সময়ের প্রয়োজন। আমি আবারও ফিরে আসব।’




























