যশোরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ওপর হামলা, পাঁচ দিনেও অধরা আসামিরা
- আপডেট সময় : ০১:৪৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

যশোরে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের প্রস্তুতি নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. আলী মনির ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ২ অক্টোবর শুক্রবার রাতে শহরের নওদাগ্রাম বিশ্বাসবাড়ি মোড়ে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। মাথায় গুরুতর জখম নিয়ে বর্তমানে তিনি যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর আলী মনি একই এলাকার মো. তুষারকে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়ে নিষেধ করেছিলেন। এতে তুষারসহ কয়েকজন ক্ষুব্ধ হয়ে আলী মনিকে মারধর ও হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ঘটনার দিন রাতে আলী মনি আরএন রোডের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নগদ ২ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে ইজিবাইকে করে শহরের পালবাড়ির তেঁতুলতলা এলাকায় নামেন। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে নওদাগ্রাম বিশ্বাসবাড়ি মোড়ে পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার জেরে মো. তুষার (৩৫), রিয়াদ মিন্টু গাজী (৩৪), রাজন (২২), সাইফুল ইসলাম (৩৮), হারুন (৫০) ও আবু সালাম মেম্বর (৪৬) সহ ৫-৬ জন মোটরসাইকেলে এসে তাকে ঘিরে ফেলে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা লোহার রড, জিআই পাইপ ও ধারালো দা দিয়ে আলী মনির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মো. তুষার ধারালো দা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এছাড়া আলী মনির কাছে থাকা নগদ ২ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকাও আসামিরা ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের ফেলে যাওয়া একটি পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করেছে।
ঘটনার পরদিন ৩ অক্টোবর ৪নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে হামলার প্রতিবাদে একটি মিছিল বের করা হয়, যেখানে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমীর ফয়সাল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে যশোরের পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দায়ীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং পুলিশ দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।





























