কাশ্মীরে ৩০০ ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু
- আপডেট সময় : ১২:১১:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পর এবার কথিত অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রথম ধাপে প্রায় ৩০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাশ্মীর উপত্যকা ও জম্মু অঞ্চলে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিবিসি নিউজ উর্দুর এক প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, গত মে মাসে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনকে প্রায় ৬০০ ‘অবৈধ অভিবাসী’র উপস্থিতির কথা জানায়। তারা কয়েক বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন বলে জানানো হয়। ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, বহু বছর ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে জম্মুতে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা মুসলিমরা বসবাস করে আসছেন। তাদের অনেকে বৈধ ভিসা ছাড়াই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, গত সোম ও মঙ্গলবার দুই দফায় প্রায় ৩০০ বাংলাদেশিকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই অভিযানকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, ভারত ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষর না করায় রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থীর মর্যাদা দেয় না। এর আগে ২০১৭ সালেও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে রোহিঙ্গাদের আটক ও ফেরত পাঠানো হয়েছিল।
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এবং তাদের সমর্থকদের দাবি, এই অবৈধ অভিবাসীদের কারণে স্থানীয় সম্পদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে এবং জম্মু অঞ্চলের মানুষের জীবিকার সুযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া পরিচয়পত্রহীন এসব ব্যক্তিকে অপরাধ বা চরমপন্থি কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হতে পারে বলেও নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করেছে প্রশাসন।
তবে মানবাধিকারকর্মীরা প্রশাসনের এসব যুক্তি মানতে নারাজ। সাংবাদিক ও বিশ্লেষক হারুন রেশি এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতির কথা উল্লেখ করেন। এই নীতি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো যায় না যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তিনি জানান, এই অভিবাসীদের অনেকে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছেন এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্যানিটেশনের মতো মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। হারুন রেশি আরও মনে করিয়ে দেন, ভারত জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষর না করলেও দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন সময়ে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বিদেশিদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার ওপর জোর দিয়েছে।




























