ঢাকা ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাশ্মীরে ৩০০ ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু নীল পোশাকে জয়া আহসানের নতুন ছবিতে মুগ্ধ নেটিজেনরা মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গড়তে নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান সিরাজগঞ্জে খাজা মোজাম্মেল হক ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পেল ৮৫২ শিক্ষার্থী সিরাজগঞ্জে ৮৫২ মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও সম্মাননা প্রদান বৈভবকে নিয়ে তাড়াহুড়ো নয়, সতর্কবার্তা দিলেন কপিল দেব শাহজালালে যাত্রীর পায়ুপথ থেকে ১২৯০ গ্রাম স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার আবরারের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল রূপপুরের প্রথম ইউনিট বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

নারায়ণগঞ্জ বারে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের হাতাহাতি: সাখাওয়াত লাঞ্ছিত, আহত কয়েকজন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:২১:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির (বার) ভবনে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে সংঘটিত এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান লাঞ্ছিত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এই ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আইনজীবী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল কালাম আজাদ জাকির এবং অতিরিক্ত পিপি ওমর ফারুক নয়ন রয়েছেন। তারা স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা জানান, আসন্ন জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে আগে থেকেই দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধান এবং পিপি আবুল কালাম আজাদ জাকির। অন্য পক্ষের নেতৃত্বে আছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবির।

মঙ্গলবার বিকেলে সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাশের কক্ষে দুই পক্ষের আইনজীবীরা খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় আসন্ন নির্বাচন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপির দায়িত্ব গ্রহণ এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে তর্ক-বিতর্কে রূপ নেয়। এই তর্ক-বিতর্কই পরবর্তীতে হাতাহাতিতে গড়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের কিল-ঘুষি দিতে দেখা যায়। এ সময় সাখাওয়াত হোসেনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে তার দেহরক্ষী পুলিশ সদস্যকে চেষ্টা করতে দেখা যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ এই বিষয়ে বলেন, আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাক্‌বিতণ্ডা হয়েছিল। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধান অভিযোগ করেন, সাখাওয়াত হোসেন ও তার অনুসারীরা তাদের দিকে তেড়ে এসে হামলা চালান এবং অতিরিক্ত পিপি ওমর ফারুক নয়নকে মারধর করেন। এর প্রতিবাদে তারা সাখাওয়াতসহ তার পক্ষের আইনজীবীদের এক ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে, সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ূন কবির দাবি করেন, তারা সাখাওয়াত হোসেনসহ অন্যদের নিয়ে তার কক্ষে খাওয়া-দাওয়া করছিলেন। পাশের কক্ষ থেকে উসকানিমূলক শব্দ করাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জ বারে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের হাতাহাতি: সাখাওয়াত লাঞ্ছিত, আহত কয়েকজন

আপডেট সময় : ০১:২১:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির (বার) ভবনে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে সংঘটিত এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান লাঞ্ছিত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এই ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আইনজীবী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল কালাম আজাদ জাকির এবং অতিরিক্ত পিপি ওমর ফারুক নয়ন রয়েছেন। তারা স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা জানান, আসন্ন জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে আগে থেকেই দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধান এবং পিপি আবুল কালাম আজাদ জাকির। অন্য পক্ষের নেতৃত্বে আছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবির।

মঙ্গলবার বিকেলে সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাশের কক্ষে দুই পক্ষের আইনজীবীরা খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় আসন্ন নির্বাচন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপির দায়িত্ব গ্রহণ এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে তর্ক-বিতর্কে রূপ নেয়। এই তর্ক-বিতর্কই পরবর্তীতে হাতাহাতিতে গড়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের কিল-ঘুষি দিতে দেখা যায়। এ সময় সাখাওয়াত হোসেনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে তার দেহরক্ষী পুলিশ সদস্যকে চেষ্টা করতে দেখা যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ এই বিষয়ে বলেন, আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাক্‌বিতণ্ডা হয়েছিল। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধান অভিযোগ করেন, সাখাওয়াত হোসেন ও তার অনুসারীরা তাদের দিকে তেড়ে এসে হামলা চালান এবং অতিরিক্ত পিপি ওমর ফারুক নয়নকে মারধর করেন। এর প্রতিবাদে তারা সাখাওয়াতসহ তার পক্ষের আইনজীবীদের এক ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে, সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ূন কবির দাবি করেন, তারা সাখাওয়াত হোসেনসহ অন্যদের নিয়ে তার কক্ষে খাওয়া-দাওয়া করছিলেন। পাশের কক্ষ থেকে উসকানিমূলক শব্দ করাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin