ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগ: পুলিশ প্রশাসনে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা গ্যালাপাগোসে নতুন প্রজাতির নীল অক্টোপাস শনাক্ত তদন্ত শুরুর ঘোষণায় পদত্যাগ করলেন কেমব্রিজ অধ্যাপক জেসন আর্ডে বেনাপোলে ২২ লাখ টাকার স্বর্ণসহ পাসপোর্টধারী আটক ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যাচেষ্টা মামলায় মডেল মিষ্টি সুবাস গ্রেপ্তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা ইসিতে পাঠাল সংসদ সচিবালয় সদস্যদের ৪ কোটি টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি যুবধারা চেয়ারম্যানের আওয়ামী লীগের বিচার হওয়া উচিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল আংশিক চালু, গ্রিডে ফিরল গ্যাস সরবরাহ

গ্যালাপাগোসে নতুন প্রজাতির নীল অক্টোপাস শনাক্ত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৮:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

প্রশান্ত মহাসাগরের গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের গভীর সমুদ্রে বিজ্ঞানীদের একটি দল নতুন প্রজাতির একটি নীল অক্টোপাসের সন্ধান পেয়েছে। ‘মাইক্রোইলেডোনে গ্যালাপাগেনসিস’ নামের এই অক্টোপাসটি আকারে এতই ছোট যে এটি অনায়াসেই মানুষের হাতের তালুতে রাখা সম্ভব। আন্তর্জাতিক প্রাণিবিজ্ঞান সাময়িকী জুটাক্সা-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এই নতুন প্রজাতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এই গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের চার্লস ডারউইন ফাউন্ডেশন, গ্যালাপাগোস ন্যাশনাল পার্ক ডিরেক্টরেট, শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়াম, ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা যৌথভাবে কাজ করেছেন।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে গবেষণা জাহাজ ই/ভি নটিলাসের গভীর সমুদ্র অভিযানের সময় প্রথমবারের মতো এই অক্টোপাসটির দেখা মেলে। দূরনিয়ন্ত্রিত পানির নিচের রোবট যান ব্যবহার করে ডারউইন দ্বীপের কাছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৮০০ ফুট বা প্রায় ১ হাজার ৭৭৩ মিটার গভীরে এটি শনাক্ত করা হয়। সমুদ্রতলের ভিডিও পর্যবেক্ষণের সময় উজ্জ্বল নীল রঙের ছোট এই অক্টোপাসটি গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ওই অভিযানে একই ধরনের আরও দুটি অক্টোপাসের ভিডিও ধারণ করা সম্ভব হলেও গবেষণার জন্য মাত্র একটি নমুনা সংগ্রহ করা গিয়েছিল।

শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ামের অমেরুদণ্ডী প্রাণিবিষয়ক কিউরেটর এমেরিটাস এবং গবেষণার প্রধান লেখক জ্যানেট ভয়েট জানান, নমুনাটি দেখেই তিনি এর ব্যতিক্রমধর্মী বৈশিষ্ট্য বুঝতে পেরেছিলেন। চার দশকের কর্মজীবনে তিনি এমন অক্টোপাস আগে কখনো দেখেননি। সাধারণত অক্টোপাসের নতুন প্রজাতি শনাক্ত করতে এর মুখ, ঠোঁট ও দাঁতসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ পরীক্ষা করতে হয়। তবে হাতে থাকা একমাত্র নমুনাটি অক্ষত রাখতে গবেষকরা আধুনিক সিটি স্ক্যান প্রযুক্তির সহায়তা নেন। এর মাধ্যমে প্রাণীটির শরীর না কেটেই ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ত্রিমাত্রিক বা ৩ডি চিত্র পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

ফিল্ড মিউজিয়ামের সিটি স্ক্যান গবেষণাগারের ব্যবস্থাপক স্টেফানি স্মিথ জানান, বিরল ও মূল্যবান নমুনার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর। জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আলেকজান্ডার জিগলার বলেন, সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে পাওয়া অভ্যন্তরীণ অঙ্গের সূক্ষ্ম গঠন বিশ্লেষণ করেই এটিকে নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয় তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গবেষণার সহলেখক ও চার্লস ডারউইন ফাউন্ডেশনের সাবেক গবেষক ড. সালোমে বাগলাস বলেন, অভিযানে সংগৃহীত অসংখ্য সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যে এই নীল অক্টোপাসটি গবেষকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল। তিনি আরও বলেন, গ্যালাপাগোসের গভীর সমুদ্রের বিশাল অংশ এখনো অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে এবং প্রতিটি নতুন প্রজাতির আবিষ্কার সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন ধারণা দেয়। গ্যালাপাগোস ন্যাশনাল পার্কের পরিচালক লোরেনা সানচেজ উল্লেখ করেন যে, গ্যালাপাগোস মেরিন রিজার্ভে এখনো অনেক অজানা প্রাণী ও বাস্তুতন্ত্র রয়েছে, যা এই আবিষ্কারের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই নতুন আবিষ্কার প্রমাণ করে যে পৃথিবীর গভীর সমুদ্রে এখনো অসংখ্য অজানা প্রাণী মানুষের অনুসন্ধানের অপেক্ষায় রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

গ্যালাপাগোসে নতুন প্রজাতির নীল অক্টোপাস শনাক্ত

আপডেট সময় : ০২:৩৮:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
print news

প্রশান্ত মহাসাগরের গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের গভীর সমুদ্রে বিজ্ঞানীদের একটি দল নতুন প্রজাতির একটি নীল অক্টোপাসের সন্ধান পেয়েছে। ‘মাইক্রোইলেডোনে গ্যালাপাগেনসিস’ নামের এই অক্টোপাসটি আকারে এতই ছোট যে এটি অনায়াসেই মানুষের হাতের তালুতে রাখা সম্ভব। আন্তর্জাতিক প্রাণিবিজ্ঞান সাময়িকী জুটাক্সা-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এই নতুন প্রজাতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এই গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের চার্লস ডারউইন ফাউন্ডেশন, গ্যালাপাগোস ন্যাশনাল পার্ক ডিরেক্টরেট, শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়াম, ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা যৌথভাবে কাজ করেছেন।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে গবেষণা জাহাজ ই/ভি নটিলাসের গভীর সমুদ্র অভিযানের সময় প্রথমবারের মতো এই অক্টোপাসটির দেখা মেলে। দূরনিয়ন্ত্রিত পানির নিচের রোবট যান ব্যবহার করে ডারউইন দ্বীপের কাছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৮০০ ফুট বা প্রায় ১ হাজার ৭৭৩ মিটার গভীরে এটি শনাক্ত করা হয়। সমুদ্রতলের ভিডিও পর্যবেক্ষণের সময় উজ্জ্বল নীল রঙের ছোট এই অক্টোপাসটি গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ওই অভিযানে একই ধরনের আরও দুটি অক্টোপাসের ভিডিও ধারণ করা সম্ভব হলেও গবেষণার জন্য মাত্র একটি নমুনা সংগ্রহ করা গিয়েছিল।

শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ামের অমেরুদণ্ডী প্রাণিবিষয়ক কিউরেটর এমেরিটাস এবং গবেষণার প্রধান লেখক জ্যানেট ভয়েট জানান, নমুনাটি দেখেই তিনি এর ব্যতিক্রমধর্মী বৈশিষ্ট্য বুঝতে পেরেছিলেন। চার দশকের কর্মজীবনে তিনি এমন অক্টোপাস আগে কখনো দেখেননি। সাধারণত অক্টোপাসের নতুন প্রজাতি শনাক্ত করতে এর মুখ, ঠোঁট ও দাঁতসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ পরীক্ষা করতে হয়। তবে হাতে থাকা একমাত্র নমুনাটি অক্ষত রাখতে গবেষকরা আধুনিক সিটি স্ক্যান প্রযুক্তির সহায়তা নেন। এর মাধ্যমে প্রাণীটির শরীর না কেটেই ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ত্রিমাত্রিক বা ৩ডি চিত্র পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

ফিল্ড মিউজিয়ামের সিটি স্ক্যান গবেষণাগারের ব্যবস্থাপক স্টেফানি স্মিথ জানান, বিরল ও মূল্যবান নমুনার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর। জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আলেকজান্ডার জিগলার বলেন, সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে পাওয়া অভ্যন্তরীণ অঙ্গের সূক্ষ্ম গঠন বিশ্লেষণ করেই এটিকে নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয় তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গবেষণার সহলেখক ও চার্লস ডারউইন ফাউন্ডেশনের সাবেক গবেষক ড. সালোমে বাগলাস বলেন, অভিযানে সংগৃহীত অসংখ্য সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যে এই নীল অক্টোপাসটি গবেষকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল। তিনি আরও বলেন, গ্যালাপাগোসের গভীর সমুদ্রের বিশাল অংশ এখনো অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে এবং প্রতিটি নতুন প্রজাতির আবিষ্কার সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন ধারণা দেয়। গ্যালাপাগোস ন্যাশনাল পার্কের পরিচালক লোরেনা সানচেজ উল্লেখ করেন যে, গ্যালাপাগোস মেরিন রিজার্ভে এখনো অনেক অজানা প্রাণী ও বাস্তুতন্ত্র রয়েছে, যা এই আবিষ্কারের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই নতুন আবিষ্কার প্রমাণ করে যে পৃথিবীর গভীর সমুদ্রে এখনো অসংখ্য অজানা প্রাণী মানুষের অনুসন্ধানের অপেক্ষায় রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh